• ই-পেপার

কমার্শিয়াল এসি উৎপাদনে প্রথম দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন

বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসির চাহিদা বেশি

মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, চট্টগ্রাম
বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসির চাহিদা বেশি

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। তীব্র গরমে নবজাতকের অস্বস্তি দেখে ঘরে এসি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতো অনেকেই এখন এসিকে বিলাসের চেয়ে প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন। ফরিদুল আলম নামের একজন জানান, এক যুগ ধরে ভাড়া বাসায় থাকলেও এবারের গরমে তিনি এসি লাগাতে বাধ্য হয়েছেন। অফিসে এসি আছে। কাজ শেষে বাসায় ফিরলে গরমে অস্বস্তি লাগত। এতে দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব পড়ত। এসি বসানোর পর তিনি এখন বাড়িতেও স্বস্তি পাচ্ছেন। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে একসময় এসি কেবল বিত্তবানদের নাগালে ছিল। তবে এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে। চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কিস্তিতে হলেও এসি কিনছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী দেড় টনের এসিগুলোর চাহিদা এখন তুঙ্গে। মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে দেশি-বিদেশি কম্পানিগুলো নানা সুবিধাসংবলিত এসি বাজারে আনছে। বিক্রেতারা বলছেন, এখন মূলত মধ্যবিত্তরাই এসির ক্রেতা। ১২ থেকে ২৪ মাসের কিস্তি সুবিধা থাকায় এসি কেনাও সহজ হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান, আগ্রাবাদ, চকবাজার, নিউমার্কেটসহ কয়েকটি এলাকার ইলেকট্রনিক মার্কেট ঘুরে জানা যায়, গরম বাড়লে এসির বিক্রিও বাড়ে। গরম বেড়ে গেলে অনেক ক্রেতা এসি কিনতে আসেন। বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী দেড় টন ক্ষমতার এসি। ব্র্যান্ডভেদে দেড় টন ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। আর এক টনের ইনভার্টার অথবা নন-ইনভার্টার এসি পাওয়া যাবে ৪০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। এসি কেনায় কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ আছে। একসময় হিটাচি ও ডাইকিনের দেড় টনের এসির দাম ছিল এক লাখ টাকার মধ্যে। আর এখন বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকার বেশি দামে।

দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটনের দাম তুলনামূলক কম। সার্ভিস সেন্টারগুলোর মাধ্যমে ভালো বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইনভার্টার এবং নন-ইনভার্টার দুটি মডেলই পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালটনে। কম্পানিটি এক থেকে দেড় টন এসির দাম রাখছে ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। তাদের এসিতে এআই-বেইসড প্রযুক্তি, ভয়েস কন্ট্রোল (বাংলা ও ইংরেজি), স্মার্ট ডায়াগনোসিস, ১০০ শতাংশ কপার কন্ডেন্সার রয়েছে।

ওয়ালটনের পরে বিক্রি বেশি হচ্ছে গ্রি কম্পানির এসি। এক থেকে দেড় টন এসির দাম পড়ছে ৩৬ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। এক থেকে দেড় টনের সিঙ্গার এসির দাম পড়ছে ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা।

এসিতে ভ্যাট বাড়লে বিরূপ প্রভাব পড়বে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতায়

বিশ্বমানের একাধিক ব্র্যান্ডের এসি এক প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বেস্ট ইলেকট্রনিকস। এসির বাজার ও ঈদ ঘিরে বিক্রি নিয়ে কথা বলেন বেস্ট ইলেকট্রনিকসের এমডি ও সিইও সৈয়দ তাহমিদ জামান রাশিক

এসিতে ভ্যাট বাড়লে বিরূপ প্রভাব পড়বে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতায়

গরমে এসি বিক্রি কেমন বেড়েছে? ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

গত বছরের তুলনায় এ বছর এসি বিক্রি গড়পড়তা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। সারা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও ভোক্তা আস্থার দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া এ বছরের গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়াও অনেকটা অনিয়মিত, যার কারণে এসির মৌসুমি চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। ঈদ ঘিরে বাজারে যে ভোক্তা গমন থাকে, সেটিও এ বছর চোখে পড়ার মতো নয়।

কত টনের এসির চাহিদা বেশি? আপনাদের নতুন এসিতে গুণগতমানে কী পরিবর্তন এসেছে?

