বর্তমানে উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা জরুরি। বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কাজে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সনদের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার যে সনদ বা পরীক্ষাগুলো সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, তার মধ্যে আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) অন্যতম। আইইএলটিএসের গ্রহণযোগ্যতা ১৪০টিরও বেশি দেশে।
আইইএলটিএস কেন গুরুত্বপূর্ণ : আইইএলটিএস হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ধাপ বা পর্ব চারটি—লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। এই পরীক্ষা ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি এবং কেমব্রিজ অ্যাসেসমেন্ট ইংলিশ যৌথভাবে পরিচালনা করে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও ভিসার জন্যও আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে আইইএলটিএসকে বিবেচনা করা হয়।
আইইএলটিএসের ধরন : আইইএলটিএস মূলত দুই ধরনের—একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। আইইএলটিএস—একাডেমিক মূলত তাদের জন্য, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। এই আইইএলটিএসে একাডেমিক লেখালেখি ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। আইইএলটিএস—জেনারেল ট্রেনিং মূলত তাদের জন্য, যারা কাজ, অভিবাসন বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চায়। এতে দৈনন্দিন জীবনের ব্যাবহারিক ইংরেজির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। লিসেনিং ও স্পিকিং অংশ দুই ধরনের পরীক্ষাতেই একই থাকে, তবে রিডিং ও রাইটিং অংশে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
পরীক্ষার কাঠামো : পরীক্ষায় মোট চারটি অংশ—
১. লিসেনিং (৩০ মিনিট) : অডিও শুনে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
২. রিডিং (৬০ মিনিট) : প্যাসেজ পড়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
৩. রাইটিং (৬০ মিনিট) : নির্ধারিত টাস্ক সম্পন্ন করতে হয়।
৪. স্পিকিং (১১-১৪ মিনিট) : একজন পরীক্ষকের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন হয় এ পর্বে।
প্রতিটি অংশে সর্বোচ্চ ব্যান্ড স্কোর ৯।

প্রস্তুতির সঠিক পদ্ধতি : ভালো স্কোর পেতে হলে পরিকল্পিত ও গোছানো প্রস্তুতি নিতে হবে। সবার আগে নিজের বর্তমান ইংরেজির দক্ষতা যাচাই করা উচিত। প্রথমে আইইএলটিএসের কাঠামো ও বেসিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানুন। এরপর নমুনা পরীক্ষা বা মক টেস্ট দিয়ে শুরুতেই যাচাই করুন, আপনার দুর্বলতা কোন কোন জায়গায়। দুর্বলতা শনাক্ত করার পর সেই অনুযায়ী পাঠ বা প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করুন। অনলাইনে খুঁজে শিক্ষা উপকরণ বা সহায়ক রিসোর্সগুলো দেখতে পারেন। নিয়মিত ইংরেজি অডিও, পডকাস্ট, ইংরেজি খবর বা টক শো শুনতে পারেন। রিডিংয়ের জন্য বিভিন্ন আর্টিকল, সংবাদপত্র ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভালো ফলের জন্য নিয়মিত অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। স্পিকিংয়ে উন্নতির জন্য প্রতিদিন ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করতে হবে। স্টাডি সেন্টারের সহায়তাও নিতে পারেন।
প্রস্তুতিমূলক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ
* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা করুন।
* অফিশিয়াল বই ও নির্ভরযোগ্য রিসোর্স ব্যবহার করুন।
* নিয়মিত মক টেস্ট বা নমুনা পরীক্ষা দিন।
* সময় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিন।
* নমুনা পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভুল নিজেই মূল্যায়ন করুন।
* নিজের দুর্বলতা বা ভুল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিন।
* উচ্চারণ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
* রিডিং ও রাইটিংয়ে অনেকে ব্যাকরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকেন। আইডিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাই বেশি জরুরি।
* লিসেনিংয়ে বানান ও একবচন-বহুবচনের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
* নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনলাইনে অসংখ্য রিসোর্স বা শিক্ষা উপকরণ রয়েছে।
আইইএলটিএস সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন : https://www.britishcouncil.org.bd





