• ই-পেপার

বাহারি ইফতার

<li>ইফতারে সবাই সুস্বাদু খাবার খেতে চান। ইফতারের পাতে রাখতে পারেন নিচের পদগুলো। সাতটি ইফতার আইটেমের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী নাজিয়া ফারহানা চিয়া ফ্রুট ফিউশন গ্লাস</li>

লেপ-কম্বল তুলে রাখার আগে

লেপ ও কম্বল তুলে রাখার সময় এসে গেছে। কিছু নিয়ম মেনে এসব তুলে রাখলে পরের বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। লিখেছেন আয়েশা সিদ্দিকা স্বর্ণা

লেপ-কম্বল তুলে রাখার আগে
শীতের কাপড় তুলে রাখার আগে ধুয়ে শুকিয়ে নিন

শীতের কাপড় পরিষ্কার না করে তুলে রাখা হলে পরবর্তী সময়ে নানা রকম সমস্যা হতে পারে। এ জন্য তুলে রাখার আগে ধুতে যদি না-ও পারেন, অন্তত ড্রাই ওয়াশ করিয়ে নিন। পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেরুন নেসা।

লেপ : শিমুল তুলার লেপ ধোয়া বা ড্রাই ওয়াশ করা যায় না। লেপটি শুধু রোদে দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। একটানা কয়েক দিন রোদে দিন। তারপর ঝেড়ে নিতে হবে। ঝাড়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। তবে লেপের কাভার ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। এরপর লেপ কাভারে তুলে ভাঁজ করে আলমারিতে রেখে দিন।

কম্বল : কম্বল তুলে রাখার আগে অনেকে ড্রাই ওয়াশ করিয়ে থাকেন। এটি করতে পারলে তো ভালো। চাইলে নিজেও কম্বল পরিষ্কার করতে পারেন। পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে ঘন ফেনা করে নিন। এরপর কম্বল ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে হালকা হাতে কচলে ধুয়ে ফেলুন। এরপর পানি ঝরিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিন। কম্বল রাখার জন্য দোকান থেকে যে প্লাস্টিকের ব্যাগ দেওয়া হয়, সেটিতে তুলে রাখুন।

কাঁথা : শীতে ব্যবহূত কাঁথা সাধারণত হালকা পুরু হয়ে থাকে। কাঁথা যেকোনো লন্ড্রি ওয়াশ বা ঘরে হ্যান্ড ওয়াশ করা যায়। ডিটারজেন্ট দিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে হাতে কেচে ধুয়ে ফেলুন।

শাল-সোয়েটার : সুতি কাপড় [যেমনশাল, সোয়েটার, লেপ-কম্বলের কাভার] ভিজিয়ে রাখতে মাঝারি তাপমাত্রার গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্র তন্তু দিয়ে তৈরি অনুষঙ্গ ভিজিয়ে রাখতে গরম পানি ব্যবহার করবেন না। এতে কুঁকড়ে যেতে যেতে পারে। টানলে বাড়ে এমন কাপড় ঝুলিয়ে শুকানো যাবে না।   

 

 

 

 

রোজায় আর্দ্রতা ধরে রাখুক ত্বক

রমজানে দীর্ঘ সময় অনেকে পানিশূন্যতায় ভোগেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। ত্বক টান টান লাগে, নিস্তেজ দেখায়, মেকআপ বসে না, সূক্ষ্ম রেখা স্পষ্ট হয়। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার উপায় নিয়ে লিখেছেন প্রিয়াঞ্জলি রুহি

রোজায় আর্দ্রতা ধরে রাখুক ত্বক
ইফতার ও সাহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়। মডেল : আকলিমা কনিকা, ছবি : এটুজেড

পানি পান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার থেকে সাহরির মধ্যে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি ধীরে ধীরে পান করা উচিত। আবার অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীর তা ধরে রাখতে পারে না। তাই পানি পান করতে হবে বুঝেশুনে। ইফতারের সঙ্গে এক-দুই গ্লাস, নামাজের পর এক-দুই গ্লাস, ঘুমের আগে এক গ্লাস, সাহরিতে দু-তিন গ্লাস পানি পান করা ভালো। ক্যাফেইন (চা ও কফি) ডায়ুরেটিক হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। সাহরিতে কফি এড়িয়ে চলা ভালো।

ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স

শুধু পানি নয়, শরীরে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের ভারসাম্যও জরুরি। ডাবের পানি, লেবু পানি, তরমুজ, শসাএগুলো প্রাকৃতিকভাবে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত ত্বকের কোলাজেন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

স্কিন ব্যারিয়ার রক্ষা

ডিহাইড্রেশনের বড় কারণ হলো ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যাওয়া। এই ব্যারিয়ার ঠিক রাখতে প্রয়োজন হায়ালুরোনিক এসিড, যা ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। গ্লিসারিন আর্দ্রতা টানে। সিরামাইড ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত করে। প্যানথেনল ত্বক শান্ত রাখে। ইফতারের পর মুখ পরিষ্কার করে হালকা ভেজা ত্বকে সিরাম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন

রমজানে ভারী, তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে ঘাম ও ব্রণ বাড়তে পারে। জেল-বেইসড বা ওয়াটার-বেইসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সকাল ও রাতে ব্যবহার করা ভালো।

সানস্ক্রিন

ডিহাইড্রেটেড ত্বক সূর্যের ইউভি রশ্মিতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রোদে বের হলে দু-তিন ঘণ্টা পর পুনরায় লাগানো উচিত।

ঠোঁটের ডিহাইড্রেশন

রমজানে প্রথমে ফাটে ঠোঁট, তারপর ত্বক। কারণ ঠোঁটে তেলগ্রন্থি নেই। এ সময় পেট্রোলাটাম ল্যানোলিন বেইসড লিপবাম ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ম্যাট লিপস্টিক কম ব্যবহার করতে হবে এবং জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। কারণ এতে ঠোঁট আরো বেশি শুকিয়ে ফেটে যেতে পারে।

খাদ্যতালিকা

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড (চিয়া সিড, বাদাম ও মাছ) ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার শক্ত করে। ভিটামিন সি (কমলা ও মাল্টা) কোলাজেন সাপোর্ট করে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার ত্বকে প্রদাহ বাড়ায়।

পর্যাপ্ত ঘুম

কম ঘুম ত্বকের মেরামতপ্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

ক্লিনজিং ও এক্সফোলিয়েশন কমান

বারবার ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একবারের বেশি স্ক্রাব বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশন করবেন না।

ইনডোর ডিহাইড্রেশন

এসি রুমে দীর্ঘ সময় থাকলে বাতাস শুষ্ক হয়। রোজায় এটি আরো বেড়ে থাকে। এ জন্য হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটি না থাকলে রুমে পানিভর্তি বাটি রাখুন।

গরম পানিতে মুখ ধোয়া

ইফতারের আগে ক্লান্তি দূর করতে অনেকে গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে থাকেন। এতে স্কিন ব্যারিয়ার দ্রুত নষ্ট হয়। তাই সরাসরি গরম পানি ব্যবহার না করে কুসুম গরম বা ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন।

ভারী মেকআপের প্রভাব

ডিহাইড্রেটেড ত্বকে ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন দিলে ত্বক আরো শুষ্ক দেখায় এবং ফাইন লাইন স্পষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার। লাইট বেইস বা শুধু কনসিলারও ব্যবহার করতে পারেন।

রাতের যত্ন

অনেকে সারা দিনের ক্লান্তিতে ইফতারের পর মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পড়েন। অথচ রাতেই ভালোমতো স্কিন রিপেয়ার হয়। এ জন্য ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে হাইড্রেটিং সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে তবেই ঘুমানো উচিত।

অতিরিক্ত লবণ ও ভাজা খাবার

ইফতারে বেশি লবণ শরীরে পানি ধরে রাখলেও ত্বকে ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। ফলে এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

 

 

 

 

 

ভাজাপোড়া যদি খেতেই চান...

