১৯১০ সালে ধনী জমিদার পরিবারে জন্ম নেন স্যামসাংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লি বাইয়ং-চুল। তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এক শিক্ষার্থী। ১৯৩০ সালে টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট করেন। তবে এর ৪০ বছর পর দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজ থেকেও সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেন লি।
৮৮ বছরের পুরনো কম্পানি স্যামসাং এখন বিশ্বের ৭৪টি দেশে ব্যবসা করছে। বিশ্বজুড়ে কম্পানিটির দুই লাখ ৬৭ হাজার ৮৬০ জন কর্মী রয়েছে। গত বছর ২৩৩.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে তারা। এতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখে স্যামসাংয়ের এআইসংবলিত হাই এন্ড স্মার্টফোন ও সেমিকন্ডাক্টর।
শুরুতে বিক্রি হতো শুঁটকি ও নুডলস
১৯৩৮ সালে লি বাইয়ং-চুল যখন স্যামসাং প্রতিষ্ঠা করেন তখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। সে সময় কম্পানিটির নাম ছিল স্যামসাং সাংহো। কম্পানিটিতে তখন কর্মী ছিল ৪০ জন। বিক্রি করা হতো চাল, সবজি, শুঁটকি ও নুডলসের মতো খাদ্যপণ্য। পরবর্তী সময়ে পরিবহন ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা শুরু করে স্যামসাং। ১৯৪৫ সাল নাগাদ কম্পানিটি পুরো দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্য সরবরাহ করত। ১৯৪৭ সালে কম্পানিটি দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং প্রদেশ থেকে রাজধানী সিউলে স্থানান্তর করেন লি। সেখানে চালু করেন সুগার মিল ও টেক্সটাইল কম্পানি। সে সময় কম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্যামসাং ট্রেডিং করপোরেশন।
বিশ্বের পঞ্চম সেরা ব্র্যান্ড
স্যামসাং ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন শুরু করে ১৯৬৯ সালে। কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর কম্পানি অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা ১৯৭৪ সালে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা বড় করে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বপ্রথম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করেছিল কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর। দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে থাকায় তারা স্যামসাংয়ের কাছে ব্যবসা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়।
১৯৮৭ সালের নভেম্বরে সিউলে লি বাইয়ং-চুলের মৃত্যু হয়। এরপর লি বংশের পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের হাত ধরেই বিশ্বের পঞ্চম সেরা ব্র্যান্ডে পরিণত হয় স্যামসং।
টিভির বাজারে শীর্ষে স্যামসাং
বর্তমানে গ্যালাক্সি সিরিজের স্মার্টফোনের পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন, টিভি, কম্পিউটার, সাউন্ডবার ও ফ্রিজ তৈরি করে থাকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। এ ছাড়া তারা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর, ইমেজ সেন্সরস, ক্যামেরা মডিউল ও ডিসপ্লে বানিয়ে থাকে। এসব ইলেকট্রনিক উপাদানের ক্রেতা অ্যাপল, সনি, এইচটিসি ও নোকিয়া। ২০২৫ সালের হিসাবে কম্পানিটির ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫০ কোটি ডলার। বিশ্ব টিভির বাজারে স্যামসাং শীর্ষে রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিভি নির্মাতা কম্পানি স্যামসাং। ২০২৫ সালের হিসাবে তাদের মার্কেট শেয়ার ২৯.৮৯ শতাংশ।
স্যামসাং বাংলাদেশ
দেশে স্যামসাংয়ের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে আশির দশক থেকে। ২০০৯ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ব্র্যান্ড অফিস চালু করে। স্যামসাং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (এসআরবিডি) প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। স্যামসাংয়ের আগে কোনো বহুজাতিক কম্পানি বাংলাদেশে আরঅ্যান্ডডি সেন্টার স্থাপন করেনি। ২০১৮ সালে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে অংশীদারি করে নরসিংদীতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে স্যামসাং। কারখানাটিতে গ্যালাক্সি নোট ১০ সিরিজ সংযোজন করা হয়। ফোনগুলো বাজারে আসে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। পুরোপুরিভাবে স্যামসাং ফোনের উৎপাদন শুরু হয় ২০২০ সালের শেষ দিকে।
সূত্র : এসিও ডটকম, স্যামসাং রিসার্চ





