বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। যারা স্নাতক পর্যায়ে বিদেশে ভর্তি হবে, তাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরপরই প্রস্তুতি নিতে হবে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি এবং বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখে। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কাগজপত্র প্রায় সব দেশের জন্য প্রয়োজন হয়। প্রথমত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের জন্য লাগবে। গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও মার্কশিট আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদ (ন্যূনতম স্কোরসহ) স্কোর প্রয়োজন হয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত স্কোর প্রয়োজন, তা নির্ভর করে কোর্স ও দেশের ওপর। তৃতীয়ত, একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট লাগে, যেখানে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া লেটার অব রিকমেন্ডেশন (এলওআর) সাধারণত দু-তিনটি প্রয়োজন হয়, যা শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া হয়। হালনাগাদ পাসপোর্ট, সিভি বা Resume, এবং কিছু ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও (বিশেষ করে আর্ট, ডিজাইন বা আর্কিটেকচার বিষয়ক কোর্সে) লাগতে পারে। ভিসার সময় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও স্পন্সর লেটারও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় প্রথমেই নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী কোর্স নির্বাচন করা উচিত। শুধু র্যাংকিং দেখে নয়, বরং কোর্সের কনটেন্ট, ফ্যাকাল্টি, টিউশন ফি ও স্কলারশিপ সুযোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
* আবেদনের ডেডলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী দেরিতে আবেদন করে সুযোগ হারায়। তাই অন্তত এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। আবেদন ফরম পূরণের সময় সব তথ্য সঠিক ও সত্যভাবে দিতে হবে। বানান ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
* এসওপি ও এলওআরের মান আবেদন গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে। এগুলো যেন কপি করা বা মুখস্থ লেখা না হয়; বরং ব্যক্তিগত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
* বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—আগে পরিকল্পনা, পরে আবেদন। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেদন করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা এবং অফিশিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।
* এজেন্সি বা কনসালটেন্সি ফার্মের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, তবে সবকিছু যাচাই না করে তাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা ঠিক নয়। নিজের আবেদনপত্র নিজে পড়া ও বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
* বৃত্তি ও খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য আত্মবিশ্বাস ও সঠিক তথ্য থাকা দরকার।