মুড়িমাখা, পিঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, বুন্দিয়া, চপ, পাকোড়া—এসব না হলে বাঙালি মুসলমানের ইফতারিটা ঠিক জমে না। তবে খালি পেটে ভাজাপোড়া না খাওয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিছু উপায় মেনে ভাজাপোড়া খাওয়া যেতে পারে। জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো লিখেছেন শাকিল রানা

ভাজাপোড়া যদি খেতেই চান...
রমজানে বুঝেশুনে ভাজাপোড়া খাওয়া উচিত। ছবি : সংগৃহীত

ইফতারে অনেকের পছন্দের খাবার ভাজাপোড়া। বিশেষ করে নানা রকম ভাজাপোড়া খাবার দিয়ে তৈরি মুড়িভর্তা না হলে অনেকের ইফতারটা ঠিক জমে না। আবার জিলাপি, কাবাব, পরোটা, মাংস, পাকোড়াও চাই অনেকের। এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও খান অনেকে। রমজানের সময় রোগীসহ সবার জন্যই ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া ভালো। তার পরও ইফতারে যদি তেলে ভাজা খাবার খেতেই হয়, তাহলে সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে।

প্রথমেই খাবার নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইফতার আয়োজনে ভাজাপোড়া খাবার রাখলেও সেগুলো দিয়ে শুরু করা যাবে না। প্রথমে পানি খেয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের শরবত বা একটি ডিম, সঙ্গে কয়েকটি খেজুর খেতে পারেন। সহজে হজম হয় এমন খাবার; যেমনদই চিড়া, সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি দিয়ে ইফতার করুন। এরপর ভাজাপোড়া খাবার খান। তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।

ভাজাপোড়া যদি খেতেই চান...

অনেকেই ছোলামাখা, বেগুনি, পিঁয়াজু, চানাচুর, সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, আলুর চপ, জিলাপি ইত্যাদি একত্রে মুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে মুড়িভর্তা বানিয়ে ইফতারের সময় খেয়ে থাকেন। খাবারটি ইফতারে কমবেশি সবার কাছেই জনপ্রিয়। তবে এ ধরনের খাবার প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয়। মাঝেমধ্যে খেতে পারেন। সেটিও শুরুতে নয়। আগে খেজুর, শরবত বা স্বাস্থ্যকর কোনো আইটেম দিয়ে ইফতার করে তারপর খেতে হবে। এতে অ্যাসিটিডি কম হবে। প্রতিদিন ইফতারে কয়েক পদ ভাজাপোড়া আইটেম না রেখে একটি পদ রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একটি নিয়ম মানতে পারেনএক দিন বেগুনি, পরদিন পিঁয়াজু, তার পরের দিন আলুর চপ বা কাটলেট। এভাবে ধারাবাহিকভাবে একটি করে পদ খেতে পারেন। মুড়িভর্তার ক্ষেত্রে মসলামাখা ছোলার পরিবর্তে সিদ্ধ ছোলা ব্যবহার করতে পারেন। এতে ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়া কম হবে। সমস্যাও কম হবে। যাঁদের ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা ইফতারে কী পরিমাণ ভাজাপোড়া খেতে পারবেন, তা আগে থেকে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

ভাজাপোড়ার ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করুন। বাজার থেকে ভাজাপোড়া খাবার কেনা বাদ দিন। বাড়িতে নিজের পছন্দমতো ভাজাপোড়া খাবার বানাতে হবে। ভাজাপোড়া তৈরির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সাধারণত ভাজাপোড়া খাবারগুলো ডুবোতেলে রান্না করা হয়। এই রান্না করা তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবে না। একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হবে। ভাজা উপকরণগুলো থেকে তেল শুষে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। কোনো কিছু ভেজে ব্লটিং পেপার বা টিস্যুর ওপর রেখে দিতে পারেন। অতিরিক্ত তেল ব্লটিং পেপার বা টিস্যু শুষে নেবে। কিছু খাবার আছে ডুবোতেলে রান্না না করে অল্প তেলে রান্না করতে পারেন।

