• ই-পেপার

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে

উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

হাবিব তারেক
উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

বর্তমানে উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা জরুরি। বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কাজে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সনদের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার যে সনদ বা পরীক্ষাগুলো সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, তার মধ্যে আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) অন্যতম। আইইএলটিএসের গ্রহণযোগ্যতা ১৪০টিরও বেশি দেশে।

 

আইইএলটিএস কেন গুরুত্বপূর্ণ : আইইএলটিএস হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ধাপ বা পর্ব চারটিলিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। এই পরীক্ষা ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি এবং কেমব্রিজ অ্যাসেসমেন্ট ইংলিশ যৌথভাবে পরিচালনা করে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও ভিসার জন্যও আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে আইইএলটিএসকে বিবেচনা করা হয়।

 

আইইএলটিএসের ধরন : আইইএলটিএস মূলত দুই ধরনেরএকাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। আইইএলটিএসএকাডেমিক মূলত তাদের জন্য, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। এই আইইএলটিএসে একাডেমিক লেখালেখি ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। আইইএলটিএসজেনারেল ট্রেনিং মূলত তাদের জন্য, যারা কাজ, অভিবাসন বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চায়। এতে দৈনন্দিন জীবনের ব্যাবহারিক ইংরেজির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। লিসেনিং ও স্পিকিং অংশ দুই ধরনের পরীক্ষাতেই একই থাকে, তবে রিডিং ও রাইটিং অংশে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

 

পরীক্ষার কাঠামো : পরীক্ষায় মোট চারটি অংশ

১. লিসেনিং (৩০ মিনিট) : অডিও শুনে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২. রিডিং (৬০ মিনিট) : প্যাসেজ পড়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

৩. রাইটিং (৬০ মিনিট) : নির্ধারিত টাস্ক সম্পন্ন করতে হয়।

৪. স্পিকিং (১১-১৪ মিনিট) : একজন পরীক্ষকের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন হয় এ পর্বে।
প্রতিটি অংশে সর্বোচ্চ ব্যান্ড স্কোর ৯।

উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

প্রস্তুতির সঠিক পদ্ধতি : ভালো স্কোর পেতে হলে পরিকল্পিত ও গোছানো প্রস্তুতি নিতে হবে। সবার আগে নিজের বর্তমান ইংরেজির দক্ষতা যাচাই করা উচিত। প্রথমে আইইএলটিএসের কাঠামো ও বেসিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানুন। এরপর নমুনা পরীক্ষা বা মক টেস্ট দিয়ে শুরুতেই যাচাই করুন, আপনার দুর্বলতা কোন কোন জায়গায়। দুর্বলতা শনাক্ত করার পর সেই অনুযায়ী পাঠ বা প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করুন। অনলাইনে খুঁজে শিক্ষা উপকরণ বা সহায়ক রিসোর্সগুলো দেখতে পারেন। নিয়মিত ইংরেজি অডিও, পডকাস্ট, ইংরেজি খবর বা টক শো শুনতে পারেন। রিডিংয়ের জন্য বিভিন্ন আর্টিকল, সংবাদপত্র ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভালো ফলের জন্য নিয়মিত অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। স্পিকিংয়ে উন্নতির জন্য প্রতিদিন ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করতে হবে। স্টাডি সেন্টারের সহায়তাও নিতে পারেন।

 

প্রস্তুতিমূলক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা করুন।

* অফিশিয়াল বই ও নির্ভরযোগ্য রিসোর্স ব্যবহার করুন।

* নিয়মিত মক টেস্ট বা নমুনা পরীক্ষা দিন।

* সময় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিন।

* নমুনা পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভুল নিজেই মূল্যায়ন করুন।

* নিজের দুর্বলতা বা ভুল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিন।

* উচ্চারণ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

* রিডিং ও রাইটিংয়ে অনেকে ব্যাকরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকেন। আইডিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাই বেশি জরুরি।

* লিসেনিংয়ে বানান ও একবচন-বহুবচনের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

* নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনলাইনে অসংখ্য রিসোর্স বা শিক্ষা উপকরণ রয়েছে।

আইইএলটিএস সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন : https://www.britishcouncil.org.bd

সাক্ষাৎকার

উচ্চশিক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করছে এমএইচ গ্লোবাল

ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিব্রীয়া

উচ্চশিক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করছে এমএইচ গ্লোবাল

কালের কণ্ঠ : এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে যারা কাজ করছে, তাদের মধ্যে অন্যতম এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপ। শুরুতে জানতে চাই, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এমএইচ গ্লোবাল ঠিক কতটা ভূমিকা রাখছে?