বাংলাদেশের এসি বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সব সময়ই ১.৫ টন ইনভার্টার এসির। ইনভার্টার প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ। এ বছর বেস্ট ইলেকট্রনিকসের নিজস্ব ব্র্যান্ড Conion থেকে বাজারে এসেছে ‘NanoeSeries’ নামের এক নতুন প্রযুক্তির এসি, এটি ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

আমরা প্যানাসনিকের নতুন MirAIe Wifi Inverter এসি সিরিজও যুক্ত করেছি, যা ওয়াই-ফাই নিয়ন্ত্রিত। ফলে আপনি ঘরে না থাকলেও স্মার্টফোন ব্যবহার করে এসি চালু বা বন্ধ, টেম্পারেচার নিয়ন্ত্রণসহ যাবতীয় সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এই এসিগুলোতে অটো রিস্টার্ট, স্মার্ট টাইমার এবং এআই কমপোর্ট মুড আছে, যা ব্যবহারকারীর অভ্যাস অনুযায়ী ঠাণ্ডার মাত্রা নিজে থেকে সামঞ্জস্য করে নেয়।

দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের এসিগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য কী? ক্রেতারা কোন ধরনের এসির ওপর বেশি আস্থা রাখেন?

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য আসে গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ইনোভেশন ও আরঅ্যান্ডডিতে বেশি বিনিয়োগ করে, যার ফলে তাদের ফিচার ও পারফরম্যান্স কিছুটা এগিয়ে থাকে। তবে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন অনেক প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি ও সেবায় এগোচ্ছে। ক্রেতারা সাধারণত এমন ব্র্যান্ডের ওপর আস্থা রাখেন, যারা দীর্ঘমেয়াদে বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করে এবং যাদের এসির খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য।

আপনাদের এসির বিশেষত্ব কী? অন্যদের তুলনায় আপনাদের এসির মূল পার্থক্য কী?

বেস্ট ইলেকট্রনিকস শুধু একক ব্র্যান্ড নয়, আমরা Panasonic, Whirlpool, Conion, Hyundai, Hisense, Sharp সহ বিশ্বমানের একাধিক ব্র্যান্ডের এসি এক প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের ৭০টিরও বেশি শোরুম রয়েছে সারা দেশে। যেখানে প্রতিটি এসি ব্র্যান্ড দক্ষভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে ক্রেতা তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী মান, দাম এবং ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন এক জায়গা থেকেই।

এসি কেনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন?

বর্তমানে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ইনভার্টার এসিতে, কারণ এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। আরেকটি নতুন চাহিদা হচ্ছে ওয়াইফাই নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট এসি, যাতে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকে, বিশেষ করে বড় শহর বা মাল্টিফ্লোর অ্যাপার্টমেন্টে এটি বেশ কার্যকর। ক্রেতাদের উচিত ইনভার্টার প্রযুক্তি, বিটিইউ রেটিং, ইনার/আউটডোর ইউনিটের গুণমান, বিক্রয়োত্তর সেবা ও খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা যাচাই করে এসি ক্রয় করা।

বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে আপনারা গড়ে কত দিন সময় নেন?

আমাদের প্রতিটি ইনভার্টার এসি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। Conion, Panasonic I Whirlpool-এর এসিগুলোর এনার্জি রেটিং ফাইভ স্টার পর্যায়ের। সারা দেশে আমাদের ২০০টির বেশি সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করি ঢাকার ভেতরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে তিন কর্মদিবসে গ্রাহকদের সেবা দিতে। আমাদের নিজস্ব কলসেন্টার সার্বক্ষণিক সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত।

নতুন বাজেটে এসির ওপর শুল্ক, ভ্যাট বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। আপনাদের প্রত্যাশা কী?

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই বাস্তবভিত্তিক। বাজেটে যদি এসির ওপর ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ে, তাহলে সাধারণ গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছেদেশব্যাপী অসংখ্য ছোট ডিলার শপ অবৈধ উপায়ে এসি বিক্রি করছে, যারা কোনো ভ্যাট দিচ্ছে না বা ভ্যাট রিটার্নও জমা দিচ্ছে না। এতে বাজারের মূল্যনীতি ভেঙে যাচ্ছে। সরকার ভ্যাট রিবেটের সুবিধা দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর সফল বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট আদায়, ডিজিটাল চালান ও নজরদারি আরো জোরদার করা জরুরি। না হলে শুধু কাগজে নীতিমালা রেখে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

৭০% বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসি প্রস্তুত করছে সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং

এসির বাজার নিয়ে কথা বলেন সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং কম্পানির এমডি এবং বাংলাদেশ এয়ারকন্ডিশনার ইকুইপমেন্ট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. লুৎফর রহমান তালুকদার

৭০% বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসি প্রস্তুত করছে সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং

এ বছর গরমে এসি বিক্রি কতটা বেড়েছে? ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং কম্পানি বাংলাদেশে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আর-২৯০ গ্যাসের এসি প্রস্তুত করছে। বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ এসির চাহিদা বেড়েছে, আনুপাতিক হারে বিক্রিও বেড়েছে। সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং কম্পানি আমদানি পর্যায়ে উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরির মতো কাস্টমস ডিউটি সুবিধা পায় না বিধায় অনেক উন্নতমানের এসি উৎপাদন করা সত্ত্বেও আনুপাতিক হারে বাজার দখল করতে পারেনি। উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরিকে আমদানি পর্যায়ে মাত্র ২২ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করতে হয়, অন্যদিকে সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের ১৫৪ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করতে হয়। উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমদানি শুল্কের পার্থক্য ১৩২ শতাংশ। এই অতিরিক্ত শুল্ক ও ভ্যাট পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করে আমাদের এসি উৎপাদন করতে হয়, যার কারণে আমাদের উৎপাদন মূল্য অনেক বেশি পড়ে যায় বিধায় অতিরিক্ত মূল্যে এসি বিক্রি করা আমাদের জন্য স্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

কত টনের এসির চাহিদা বেশি? এ বছর আপনাদের নতুন এসিতে গুণগত মান ও উদ্ভাবনের দিক থেকে কী কী পরিবর্তন এসেছে?

সাধারণত ১.৫ টন এসির চাহিদা বেশি থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক টন বা দুই টন এসির চাহিদাও থাকে। তবে অফিস বা ফ্যাক্টরিতে কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসির চাহিদাও কম নয়। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ও ইনভার্টার এসির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনার বাজারে নিয়ে এসেছে শতভাগ পরিবেশবান্ধব আর-২৯০ গ্যাসের ইনভার্টার এসি, যেটি পরিবেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

বাজারে গত বছর আপনাদের প্রবৃদ্ধি কেমন ছিল? এ বছর কেমন আশা করছেন?

এয়ারকন্ডিশনারের মার্কেট শেয়ারের প্রায় ৬ শতাংশ সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনারের দখলে। এ ছাড়া সুপ্রিম অনেক উন্নতমানের চিলার ও ভিআরএফ এয়ারকন্ডিশনারও বাজারজাত করে। প্রতিবছর আমাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ। এ বছর আমরা আরো ভালো কিছু আশা করছি।

দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের এসিগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য কী? ক্রেতারা কোন ধরনের এসির ওপর বেশি আস্থা রাখেন?

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বমানের এসি প্রস্তুত করছে। তবে সব উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরি যদি গুণগত মান ঠিক রেখে উন্নতমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে এসি প্রস্তুত করে, তবে বিদেশি ব্র্যান্ডের চেয়ে আমাদের দেশি ব্র্যান্ডের এসি উন্নতমানের হবে। বর্তমানে ক্রেতারা দেশি ব্র্যান্ডের এসি আগ্রহসহকারে ক্রয় করছেন। তবে কিছু উৎপাদনকারী অতিমুনাফার লোভে নিম্নমানের এসি প্রস্তুত করে ক্রেতার বিশ্বাস নষ্ট করছে। সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনার কম্পানি উন্নতমানের এসি প্রস্তুত করে ভোক্তার আস্থা ধরে রাখতে সচেষ্ট।

আপনাদের এসির বিশেষত্ব কী? অন্যদের তুলনায় আপনাদের এসির মূল পার্থক্য কী?

সুপ্রিম এয়ারকন্ডিশনিং কম্পানির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব এসি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও পৃথিবীর উষ্ণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা বাংলাদেশে অন্য কম্পানিগুলো চালু করেনি। এ ছাড়া সুপ্রিম পরিবেশবান্ধব আর-৩২ গ্যাসের এসিও বাজারজাত করছে, যা ভোক্তাসাধারণের মধ্যে যথেষ্ট সমাদৃত।

এসি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন?

ক্রেতারা এসি কেনার সময় কত দিন টিকবে এবং কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হবেপ্রধানত এ দুটি বিষয় নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। কেমন টেকসই হবে আর কতটুকু বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হবে এদিকে সবার নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করি।

বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে আপনারা গড়ে কত দিন সময় নেন?

আমরা আমাদের প্রস্তুতকৃত এসির ১০ বছর কম্প্রেসর গ্যারান্টি দিয়ে থাকি। তা ছাড়া তিন বছর এসির যন্ত্রাংশের গ্যারান্টি দিয়ে থাকি এবং সারা বছর স্বল্প মূল্যে যন্ত্রাংশ পাওয়ার নিশ্চয়তাসহকারে সারা দেশে আমাদের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যায়।

বাজেটে এসির ওপর শুল্ক-ভ্যাট বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

বাজেটে শুল্ক-ভ্যাট বাড়ালে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুল্ক-ভ্যাট বাড়ানোর ব্যাপারে ভারসাম্য থাকা জরুরি। দেখা যায় উৎপাদনকারীর জন্য শুল্ক ২২ শতাংশ, পক্ষান্তরে আমাদের মতো সংযোজনকারীদের জন্য ১৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৩২ শতাংশ শুল্ক ও ভ্যাটে পার্থক্য, তাহলে ব্যবসায় কোনো ভারসাম্য থাকে না। তাই এ ধরনের অনৈতিক ভারসাম্যহীন শুল্ক/ভ্যাট নীতি পরিহার করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, যাতে সবাই যার যার ব্যবসা স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন।

গরমে বেড়েছে বিক্রি

গরমে বেড়েছে বিক্রি

তীব্র গরমের কারণে দেশে এসি বিক্রি বেড়ে গেছে। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসির শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, গরমের কারণে দেশে এসি বিক্রি বেড়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এবার এসির দাম কিছুটা বেশি। এসির সক্ষমতা ভেদে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার এসির চাহিদা বেশি। বিদ্যুৎ খরচ কম হওয়ার কারণে প্রতি ১০০টি এসির মধ্যে ৯৫টি ইনভার্টার এসিই বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু ব্র্যান্ড ক্রেতা আকর্ষণে এসি বিক্রিতে বিশেষ অফার দিয়েছে। নগদ টাকায় এসি কিনলে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টও দিচ্ছে কয়েকটি কম্পানি। প্রায় সব ব্র্যান্ডের এসিতে রয়েছে কিস্তির সুবিধাও। ছয় থেকে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করা যাচ্ছে এসির দাম।

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের মানুষের একটি বড় অংশের ক্রয়ক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে, যা এসির বাজার বড় হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। আয় বাড়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে গরমের তীব্রতা এসির চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে সিঙ্গার বেকো শোরুমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. পলাশ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের প্রতিটি এসিতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চলছে। এসির বিক্রি কিছুটা শুরু হলেও চলতি বছর এখনো সেভাবে এসির বিক্রি বাড়েনি। তবে আশা করছি সামনে গরম আরো বাড়লে এসির চাহিদাও বাড়বে। বর্তমানে আমাদের শোরুমে চারটি মডেলের এসি বিক্রি হচ্ছে। ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে ইনভার্টার এসির চাহিদা বেশি। নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় ইনভার্টার এসির দামও আট থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি।

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের ওয়ালটন প্লাজায় ফ্রিজ দেখতে এসেছিলেন বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি ছোট একটি হোটেলের মালিক। হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর হোটেলের তিনটি এসির মধ্যে একটি এসি বেশ কয়েক বছরের পুরনো ও নন-ইভার্টার হওয়ায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসে। এটি দ্রুত পরিবর্তন করে নতুন এসি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাই ওয়ালটনের শোরুমে এসেছেন, সামর্থ্যের মধ্যে পছন্দ হলে দেড় টনের একটি এসি নিয়ে যাবেন।

কমার্শিয়াল এসি উৎপাদনে প্রথম দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন