• ই-পেপার

সাক্ষাৎকার

উচ্চশিক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করছে এমএইচ গ্লোবাল

<li>ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিব্রীয়া</li>

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। যারা স্নাতক পর্যায়ে বিদেশে ভর্তি হবে, তাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পরপরই প্রস্তুতি নিতে হবে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি এবং বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক শিক্ষার্থী আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখে। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ কাগজপত্র প্রায় সব দেশের জন্য প্রয়োজন হয়। প্রথমত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের জন্য লাগবে। গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও মার্কশিট আবশ্যক।

দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সনদ (ন্যূনতম স্কোরসহ) স্কোর প্রয়োজন হয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত স্কোর প্রয়োজন, তা নির্ভর করে কোর্স ও দেশের ওপর। তৃতীয়ত, একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট লাগে, যেখানে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া লেটার অব রিকমেন্ডেশন (এলওআর) সাধারণত দু-তিনটি প্রয়োজন হয়, যা শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া হয়। হালনাগাদ পাসপোর্ট, সিভি বা Resume, এবং কিছু ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও (বিশেষ করে আর্ট, ডিজাইন বা আর্কিটেকচার বিষয়ক কোর্সে) লাগতে পারে। ভিসার সময় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও স্পন্সর লেটারও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় প্রথমেই নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী কোর্স নির্বাচন করা উচিত। শুধু র‌্যাংকিং দেখে নয়, বরং কোর্সের কনটেন্ট, ফ্যাকাল্টি, টিউশন ফি ও স্কলারশিপ সুযোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

* আবেদনের ডেডলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী দেরিতে আবেদন করে সুযোগ হারায়। তাই অন্তত এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। আবেদন ফরম পূরণের সময় সব তথ্য সঠিক ও সত্যভাবে দিতে হবে। বানান ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।

* এসওপি ও এলওআরের মান আবেদন গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে। এগুলো যেন কপি করা বা মুখস্থ লেখা না হয়; বরং ব্যক্তিগত ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

* বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলোআগে পরিকল্পনা, পরে আবেদন। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেদন করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখা এবং অফিশিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।

* এজেন্সি বা কনসালটেন্সি ফার্মের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, তবে সবকিছু যাচাই না করে তাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা ঠিক নয়। নিজের আবেদনপত্র নিজে পড়া ও বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

* বৃত্তি ও খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য আত্মবিশ্বাস ও সঠিক তথ্য থাকা দরকার।

উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

হাবিব তারেক
উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

বর্তমানে উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা জরুরি। বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কাজে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সনদের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার যে সনদ বা পরীক্ষাগুলো সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, তার মধ্যে আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) অন্যতম। আইইএলটিএসের গ্রহণযোগ্যতা ১৪০টিরও বেশি দেশে।

 

আইইএলটিএস কেন গুরুত্বপূর্ণ : আইইএলটিএস হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ধাপ বা পর্ব চারটিলিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। এই পরীক্ষা ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি এবং কেমব্রিজ অ্যাসেসমেন্ট ইংলিশ যৌথভাবে পরিচালনা করে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন ও ভিসার জন্যও আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অনেক আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে আইইএলটিএসকে বিবেচনা করা হয়।

 

আইইএলটিএসের ধরন : আইইএলটিএস মূলত দুই ধরনেরএকাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। আইইএলটিএসএকাডেমিক মূলত তাদের জন্য, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। এই আইইএলটিএসে একাডেমিক লেখালেখি ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। আইইএলটিএসজেনারেল ট্রেনিং মূলত তাদের জন্য, যারা কাজ, অভিবাসন বা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চায়। এতে দৈনন্দিন জীবনের ব্যাবহারিক ইংরেজির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। লিসেনিং ও স্পিকিং অংশ দুই ধরনের পরীক্ষাতেই একই থাকে, তবে রিডিং ও রাইটিং অংশে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

 

পরীক্ষার কাঠামো : পরীক্ষায় মোট চারটি অংশ

১. লিসেনিং (৩০ মিনিট) : অডিও শুনে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২. রিডিং (৬০ মিনিট) : প্যাসেজ পড়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

৩. রাইটিং (৬০ মিনিট) : নির্ধারিত টাস্ক সম্পন্ন করতে হয়।

৪. স্পিকিং (১১-১৪ মিনিট) : একজন পরীক্ষকের সঙ্গে মুখোমুখি কথোপকথন হয় এ পর্বে।
প্রতিটি অংশে সর্বোচ্চ ব্যান্ড স্কোর ৯।

উচ্চশিক্ষায় দরকার আইইএলটিএস

প্রস্তুতির সঠিক পদ্ধতি : ভালো স্কোর পেতে হলে পরিকল্পিত ও গোছানো প্রস্তুতি নিতে হবে। সবার আগে নিজের বর্তমান ইংরেজির দক্ষতা যাচাই করা উচিত। প্রথমে আইইএলটিএসের কাঠামো ও বেসিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানুন। এরপর নমুনা পরীক্ষা বা মক টেস্ট দিয়ে শুরুতেই যাচাই করুন, আপনার দুর্বলতা কোন কোন জায়গায়। দুর্বলতা শনাক্ত করার পর সেই অনুযায়ী পাঠ বা প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করুন। অনলাইনে খুঁজে শিক্ষা উপকরণ বা সহায়ক রিসোর্সগুলো দেখতে পারেন। নিয়মিত ইংরেজি অডিও, পডকাস্ট, ইংরেজি খবর বা টক শো শুনতে পারেন। রিডিংয়ের জন্য বিভিন্ন আর্টিকল, সংবাদপত্র ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভালো ফলের জন্য নিয়মিত অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। স্পিকিংয়ে উন্নতির জন্য প্রতিদিন ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করতে হবে। স্টাডি সেন্টারের সহায়তাও নিতে পারেন।

 

প্রস্তুতিমূলক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ

* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা করুন।

* অফিশিয়াল বই ও নির্ভরযোগ্য রিসোর্স ব্যবহার করুন।

* নিয়মিত মক টেস্ট বা নমুনা পরীক্ষা দিন।

* সময় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিন।

* নমুনা পরীক্ষা দিয়ে নিজের ভুল নিজেই মূল্যায়ন করুন।

* নিজের দুর্বলতা বা ভুল বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিন।

* উচ্চারণ নিয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

* রিডিং ও রাইটিংয়ে অনেকে ব্যাকরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকেন। আইডিয়া স্পষ্টভাবে প্রকাশ করাই বেশি জরুরি।

* লিসেনিংয়ে বানান ও একবচন-বহুবচনের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

* নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনলাইনে অসংখ্য রিসোর্স বা শিক্ষা উপকরণ রয়েছে।

আইইএলটিএস সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন : https://www.britishcouncil.org.bd

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

হাবিব তারেক
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

বছরে গড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৫০ শতাংশ। ইউনেসকোর তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী ৫৫টি দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য দেশত্যাগ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। এর আগে ২০২২ সালে বিদেশে গেছে ৪৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৩৮। অর্থাৎ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী যাওয়ার হার প্রতিবছর বাড়ছেই। ২০১৩ সালে মাত্র ২৪ হাজার ১১২ জন শিক্ষার্থী বিদেশে গিয়েছিল, যা ২০২৩ সালে প্রায় ২.১৯ গুণ বেড়েছে। ওপেন ডোরসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ২০ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষার্থী। দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় বাংলাদেশ নবম। শিক্ষার্থীদের ভিসাসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া কনসালটেন্সি ফার্মগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো কোনো সময় কিছু দেশের ভিসা রেশিও ভালো থাকে। তখন শিক্ষার্থীদের সেইসব দেশে যাওয়ার হার বেশি থাকে। এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিব্রীয়া জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়াসহ কিছু দেশে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা প্রাপ্তির হার তুলনামূলক বেশি। এই দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের আবেদনের হার বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। দেশটিতে কনফার্মেশন অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ (সিএএস) ভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থায় নির্ধারিত কাগজপত্রসহ ফরম পূরণ করলেই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের আগ্রহের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ (যেমনজার্মানি, আয়ারল্যান্ড)। এর প্রধান কারণএক বছরের মাস্টার্স কোর্স, দ্রুত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ; আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা; দীর্ঘ পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক; টিউশন ফি তুলনামূলক কম (কিছু দেশে) বা স্কলারশিপ এবং খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধা।

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মারডক ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তরে উচ্চশিক্ষারত আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবসম্মত ও ব্যাবহারিকনির্ভর; বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ আছে, যা থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া বহুজাতিক দেশ হওয়ায় এখানে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমি গুরুত্ব দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং, কোর্সের বিষয়, ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ, সামর্থ্য অনুযায়ী টিউশন ফি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এবং ভিসানীতির ওপর। এমন বিষয় নির্বাচন করেছি, যাতে  পড়াশোনা শেষে অর্জিত দক্ষতার ভিত্তিতে সরাসরি কাঙ্ক্ষিত চাকরিতে যুক্ত হওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন এবং গ্র্যাজুয়েট এমপ্লয়াবিলিটির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।

আবেদন নিজে নিজে করেছেন, নাকি কনসালটেন্সি ফার্মের মাধ্যমেএই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি পার্শিয়াল স্কলারশিপ পেয়েছি। আবেদন বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে করেছি, যাদের অভিজ্ঞতা ও গাইডলাইন পুরো প্রক্রিয়াটাকে সহজ করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় স্পাউসের (স্বামী বা স্ত্রী) পূর্ণকালীন ওয়ার্ক পারমিশন থাকার বিষয়টাও আমার জন্য ছিল বড় প্লাস পয়েন্ট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু জটিলতা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও কনসালটেন্সি ফার্মকে; যেমনভিসা প্রক্রিয়া ও নীতির বারবার পরিবর্তন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ফিন্যানশিয়াল ডকুমেন্ট সংক্রান্ত কঠোরতা, আইইএলটিএস বা ইংরেজি দক্ষতার স্কোর সংক্রান্ত অতিরিক্ত শর্ত, নির্দিষ্ট কিছু দেশে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা রেস্ট্রিকশন ইত্যাদি। এ ছাড়া সঠিক তথ্যের অভাবে ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রতারণার শিকারও হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

অস্ট্রেলিয়ার দি ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেলাল হোসাইন বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার আগে শিক্ষার্থীর উচিত ঠিকঠাক গাইডলাইন মেনে আবেদন করা। নিজের যোগ্যতা, সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাই করতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ, যথাযথ প্রস্তুতি নিলে ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

এদিকে বৃত্তি নিয়েও পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন অনেকে। ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি নিয়ে স্পেনের ইউনিভার্সিতাত আউতোনোমা দে বার্সেলোনায় (ইউএবি) স্নাতকে পড়াশোনা করছেন তন্ময় হালদার। তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হওয়ায় পরিবারের টাকায় বিদেশে পড়াশোনা খুব কঠিন। তাই প্রথমেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, বৃত্তির সুযোগ পেলে বিদেশে পড়তে যাব। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কী অফার করছে, কোথায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সুযোগ আছে, নোট করে রাখতাম। পাশাপাশি নিজেকেও প্রস্তুত করতে থাকি। ইউটিউব, গুগলসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খোঁজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেছি। অনেক ঘাঁটাঘাঁটি ও পড়াশোনা করেছি আবেদনের আগে। পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছি। আবেদনপত্র লেখা, সুপারিশপত্র সংগ্রহ, প্রবন্ধ তৈরিসবই করেছি নিজে নিজে। আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য থাকলে বিদেশে ফুল ফান্ড বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা অসম্ভব না।

রাশিয়ার এনআই লোবাচেভস্কি ন্যাশনাল রিসার্চ নিঝনি নভগোরোদ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে  ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে স্নাতকোত্তরে পড়েন

রবিন সূত্রধর। তিনি বলেন, বিদেশে নিজেকে গড়ে তোলার অনেক সুযোগ। কেউ যদি আন্তরিক পরিশ্রম, ধৈর্য এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোয়, তাহলে শুধু রাশিয়াতেই নয়, যেকোনো উন্নত দেশেই উচ্চশিক্ষা সম্ভব। রাশিয়ায় ভর্তি হওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া, আধুনিক শিক্ষাকাঠামো এবং সরকারি বৃত্তি থাকায় আমি উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়াকে বেছে নিয়েছি।

টিকিট কাটার ঝক্কি কমিয়েছে সহজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টিকিট কাটার ঝক্কি কমিয়েছে সহজ

একটা সময় ছিল, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তবেই একটি টিকিট মিলত। এখন দৃশ্যটি পুরো বদলে গেছে। মোবাইলের স্ক্রিনেই পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। আর এই পরিবর্তনের পেছনে আছে সহজ’—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল টিকেটিং প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্ম ভ্রমণের আনন্দে স্বাধীনতাও যোগ করেছে।

২০১৪ সালে যাত্রা করা ‌‘সহজ এখন দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন টিকেটিং নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি অপারেটর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান, পার্ক ও ইভেন্টসব টিকিট এই একটি প্ল্যাটফর্মেই মিলছে। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানো সম্ভব।

সহজ শুধু একটি টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্মই নয়, এটি দেশের ভ্রমণব্যবস্থার এক সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামো। যাত্রীরা এখান থেকে বাস, ট্রেন, ইভেন্ট ও বিমান পর্যন্ত সব ধরনের টিকিট বুক করতে পারেন। ফলে আলাদা আলাদা অ্যাপ, ওয়বেসাইট বা কাউন্টার খোঁজার ঝামেলা নেই। আরেকটি বড় শক্তি হলো সহজ-এর এক্সপার্ট কল সেন্টারের সাপোর্ট। ভ্রমণের যেকোনো সময় টিকিটজনিত কোনো সমস্যা বা প্রশ্নে যাত্রীরা ২৪ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকেন।

সহজ-এর প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে। ইন্টারনেটের গতি কম থাকলেও প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত কাজ করে এবং অফলাইনে টিকিট সংরক্ষণ করা যায়। ফলে স্মার্টফোন বা কম ডেটা সংযোগ কোনোটিই আর বাধা নয়। যাঁরা আগে কখনো অনলাইনে টিকিট কেনেননি, তাঁরাও সহজ-এর ইন্টারফেস অনায়াসে ব্যবহার করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টিকিট বুকিং করছেন। সহজ শুধু শহুরে মানুষকে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও এই ডিজিটাল সুবিধার আওতায় এনেছে।

উচ্চশিক্ষায় এক দশক ধরে কাজ করছে এমএইচ গ্লোবাল