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এমএইচ গ্লোবাল শুধু বিদেশে পড়ার সুযোগই করে দেয় না; বরং একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনা করে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি খুঁজে পেতে সাহায্য করি। সহজ কথায়, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এবং বাস্তবতার মাঝে আমরা একটি আস্থার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করি। আমাদের তিনটি প্রধান উইংএএইচজেড, এমআইই পাথওয়েজ এবং এমআইই ইংলিশ একাডেমি বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আপনাদের কি কোনো উদ্যোগ বা প্রোগ্রাম আছে?

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের একাডেমিক কারিকুলাম ভিন্ন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মেধা থাকা সত্ত্বেও স্টাডি গ্যাপ বা অন্যান্য কারণে মূলধারার ভর্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে। তাদের জন্য এমআইই পাথওয়েজের এনসিইউকে পাথওয়েজ প্রোগ্রামগুলো আশার আলো। এর মাধ্যমে আমরা এমন একটি রুট তৈরি করে দিই, যাতে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশেই আমাদের স্টাডি সেন্টারগুলোতে প্রোগ্রাম শেষ করে সরাসরি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পায়। আমরা বিশ্বাস করি, সামান্য পিছিয়ে পড়া মানেই সম্ভাবনার সমাপ্তি নয়; বরং সঠিক পথে এগোলে তারাও বিশ্বমানের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ছাড়াও নাইজেরিয়ায় আমাদের এই প্রোগ্রামটি অত্যন্ত সফলভাবে চলছে এবং সম্প্রতি আমাদের গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রামও সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রোগ্রামের পর শিক্ষার্থীরা ইউকে, ইউএসএ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।

কালের কণ্ঠ : উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বড় ভয় হলো আইইএলটিএস। এই বাধা দূর করতে আপনাদের এমআইই ইংলিশ একাডেমি কিভাবে কাজ করছে?

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : আইইএলটিএস অনেকের কাছেই একটা বড় ভীতি। তাই আমরা এমআইই ইংলিশ একাডেমিকে এমনভাবে সাজিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ নয়, বরং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে এখানে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমরাই বাংলাদেশে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত আইইএলটিএস কোর্স অফার করছি। বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আমাদের এই কার্যক্রম চলছে। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক শিক্ষার্থীই এরই মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোর অর্জন করেছে এবং বিদেশের নামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।

কালের কণ্ঠ : বর্তমানে বাংলাদেশে টপ কনসালটেন্সি ফার্মের মধ্যে অন্যতম এএইচজেড, যা এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এএইচজেডের বিশেষত্ব কী? একজন শিক্ষার্থী কেন আপনাদের বেছে নেবে?

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : এএইচজেডের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু যুক্তরাজ্য নিয়ে কাজ করে। আমরা যুক্তরাজ্যের ১৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের কাউন্সিলররা ব্রিটিশ কাউন্সিল সার্টিফায়েড এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণে দক্ষ। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিশন সার্ভিসেসসহ (ইউকাস) বিভিন্ন বৈশ্বিক শিক্ষা সংস্থার সঙ্গে আমাদের নিবিড় সংযোগ রয়েছে। আমাদের কাজের স্বচ্ছতা এবং বিগত বছরগুলোর সাফল্যের হারই শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আমাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়।

কালের কণ্ঠ : গত কয়েক বছরে এমএইচ গ্লোবালের ঝুলিতে অনেক অর্জন ও স্বীকৃতি জমা হয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : বিগত বছরগুলোতে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। এএইচজেড বর্তমানে পাইওনিয়ার অ্যাওয়ার্ড-এর প্লাটিনাম স্পন্সরশিপ পেয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বেস্ট পার্টনার অ্যাওয়ার্ড ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্বীকৃতি। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন পিস, প্রসপারিটি অ্যান্ড জাস্টিস-এ আমি কি-নোট স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছি। সম্মাননা হিসেবে গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান কম্প্যানিয়নশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছি। মানবিক কাজে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছি। সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো, আমরা তিন ভাই (আমি, গোলাম মর্তুজা ও জহিরুল ইসলাম) রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ সিআইপি সম্মাননা অর্জন করেছি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক কল্যাণে অবদানের সুবাদেই এই অর্জন। ইনশাআল্লাহ, অদূর-ভবিষ্যতে আমরা আরো বড় পরিসরে কাজ করে যেতে চাই।

কালের কণ্ঠ : আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ।

ক্যাপ্টেন কিব্রীয়া : আপনাকে এবং কালের কণ্ঠকেও অনেক ধন্যবাদ।

এমএইচ গ্লোবাল

একনজরে

এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিব্রীয়া উচ্চশিক্ষা, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বিশেষভাবে সমাদৃত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা ও বৈশ্বিক মানবিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ ছাড়া তিনি সামাজিক সংস্কারক হিসেবে ডা. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

হাবিব তারেক
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

বছরে গড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৫০ শতাংশ। ইউনেসকোর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী ৫৫টি দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য দেশত্যাগ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এর আগে ২০২২ সালে বিদেশে গেছে ৪৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৩৮। অর্থাৎ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী যাওয়ার হার প্রতিবছর বাড়ছেই। ২০১৩ সালে মাত্র ২৪ হাজার ১১২ জন শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়েছিল, যা ২০২৩ সালে প্রায় ২.১৯ গুণ বেড়েছে। ওপেন ডোরসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ২০ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষার্থী। দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় বাংলাদেশ নবম। শিক্ষার্থীদের ভিসাসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া কনসালটেন্সি ফার্মগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনো সময় কিছু দেশের ভিসা রেশিও ভালো থাকে। তখন শিক্ষার্থীদের সেইসব দেশে যাওয়ার হার বেশি থাকে। এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিব্রীয়া জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়াসহ কিছু দেশে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা প্রাপ্তির হার তুলনামূলক বেশি। এই দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের আবেদনের হার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। দেশটিতে কনফার্মেশন অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ (সিএএস) ভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থায় নির্ধারিত কাগজপত্রসহ ফরম পূরণ করলেই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের আগ্রহের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ (যেমনজার্মানি, আয়ারল্যান্ড)। এর প্রধান কারণএক বছরের মাস্টার্স কোর্স, দ্রুত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ; আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা; দীর্ঘ পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক; টিউশন ফি তুলনামূলক কম (কিছু দেশে) বা স্কলারশিপ এবং খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধা।

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মারডক ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তরে উচ্চশিক্ষারত আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবসম্মত ও ব্যাবহারিকনির্ভর; বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ আছে, যা থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক দেশ হওয়ায় এখানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি গুরুত্ব দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং, কোর্সের বিষয়, ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ, সামর্থ্য অনুযায়ী টিউশন ফি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এবং ভিসানীতির ওপর। এমন বিষয় নির্বাচন করেছি, যাতে  পড়াশোনা শেষে অর্জিত দক্ষতার ভিত্তিতে সরাসরি কাঙ্ক্ষিত চাকরিতে যুক্ত হওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন এবং গ্র্যাজুয়েট এমপ্লয়াবিলিটির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।

আবেদন নিজে নিজে করেছেন, নাকি কনসালটেন্সি ফার্মের মাধ্যমেএই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি পার্শিয়াল স্কলারশিপ পেয়েছি। আবেদন বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে করেছি, যাদের অভিজ্ঞতা ও গাইডলাইন পুরো প্রক্রিয়াটাকে সহজ করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় স্পাউসের (স্বামী বা স্ত্রী) পূর্ণকালীন ওয়ার্ক পারমিশন থাকার বিষয়টাও আমার জন্য ছিল বড় প্লাস পয়েন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু জটিলতা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও কনসালটেন্সি ফার্মকে; যেমনভিসা প্রক্রিয়া ও নীতির বারবার পরিবর্তন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ফিন্যানশিয়াল ডকুমেন্ট সংক্রান্ত কঠোরতা, আইইএলটিএস বা ইংরেজি দক্ষতার স্কোর সংক্রান্ত অতিরিক্ত শর্ত, নির্দিষ্ট কিছু দেশে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা রেস্ট্রিকশন ইত্যাদি। এ ছাড়া সঠিক তথ্যের অভাবে ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রতারণার শিকারও হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

