• ই-পেপার

লক্ষ্য ছিল সংবিধান রক্ষা করা

<li>কালের কণ্ঠকে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি</li>

যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার

যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে

একটি মাদকমুক্ত সমাজ আমরা সবাই চাই। তরুণরা মারণনেশায় আসক্ত না হয়ে দেশ গঠনে মন দেবে, জাতির কাণ্ডারি হয়ে পথ দেখাবেএমনটা কে না চায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, সমাজের শিরা-উপশিরা থেকে মাদকের বিষ নির্মূল করা যাচ্ছে না। মাদকাসক্তি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০২৪ সালে যেখানে দুই কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১ পিসে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত অভিযানে এসব ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দ্বিগুণ জব্দের পেছনে রয়েছে মাদক পাচার হয়ে আসার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া।

মাদকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এক দিনে হয়নি। বিগত ১৬ বছরে মাদক জব্দের পরিমাণ বেড়েছে ৩২৯ গুণ। অর্থাৎ বছর বছর এই প্রবণতা বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনেকেই আশা করেছিলেন, পরিস্থিতি পাল্টাবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। মাদকের ভয়াল থাবা ক্রমে আরো বিস্তৃত হয়েছে। মাদকের কারবার কিভাবে চলে, তা কমবেশি সবার জানা। মাদকের স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে মাদকসেবীদের আখড়া বসতে দেখা যায়। এসব স্পট পুলিশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়। ক্ষমতাধরদের সবুজ সংকেত এবং অনৈতিক যোগসাজশেরও বহু অভিযোগ পাওয়া যায়।

মাদকাসক্তদের নিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ, এমনকি পরিবারও বিপদগ্রস্ত হয়। অনেক অভিভাবকই তাঁদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় থাকেন। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে যায়। অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুলিশ চাইলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও কঠিন কাজ নয়। কারণ কারা কোথায় কিভাবে মাদক বিক্রি করছে, তা পুলিশের অজানা নয়।

তারুণ্য যেকোনো দেশের প্রধান শক্তি। সেই তারুণ্য যদি এভাবে ক্রমে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়, তাহলে এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা জাগাটাই স্বাভাবিক। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নতুন রাজনৈতিক সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমরা আশা করি, মাদকের মতো মারণছোবল থেকে সমাজ রক্ষায় নতুন সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে আরো কঠোর হতে হবে। মাদক মামলার বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। চোরাচালান সিন্ডিকেট ও মাদক কেনাবেচায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

মশায় অতিষ্ঠ জনজীবন

দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

মশার উপদ্রবে ঢাকাবাসী অতিষ্ঠ। কি দিন, কি রাত২৪ ঘণ্টাই মশার যন্ত্রণা। অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি সর্বত্রই মশার দাপট। এখনই অবস্থা বেগতিক। সামনে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভাবতেই যেন গায়ে জ্বর আসছে।

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মশা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এসব মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। সবচেয়ে বড় কথা হলোমশা কেন বাড়ছে, তা আমাদের কারো অজানা নয়। আর মশার আধিক্য রাতারাতিও বাড়ে না। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। গবেষকরা এবার মশা বেড়ে যাওয়ার তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে প্রথমত শীতের তীব্রতা কম, দ্বিতীয়ত নর্দমা ও জলাশয় দূষণ যথাযথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি এবং তৃতীয়ত ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনেই দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় তদারকিতে ঢিলেঢালা ভাব। প্রথম কারণটি প্রাকৃতিক হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারণ মানবসৃষ্ট অব্যবস্থাপনার ফল।

গবেষণায় দেখা গেছে, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, উত্তরা ও মিরপুরে মশার ঘনত্ব বেশি। এক দোকানি জানিয়েছেন, ক্রেতারা এসেই মশার উপদ্রবে চলে যান, কিন্তু তাঁকে মশার মধ্যে দোকানেই বসে থাকতে হয়। আরেকজনের ভাষ্য, আগে সন্ধ্যায় মশা বেশি থাকলেও এখন সারা দিনই মশার ভনভন শুনতে হয়। আর এই মাত্রাতিরিক্ত মশা নিয়ন্ত্রণে নগর কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে চিরচেনা অস্ত্র ফগার মেশিন। সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই সুফল মিলছে না। যদিও নগর কর্তারা দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মীরা মশা নিধনে নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু গবেষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের কাঠামোগত জটিলতার কারণেই আজ এই অবস্থা, যা নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার প্রতিফলন মাত্র।

