গরমে এসি বিক্রি কেমন বেড়েছে? ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
গত বছরের তুলনায় এ বছর এসি বিক্রি গড়পড়তা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সারা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও ভোক্তা আস্থার দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া এ বছরের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়াও অনেকটা অনিয়মিত, যার কারণে এসির মৌসুমি চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। ঈদ ঘিরে বাজারে যে ভোক্তা গমন থাকে, সেটিও এ বছর চোখে পড়ার মতো নয়।
কত টনের এসির চাহিদা বেশি? আপনাদের নতুন এসিতে গুণগতমানে কী পরিবর্তন এসেছে?
বাংলাদেশের এসি বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সব সময়ই ১.৫ টন ইনভার্টার এসির। ইনভার্টার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ। এ বছর বেস্ট ইলেকট্রনিকসের নিজস্ব ব্র্যান্ড Conion থেকে বাজারে এসেছে ‘NanoeSeries’ নামের এক নতুন প্রযুক্তির এসি, এটি ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
আমরা প্যানাসনিকের নতুন MirAIe Wifi Inverter এসি সিরিজও যুক্ত করেছি, যা ওয়াই-ফাই নিয়ন্ত্রিত। ফলে আপনি ঘরে না থাকলেও স্মার্টফোন ব্যবহার করে এসি চালু বা বন্ধ, টেম্পারেচার নিয়ন্ত্রণসহ যাবতীয় সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এই এসিগুলোতে অটো রিস্টার্ট, স্মার্ট টাইমার এবং এআই কমপোর্ট মুড আছে, যা ব্যবহারকারীর অভ্যাস অনুযায়ী ঠাণ্ডার মাত্রা নিজে থেকে সামঞ্জস্য করে নেয়।
দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের এসিগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য কী? ক্রেতারা কোন ধরনের এসির ওপর বেশি আস্থা রাখেন?
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য আসে গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ইনোভেশন ও আরঅ্যান্ডডিতে বেশি বিনিয়োগ করে, যার ফলে তাদের ফিচার ও পারফরম্যান্স কিছুটা এগিয়ে থাকে। তবে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন অনেক প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি ও সেবায় এগোচ্ছে। ক্রেতারা সাধারণত এমন ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রাখেন, যারা দীর্ঘমেয়াদে বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করে এবং যাদের এসির খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য।
আপনাদের এসির বিশেষত্ব কী? অন্যদের তুলনায় আপনাদের এসির মূল পার্থক্য কী?
বেস্ট ইলেকট্রনিকস শুধু একক ব্র্যান্ড নয়, আমরা Panasonic, Whirlpool, Conion, Hyundai, Hisense, Sharp সহ বিশ্বমানের একাধিক ব্র্যান্ডের এসি এক প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের ৭০টিরও বেশি শোরুম রয়েছে সারা দেশে। যেখানে প্রতিটি এসি ব্র্যান্ড দক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে ক্রেতা তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী মান, দাম এবং ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন এক জায়গা থেকেই।
এসি কেনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন?
বর্তমানে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ইনভার্টার এসিতে, কারণ এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। আরেকটি নতুন চাহিদা হচ্ছে ওয়াইফাই নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট এসি, যাতে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকে, বিশেষ করে বড় শহর বা মাল্টিফ্লোর অ্যাপার্টমেন্টে এটি বেশ কার্যকর। ক্রেতাদের উচিত ইনভার্টার প্রযুক্তি, বিটিইউ রেটিং, ইনার/আউটডোর ইউনিটের গুণমান, বিক্রয়োত্তর সেবা ও খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা যাচাই করে এসি ক্রয় করা।
বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে আপনারা গড়ে কত দিন সময় নেন?
আমাদের প্রতিটি ইনভার্টার এসি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। Conion, Panasonic I Whirlpool-এর এসিগুলোর এনার্জি রেটিং ফাইভ স্টার পর্যায়ের। সারা দেশে আমাদের ২০০টির বেশি সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করি ঢাকার ভেতরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে তিন কর্মদিবসে গ্রাহকদের সেবা দিতে। আমাদের নিজস্ব কলসেন্টার সার্বক্ষণিক সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত।
নতুন বাজেটে এসির ওপর শুল্ক, ভ্যাট বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। আপনাদের প্রত্যাশা কী?
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই বাস্তবভিত্তিক। বাজেটে যদি এসির ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ে, তাহলে সাধারণ গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে—দেশব্যাপী অসংখ্য ছোট ডিলার শপ অবৈধ উপায়ে এসি বিক্রি করছে, যারা কোনো ভ্যাট দিচ্ছে না বা ভ্যাট রিটার্নও জমা দিচ্ছে না। এতে বাজারের মূল্যনীতি ভেঙে যাচ্ছে। সরকার ভ্যাট রিবেটের সুবিধা দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর সফল বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট আদায়, ডিজিটাল চালান ও নজরদারি আরো জোরদার করা জরুরি। না হলে শুধু কাগজে নীতিমালা রেখে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।