অস্ট্রেলিয়ার দি ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেলাল হোসাইন বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগে শিক্ষার্থীর উচিত ঠিকঠাক গাইডলাইন মেনে আবেদন করা। নিজের যোগ্যতা, সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাই করতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ, যথাযথ প্রস্তুতি নিলে ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

এদিকে বৃত্তি নিয়েও পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন অনেকে। ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি নিয়ে স্পেনের ইউনিভার্সিতাত আউতোনোমা দে বার্সেলোনায় (ইউএবি) স্নাতকে পড়াশোনা করছেন তন্ময় হালদার। তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হওয়ায় পরিবারের টাকায় বিদেশে পড়াশোনা খুব কঠিন। তাই প্রথমেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, বৃত্তির সুযোগ পেলে বিদেশে পড়তে যাব। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী অফার করছে, কোথায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সুযোগ আছে, নোট করে রাখতাম। পাশাপাশি নিজেকেও প্রস্তুত করতে থাকি। ইউটিউব, গুগলসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খোঁজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেছি। অনেক ঘাঁটাঘাঁটি ও পড়াশোনা করেছি আবেদনের আগে। পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছি। আবেদনপত্র লেখা, সুপারিশপত্র সংগ্রহ, প্রবন্ধ তৈরিসবই করেছি নিজে নিজে। আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য থাকলে বিদেশে ফুল ফান্ড বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা অসম্ভব না।

রাশিয়ার এনআই লোবাচেভস্কি ন্যাশনাল রিসার্চ নিঝনি নভগোরোদ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে  ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে স্নাতকোত্তরে পড়েন

রবিন সূত্রধর। তিনি বলেন, বিদেশে নিজেকে গড়ে তোলার অনেক সুযোগ। কেউ যদি আন্তরিক পরিশ্রম, ধৈর্য এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোয়, তাহলে শুধু রাশিয়াতেই নয়, যেকোনো উন্নত দেশেই উচ্চশিক্ষা সম্ভব। রাশিয়ায় ভর্তি হওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া, আধুনিক শিক্ষাকাঠামো এবং সরকারি বৃত্তি থাকায় আমি উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়াকে বেছে নিয়েছি।

টিকিট কাটার ঝক্কি কমিয়েছে সহজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টিকিট কাটার ঝক্কি কমিয়েছে সহজ

একটা সময় ছিল, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তবেই একটি টিকিট মিলত। এখন দৃশ্যটি পুরো বদলে গেছে। মোবাইলের স্ক্রিনেই পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। আর এই পরিবর্তনের পেছনে আছে সহজ’—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল টিকেটিং প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্ম ভ্রমণের আনন্দে স্বাধীনতাও যোগ করেছে।

২০১৪ সালে যাত্রা করা ‌‘সহজ এখন দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন টিকেটিং নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি অপারেটর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান, পার্ক ও ইভেন্টসব টিকিট এই একটি প্ল্যাটফর্মেই মিলছে। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানো সম্ভব।

সহজ শুধু একটি টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্মই নয়, এটি দেশের ভ্রমণব্যবস্থার এক সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামো। যাত্রীরা এখান থেকে বাস, ট্রেন, ইভেন্ট ও বিমান পর্যন্ত সব ধরনের টিকিট বুক করতে পারেন। ফলে আলাদা আলাদা অ্যাপ, ওয়বেসাইট বা কাউন্টার খোঁজার ঝামেলা নেই। আরেকটি বড় শক্তি হলো সহজ-এর এক্সপার্ট কল সেন্টারের সাপোর্ট। ভ্রমণের যেকোনো সময় টিকিটজনিত কোনো সমস্যা বা প্রশ্নে যাত্রীরা ২৪ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকেন।

সহজ-এর প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে। ইন্টারনেটের গতি কম থাকলেও প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত কাজ করে এবং অফলাইনে টিকিট সংরক্ষণ করা যায়। ফলে স্মার্টফোন বা কম ডেটা সংযোগ কোনোটিই আর বাধা নয়। যাঁরা আগে কখনো অনলাইনে টিকিট কেনেননি, তাঁরাও সহজ-এর ইন্টারফেস অনায়াসে ব্যবহার করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টিকিট বুকিং করছেন। সহজ শুধু শহুরে মানুষকে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও এই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় এনেছে।

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে