সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণকারী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ এক ধরনের মুক্তি অনুভব করেছে এবং সহিংস মব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। তাঁর ভাষায়, মানুষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিল এবং মিথ্যার সংস্কৃতি ও একে অপরের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে মুক্তি চাইছিল।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে মূল্যায়নে রাষ্ট্রপতি বলেন, অল্প সময়ের পরিচয়ে তিনি রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী লক্ষ্য করেছেন। সাম্প্রতিক কার্যক্রমে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই পরিবারে মুক্তিযুদ্ধের রক্ত রয়েছে। ফলে দেশ বড় কোনো দুর্যোগে পড়বে না বলেই আমি বিশ্বাস করি।’
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি এখন সম্পূর্ণ চাপমুক্ত। দেড় বছর ধরে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আমার প্রধান উদ্বেগ। সেই শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করে এখন আমি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বস্তিতে আছি।
সারা দেশে মব সন্ত্রাসের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অশান্ত। তখন কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি জানান, মব সন্ত্রাসে তারা নীরব ছিল। ইন্ধন ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, সে সময় তিনি নিজেও কার্যত অসহায় ছিলেন এবং প্রকাশ্যে কিছু বললে পরিস্থিতি বুমেরাং হতে পারে-এই আশঙ্কায় নীরব থাকাই তিনি শ্রেয় মনে করেছিলেন।
বর্তমান সরকারের মব সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মব কালচার রাষ্ট্রে ঘুণের মতো ধরে বসেছিল। সেটি বন্ধে সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান দেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মানসিক চাপ ও অপমানের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তবে সাংবিধানিকভাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বলেই তিনি স্পষ্ট করেন।
তবে তিনি এটাও বলেন, যদি একটি নির্বাচিত সরকার মনে করে যে তাঁর না থাকাই ভালো, তাহলে তিনি সম্মানজনকভাবে স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত। সংসদের অভিশংসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য, তিনি একজন সচেতন মানুষ এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে দেবেন না। সরকার চাইলে থাকবেন, আর না চাইলে নিজেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।




