• ই-পেপার

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

জীবনবাজি রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

দেড় বছরের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা কাটিয়ে এখন আমি নির্ভার

হায়দার আলী ও জয়নাল আবেদীন
দেড় বছরের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা কাটিয়ে এখন আমি নির্ভার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণকারী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ এক ধরনের মুক্তি অনুভব করেছে এবং সহিংস মব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। 

গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। তাঁর ভাষায়, মানুষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিল এবং মিথ্যার সংস্কৃতি ও একে অপরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে মুক্তি চাইছিল। 

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে মূল্যায়নে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের পরিচয়ে তিনি রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী লক্ষ্য করেছেন। সাম্প্রতিক কার্যক্রমে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই পরিবারে মুক্তিযুদ্ধের রক্ত রয়েছে। ফলে দেশ বড় কোনো দুর্যোগে পড়বে না বলেই আমি বিশ্বাস করি।’ 

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি এখন সম্পূর্ণ চাপমুক্ত। দেড় বছর ধরে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আমার প্রধান উদ্বেগ। সেই শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করে এখন আমি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বস্তিতে আছি। 

সারা দেশে মব সন্ত্রাসের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অশান্ত। তখন কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। 

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি জানান, মব সন্ত্রাসে তারা নীরব ছিল। ইন্ধন ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, সে সময় তিনি নিজেও কার্যত অসহায় ছিলেন এবং প্রকাশ্যে কিছু বললে পরিস্থিতি বুমেরাং হতে পারে-এই আশঙ্কায় নীরব থাকাই তিনি শ্রেয় মনে করেছিলেন।

বর্তমান সরকারের মব সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মব কালচার রাষ্ট্রে ঘুণের মতো ধরে বসেছিল। সেটি বন্ধে সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মানসিক চাপ ও অপমানের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তবে সাংবিধানিকভাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বলেই তিনি স্পষ্ট করেন। 

তবে তিনি এটাও বলেন, যদি একটি নির্বাচিত সরকার মনে করে যে তাঁর না থাকাই ভালো, তাহলে তিনি সম্মানজনকভাবে স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত। সংসদের অভিশংসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য, তিনি একজন সচেতন মানুষ এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে দেবেন না। সরকার চাইলে থাকবেন, আর না চাইলে নিজেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

বিমানবন্দরে নেমেই উপদেষ্টার তালিকায় কাটছাঁট করেন ইউনূস

ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন ছাত্ররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবন্দরে নেমেই উপদেষ্টার তালিকায় কাটছাঁট করেন ইউনূস
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী। ছবি : কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগষ্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, এ নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে বিদেশ থেকে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রাক্কালে উপদেষ্টা পরিষদের খসড়া তালিকায় কাটছাঁট করে নিজের পছন্দের কয়েকজনের নাম যোগ করেন তিনি। 

কালের কণ্ঠকে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একান্ত সাক্ষাৎকারে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে কালের  কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীনকে এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়ে ছাত্রনেতারা ছিলেন একেবারেই অনড়। ছাত্রদের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সে সময় তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। সেখানে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলার কারণে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ছাত্রনেতারাই তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। 

ড. ইউনূসের দেশে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় আলোচনায় আসে, অস্থায়ীভাবে অন্য কাউকে প্রধান উপদেষ্টা করা যায় কি না। তবে এমন প্রস্তাবে ছাত্রনেতারা আপত্তি জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা পদে ড. ইউনূস ছাড়া অন্য কোনো নাম তারা মানবেন না। 

রাষ্ট্রপতি জানান, ছাত্রনেতাদের এই অবস্থানের প্রতি রাজনৈতিক নেতারাও সমর্থন দেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, ছাত্রদের দাবিকেই সম্মান জানানো হবে এবং তারা যাকে চাইছে, তাকেই প্রধান উপদেষ্টা করা হবে। 

সরকার গঠনে বিলম্বের প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা পদে বিকল্প কিছু নাম আলোচনায় এলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ড. ইউনূসের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় কয়েকজনের নাম ভেসে উঠেছিল। এর মধ্যে একজন ছিলেন সালেহ উদ্দিন আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। 

তবে ছাত্রনেতারা ড. ইউনূসের ব্যাপারে তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি। তারা অপেক্ষা করার পক্ষেই ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

ড. ইউনূসের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে স্বশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি জানান, আগে থেকেই বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধান ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত ছিল। সেখান থেকে ড. ইউনূস কিছু নাম বাদ দেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী কয়েকজনের নাম যুক্ত করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

খসড়া তালিকা থেকে কারা বাদ পড়েছিলেন-এ প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস নিজ হাতে তালিকায় সংশোধন এনেছেন। বিশেষ করে এনজিও–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিনি নিজেই নাম যুক্ত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক, স্বাস্থ্য বিষয়ক ও ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বে থাকা কয়েকটি পদেও পরিবর্তন আনা হয় তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

প্রতিবিপ্লব ও সামরিক শাসন থেকে দেশকে রক্ষা করেছি

তিন বাহিনী প্রধান অভয় দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতার মোহ ছিল না জরুরি অবস্থা দিতে আমাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল

হায়দার আলী ও জয়নাল আবেদীন
প্রতিবিপ্লব ও সামরিক শাসন থেকে দেশকে রক্ষা করেছি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়ে দেশ। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বিলম্ব হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশে সামরিক শাসন বা প্রতিবিপ্লব হতে পারে বলে ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজে দেশকে রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেছেন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেন। 

রাষ্ট্রপতি জানান, প্রকাশ্যে বা গোপনে সামরিক শাসন জারির কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও তাঁকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রবলভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতিরই জরুরি অবস্থা জারি করার এখতিয়ার রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করে নানা দিক থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়। 

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন জারির বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ ছিল না।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দেশের ভেতরে একটি প্রতিবিপ্লব ঘটানোর উদ্যোগও ছিল। সাধারণত এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সুযোগসন্ধানী পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব পক্ষ অসাংবিধানিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছিল বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। 

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, সেনাবাহিনীপ্রধান, নৌবাহিনীপ্রধান ও বিমানবাহিনীপ্রধান, তিন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বই জরুরি অবস্থা, সামরিক আইন কিংবা জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন। তাঁদের অবস্থান ছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নির্বাচন পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির দাবি, স্বশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি করা। সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীপ্রধান ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেখতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাপ্রধানের মধ্যে ক্ষমতা দখলের কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, অতীতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় জরুরি অবস্থা জারি করে দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সেনাবাহিনী এবার কোনোভাবেই সে পথে হাঁটেনি। 

নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকেই মূলত জরুরি অবস্থা জারির জন্য টার্গেট করা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর চরমভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়। তবে আল্লাহর রহমত এবং নিজের দৃঢ় মনোবলের কারণেই তিনি সে চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম হন এবং দেশকে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ সফরেও বাধা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক
চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ সফরেও বাধা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার!
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সেখানকার হাসপাতালে সার্জারির এক বছর আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়।’ 

রাষ্ট্রপতি জানান, একইভাবে লন্ডনস্থ ক্যামব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রতিবারই আমাকে জানানো হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য; আমি ভেঙে গিয়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি।’ 

বঙ্গভবনে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে  আয়োজন করি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তিনি আসেননি।’

এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ধরাবাধা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়। 

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ‘আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব  করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেতো। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছে তাই করা যায়- এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তাঁরা।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে গিয়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। বসাতে পারলে ওই নির্বাচন বিলম্ব বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেতো। নিজেদের রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। এই ভাবনা থেকে।