• ই-পেপার

শুল্ক বাতিলের কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

সবজি-শুঁটকির ব্যবসা থেকে বিশ্বের ইলেকট্রনিক জায়ান্ট স্যামসাং

বাণিজ্য ডেস্ক
সবজি-শুঁটকির ব্যবসা থেকে বিশ্বের ইলেকট্রনিক জায়ান্ট স্যামসাং

১৯১০ সালে ধনী জমিদার পরিবারে জন্ম নেন স্যামসাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লি বাইয়ং-চুল। তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এক শিক্ষার্থী। ১৯৩০ সালে টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট করেন। তবে এর ৪০ বছর পর দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজ থেকেও সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেন লি।

৮৮ বছরের পুরনো কম্পানি স্যামসাং এখন বিশ্বের ৭৪টি দেশে ব্যবসা করছে। বিশ্বজুড়ে কম্পানিটির দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮৬০ জন কর্মী রয়েছে। গত বছর ২৩৩.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে তারা। এতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে স্যামসাংয়ের এআইসংবলিত হাই এন্ড স্মার্টফোন ও সেমিকন্ডাক্টর।

 

সবজি-শুঁটকির ব্যবসা থেকে বিশ্বের ইলেকট্রনিক জায়ান্ট স্যামসাংশুরুতে বিক্রি হতো শুঁটকি ও নুডলস

১৯৩৮ সালে লি বাইয়ং-চুল যখন স্যামসাং প্রতিষ্ঠা করেন তখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। সে সময় কম্পানিটির নাম ছিল স্যামসাং সাংহো। কম্পানিটিতে তখন কর্মী ছিল ৪০ জন। বিক্রি করা হতো চাল, সবজি, শুঁটকি ও নুডলসের মতো খাদ্যপণ্য। পরবর্তী সময়ে পরিবহন ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা শুরু করে স্যামসাং। ১৯৪৫ সাল নাগাদ কম্পানিটি পুরো দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্য সরবরাহ করত। ১৯৪৭ সালে কম্পানিটি দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং প্রদেশ থেকে রাজধানী সিউলে স্থানান্তর করেন লি। সেখানে চালু করেন সুগার মিল ও টেক্সটাইল কম্পানি। সে সময় কম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্যামসাং ট্রেডিং করপোরেশন।

 

বিশ্বের পঞ্চম সেরা ব্র্যান্ড

স্যামসাং ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন শুরু করে ১৯৬৯ সালে। কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর কম্পানি অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা ১৯৭৪ সালে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা বড় করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বপ্রথম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করেছিল কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর। দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে থাকায় তারা স্যামসাংয়ের কাছে ব্যবসা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়।

১৯৮৭ সালের নভেম্বরে সিউলে লি বাইয়ং-চুলের মৃত্যু হয়। এরপর লি বংশের পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের হাত ধরেই বিশ্বের পঞ্চম সেরা ব্র্যান্ডে পরিণত হয় স্যামসং।

 

টিভির বাজারে শীর্ষে স্যামসাং

বর্তমানে গ্যালাক্সি সিরিজের স্মার্টফোনের পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন, টিভি, কম্পিউটার, সাউন্ডবার ও ফ্রিজ তৈরি করে থাকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। এ ছাড়া তারা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর, ইমেজ সেন্সরস, ক্যামেরা মডিউল ও ডিসপ্লে বানিয়ে থাকে। এসব ইলেকট্রনিক উপাদানের ক্রেতা অ্যাপল, সনি, এইচটিসি ও নোকিয়া। ২০২৫ সালের হিসাবে কম্পানিটির ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫০ কোটি ডলার। বিশ্ব টিভির বাজারে স্যামসাং শীর্ষে রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিভি নির্মাতা কম্পানি স্যামসাং। ২০২৫ সালের হিসাবে তাদের মার্কেট শেয়ার ২৯.৮৯ শতাংশ।

 

স্যামসাং বাংলাদেশ

দেশে স্যামসাংয়ের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে আশির দশক থেকে। ২০০৯ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ব্র্যান্ড অফিস চালু করে। স্যামসাং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (এসআরবিডি) প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। স্যামসাংয়ের আগে কোনো বহুজাতিক কম্পানি বাংলাদেশে আরঅ্যান্ডডি সেন্টার স্থাপন করেনি। ২০১৮ সালে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে অংশীদারি করে নরসিংদীতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে স্যামসাং। কারখানাটিতে গ্যালাক্সি নোট ১০ সিরিজ সংযোজন করা হয়। ফোনগুলো বাজারে আসে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। পুরোপুরিভাবে স্যামসাং ফোনের উৎপাদন শুরু হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে।

সূত্র : এসিও ডটকম, স্যামসাং রিসার্চ

মার্কিন কম্পানিগুলো কি ফেরত পাবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার

শুল্ক বাবদ যে অর্থ ট্রাম্প নিয়েছেন তা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আগামী পাঁচ বছর আদালতেই থাকার কথা জানালেন ট্রাম্প

বাণিজ্য ডেস্ক
মার্কিন কম্পানিগুলো কি ফেরত পাবে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আদায়ের বিরুদ্ধে গত বছর রাস্তায় প্রতিবাদ করেন মার্কিন নাগরিকরা

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক জরুরি আইন ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছেন তা অবৈধ। তবে এই শুল্ক কিভাবে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আদালত কিছু বলেননি। এ পর্যন্ত কম্পানিগুলো থেকে আদায় করা শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থ ফেরতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ নিয়ে আমরা সম্ভবত আগামী পাঁচ বছর আদালতেই থাকব।

শুল্ক কিভাবে আদায় করা হয় : প্রায় সব ধরনের শুল্কযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থার কাছে একটি বন্ড জমা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আনার সময় আনুমানিক শুল্ক পরিশোধ করেন। সরকার পরে ওই পণ্যের চূড়ান্ত শুল্ক নির্ধারণ করে, যা লিকুইডেশন নামে পরিচিত এবং সাধারণত পণ্য প্রবেশের ৩১৪ দিন পর এটি সম্পন্ন হয়। অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হলে তা ফেরত দেওয়া হয়, আর কম পরিশোধ করা হলে আমদানিকারককে বাকি অর্থ দিতে হয়।

সুপ্রিম কোর্ট কি অর্থ ফেরতের পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে : মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অর্থ ফেরতের পদ্ধতি নির্ধারণ করেনি। ভিন্নমত পোষণকারী মতামতে বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ বলেন, আদালতের এই রায় স্বল্পমেয়াদে গুরুতর বাস্তবিক প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে অর্থ ফেরতও অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, মৌখিক শুনানিতে স্বীকার করা হয়েছিল যে অর্থ ফেরত বিতরণ করা সম্ভবত একটি জটিল অবস্থা সৃষ্টি করবে। এখন মামলাটি আবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে ফিরে যাবে, যেখানে ফেরতের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

কিভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে আমদানিকারকরা অর্থ ফেরত চেয়েছেন। আরো বহু নতুন মামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক আমদানিকারককে আলাদাভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা করতে হতে পারে। এত বিস্তৃতসংখ্যক কম্পানির জন্য একটি সমষ্টিগত মামলা (ক্লাস অ্যাকশন) করা সম্ভব হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন বাণিজ্য আইনের অধীনে অর্থ ফেরতের দাবি জানাতে আমদানিকারকদের দুই বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।

এই প্রক্রিয়া ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ তারা এরই মধ্যে বড় ও অর্থবিত্তশালী কম্পানির তুলনায় শুল্কের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমদানিকারকদের আইনজীবীরা বলেন, কিছু ছোট ব্যবসা হয়তো হাজার হাজার ডলার আইনি ও আদালত ফি দেওয়ার বদলে সম্ভাব্য ফেরত দাবি ছেড়ে দিতে পারে।

এ ধরনের ফেরতের কোনো নজির আছে কি : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এর আগেও বড় আকারের অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছে। ১৯৮৬ সালে কংগ্রেস একটি হারবার মেইনটেন্যান্স ট্যাক্স চালু করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা সব পণ্যের মূল্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে সর্বোচ্চ আদালত এই করের একটি অংশ অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত এক লাখেরও বেশি দাবিদারের জন্য অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া কি জটিল হবে : বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার শুল্ক পরিশোধের রেকর্ড সংরক্ষণ করেছে এবং নথিপত্রব্যবস্থাও উন্নত করেছে, যা ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ সহজ করতে পারে। ছোট ব্যবসাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেওয়ার আহবান জানিয়েছে এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে সরকার যদি আমদানির কাগজপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে, তাহলে প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। এমনকি অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও কিছু কম্পানি হয়তো অর্থ না-ও পেতে পারে। কারণ তারা ইমপোর্টার অব রেকর্ড না-ও হতে পারে, অর্থাৎ যে সত্তা আমদানি পণ্যের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করে এবং শুল্ক পরিশোধের দায়িত্ব বহন করে।

অর্থ ফেরত দেওয়ার পর শুল্ক পরিশোধকারী কম্পানি এবং ইমপোর্টার অব রেকর্ডের মধ্যে চুক্তির ওপর নির্ভর করবে কে শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ পাবে, যা আরেকটি সম্ভাব্য আইনি বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স

কার্যকর থাকবে ১৫০ দিনের জন্য

ট্রাম্পের নতুন ১৫% শুল্ক কার্যকর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বাণিজ্য ডেস্ক
ট্রাম্পের নতুন ১৫% শুল্ক কার্যকর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক বাতিল করার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে  তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি পূর্বের শুল্ক কিভাবে পূনস্থাপন করা যায় তা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে গত শুক্রবার পণ্য আমদানিতে ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার জন্য নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন। কার্যকর হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে। শুল্ক কার্যকর থাকবে ১৫০ দিনের জন্য। তবে এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করলেন। এ আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্যঘাটতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।

এর আগে ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গত শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি প্রেসিডেন্টকে এ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ কারণে ওই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের রায়ে আগের শুল্কব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও নতুন কৌশলে ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিপণ্য এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় এখন আমদানিকারকদের থেকে শুল্ক বাবদ আদায় করা শত শত কোটি ডলার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ রায়ের ফলে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এ অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সুদে-আসলে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে বছরের পর বছর মামলা চলবে।

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কানাডীয় চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডাস লেং বলেন, ‘কানাডার উচিত আরো কঠোর বাণিজ্যিক চাপের জন্য প্রস্তুত থাকা।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনও নতুন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মতে, আগের শুল্ক বাতিল হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে তা লাঘব হবে। ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীগুলো আদালতের রায়কে স্বাগত জানালেও ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপে তারা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র : রয়টার্স

 

পুঁজিবাজারে সপ্তাহে লেনদেন বাড়ল ৬৫%

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে সপ্তাহে লেনদেন বাড়ল ৬৫%

দেশের পুঁজিবাজারে জাতীয় নির্বাচনের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকে রেকর্ড উত্থান দেখা গেছে। এদিন প্রায় ২০১ পয়েন্ট বেড়েছিল সূচক। তবে এরপর টানা চার কার্যদিবসে সূচক নিম্নমুখী ছিল। এ সময়ে সূচক ১৩৪.৭৩ পয়েন্ট কমেছে। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১.২২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪.৫১ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল পাঁচ হাজার ৪০০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৮.৯৩ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল দুই হাজার ৫৯ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে সামান্য কমে এক হাজার ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল এক হাজার ৯৭ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৩টির, কমেছে ১৫৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৫০ কোটি চার লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৪.৫১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০.৬২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৬.৩১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০.২১ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাত ৮.৩১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭.৯৫ শতাংশ।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ২.০৯ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৪ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৪৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ২৭২ পয়েন্ট।