প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু প্রাণহানি হয়। লক্ষাধিক মানুষকে হাসপাতালে যেতে হয়। ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য রোগও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামগঞ্জেও। এর পরও মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো টেকসই, সমন্বিত পদক্ষেপ দেখা যায় না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মশার বিস্তার রোধে অবশ্যই আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সরকারকে বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে। গবেষকদের পরামর্শসরকার যেন ডেঙ্গু ও আর্বোভাইরাস কৌশলপত্র প্রণয়ন করে, যেখানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত থাকবে। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

দর-কষাকষির সুযোগ নিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্কারোপ

দর-কষাকষির সুযোগ নিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক বিশ্ববাণিজ্যে এক অস্থির অবস্থার সৃষ্টি করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেলেও পরে নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশকে তা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ। আর তার প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। বাংলাদেশের ওপরও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। আগের ১৫.১ শতাংশ যোগ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫.১ শতাংশ। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চাপ কাটাতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নানা ধরনের চুক্তি করে। এতে পাল্টা শুল্ক ২০ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪.১ শতাংশ। তবে মার্কিন তুলায় পণ্য বানিয়ে তা রপ্তানি করলে শুল্ক শূন্য করারও আশ্বাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী কিছু দেশে এই শুল্কের পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে কম থাকায় তারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছিল। আদালতের রায়ে আগের শুল্কারোপ বাতিল হওয়া এবং নতুন করে সব দেশের জন্য সমান শুল্কারোপ হওয়ায় বাংলাদেশকে শুল্কবৈষম্যের শিকার হতে হবে না। কিন্তু বাংলাদেশকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যেতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মাশরুর রিয়াজ মনে করেন, মার্কিন আদালতের রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষিতে যাওয়া বেশি বাস্তবসম্মত হবে।

নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের ফলে যদি সংশ্লিষ্ট কোনো বাণিজ্যব্যবস্থা বা শুল্ককাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। এই বাজার রক্ষায় আমাদের কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা আশা করি, নতুন সরকার পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

তিন বছর সময় প্রয়োজন

এলডিসি থেকে উত্তরণ

তিন বছর সময় প্রয়োজন

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, কালক্ষেপণ না করে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই এসংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বৈশ্বিক ও দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক অবস্থাএই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় কোনো দেশ পরবর্তী ধাপ বা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছিল বাংলাদেশ। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। সেই সময় করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসাবে চলতি বছর ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো নাজুক। এ কারণে উত্তরণকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ যে সময় পেয়েছে, বৈশ্বিক কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে কঠোর মুদ্রানীতি, সরবরাহে বাধাসহ নানা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চিঠিতে অভ্যন্তরীণ সংকটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি। অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের তরফ থেকে আরো বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিপিএস প্লাস সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের বাস্তব ঝুঁকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

এলডিসি তালিকাভুক্ত থাকায় সুবিধাগুলোর অন্যতম হলোপণ্য রপ্তানিতে শুল্ক মওকুফ। এ কারণে বাংলাদেশের পোশাক খাতে সফলতা এসেছে। মূলত দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতি নিজের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তার জন্য উন্নত দেশগুলো এমন সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু এই তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এই বিবেচনায় দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কাএলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী পর্যায়ে দেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণেরও প্রয়োজন রয়েছে। এতে বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হয়। কিন্তু সেই উত্তরণ হতে হবে সঠিক সময়ে।

নতুন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ঘোষণা দেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বিলম্বিত করার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরাও মনে করি, নতুন সরকারের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে জাতিসংঘ। এ ক্ষেত্রে যথাযথ কূটনীতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।