ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। তীব্র গরমে নবজাতকের অস্বস্তি দেখে ঘরে এসি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতো অনেকেই এখন এসিকে বিলাসের চেয়ে প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন। ফরিদুল আলম নামের একজন জানান, এক যুগ ধরে ভাড়া বাসায় থাকলেও এবারের গরমে তিনি এসি লাগাতে বাধ্য হয়েছেন। অফিসে এসি আছে। কাজ শেষে বাসায় ফিরলে গরমে অস্বস্তি লাগত। এতে দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব পড়ত। এসি বসানোর পর তিনি এখন বাড়িতেও স্বস্তি পাচ্ছেন। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে একসময় এসি কেবল বিত্তবানদের নাগালে ছিল। তবে এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে। চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কিস্তিতে হলেও এসি কিনছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী দেড় টনের এসিগুলোর চাহিদা এখন তুঙ্গে। মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে দেশি-বিদেশি কম্পানিগুলো নানা সুবিধাসংবলিত এসি বাজারে আনছে। বিক্রেতারা বলছেন, এখন মূলত মধ্যবিত্তরাই এসির ক্রেতা। ১২ থেকে ২৪ মাসের কিস্তি সুবিধা থাকায় এসি কেনাও সহজ হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান, আগ্রাবাদ, চকবাজার, নিউমার্কেটসহ কয়েকটি এলাকার ইলেকট্রনিক মার্কেট ঘুরে জানা যায়, গরম বাড়লে এসির বিক্রিও বাড়ে। গরম বেড়ে গেলে অনেক ক্রেতা এসি কিনতে আসেন। বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী দেড় টন ক্ষমতার এসি। ব্র্যান্ডভেদে দেড় টন ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। আর এক টনের ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি পাওয়া যাবে ৪০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। এসি কেনায় কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ আছে। একসময় হিটাচি ও ডাইকিনের দেড় টনের এসির দাম ছিল এক লাখ টাকার মধ্যে। আর এখন বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকার বেশি দামে।
দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটনের দাম তুলনামূলক কম। সার্ভিস সেন্টারগুলোর মাধ্যমে ভালো বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইনভার্টার এবং নন-ইনভার্টার দুটি মডেলই পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালটনে। কম্পানিটি এক থেকে দেড় টন এসির দাম রাখছে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। তাদের এসিতে এআই-বেইসড প্রযুক্তি, ভয়েস কন্ট্রোল (বাংলা ও ইংরেজি), স্মার্ট ডায়াগনোসিস, ১০০ শতাংশ কপার কন্ডেন্সার রয়েছে।
ওয়ালটনের পরে বিক্রি বেশি হচ্ছে গ্রি কম্পানির এসি। এক থেকে দেড় টন এসির দাম পড়ছে ৩৬ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। এক থেকে দেড় টনের সিঙ্গার এসির দাম পড়ছে ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা।