যদি সম্ভব হয় ভাজাপোড়া করতে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন। এই উপায়ে তেল ব্যবহার ছাড়াই যেকোনো কিছু ভাজাপোড়া করা যায়। চাইলে শ্যালো ফ্রাই করেও খেতে পারেন। এতেও কম তেল খাওয়া হবে। এসব উপায় মানলে ইফতারে যেমন ভাজাপোড়া খাওয়ার সাধ মিটবে, আবার রমজানে অসুস্থ হওয়ারও ভয় থাকবে না।

 

 

 

 

সাহরির সহজপাচ্য পদ

সারা দিন পানাহারে বিরত থেকে পালন করতে হয় সিয়াম। এ জন্য সাহরি হওয়া চাই এমন, যেন সারাদিনে তৃষ্ণা বা ক্ষুধা কম পায়। আবার সে খাবারটা হতে হবে সহজপাচ্য। এমন পাঁচটি পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী লিপি ইসমাইল

সাহরির সহজপাচ্য পদ

লাউ শোলের ঝোল

উপকরণ

লাউ মাঝারি একটি, শোল মাছ আট থেকে ১০ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, আদা ও রসুন বাটা, জিরা গুঁড়া, পাঁচফোড়ন গুঁড়া আধা চা চামচ করে, হলুদ গুঁড়া ও মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ করে, টমেটো কুচি একটি, কাঁচা মরিচ ফালি দু-তিনটি, ধনেপাতা কুচি এক টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ এবং লবণ স্বাদমতো।

সাহরির সহজপাচ্য পদ

 

যেভাবে তৈরি করবেন

*    লাউ ধুয়ে ছোট টুকরা করে কেটে নিন। মাছের টুকরা ভালো করে ধুয়ে নিন। পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে এতে সব গুঁড়া মসলা, আদা-রসুন বাটা ও লবণ দিয়ে কষিয়ে মাছ দিন।

*  পাঁচ মিনিট কষিয়ে মাছ তুলে নিন। এরপর লাউ দিয়ে মসলায় ভালো করে নেড়ে ঢাকনা দিন। লাউ থেকে পানি বের হলে মাছ দিয়ে ভালো করে নাড়ুন।

*   এরপর সামান্য পানি দিয়ে ঝোলটা ভালো করে নেড়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। ঝোল ফুটে উঠলে টমেটো কুচি ও কাঁচা মরিচ কুচি দিন। মাছ পুরোপুরি হয়ে এলে এবং ঝোল কিছুটা শুকিয়ে এলে ওপরে ধনেপাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাত ও লেবুর সঙ্গে পরিবেশন করুন। সাহরিতে এই পদটি খেলে সারা দিন পেট ঠাণ্ডা রাখবে।

 

বাঁধাকপি ডিমের কারি

 

উপকরণ

ভাপানো বাঁধাকপি দুই কাপ, ডিম চারটি, আলু ডুমো করে কাটা একটি, হলুদ ও মরিচ গুঁড়া এক চা চামচ করে, গোলমরিচ গুঁড়া, পেঁয়াজ কুচি, গরম মসলা গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা আধা চা চামচ করে, সয়াবিন তেল আধা কাপ, কাঁচা মরিচ তিন-চারটি, লবণ স্বাদমতো এবং বেসন এক কাপ।

সাহরির সহজপাচ্য পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*  প্রথমে ডিম, বাঁধাকপি, আদা ও রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, গোলমরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে খুব ভালো করে মিশ্রণটি ফেটিয়ে নিন।

*  এবার পুডিং তৈরির পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে ওপরে ঢাকনা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্টিম করুন। হয়ে গেলে নামিয়ে টুকরা করে কেটে নিন।

*   এবার বেসন ও পরিমাণমতো পানি দিয়ে একটু ঘন ব্যাটার করে নিন। ভাপা ডিম, বাঁধাকপির মিশ্রণের টুকরাগুলো ব্যাটারে ডুবিয়ে তেল গরম করে ভেজে তুলুন।

*  এক টেবিল চামচ তেল গরম করে এতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে, গুঁড়া মসলা, লবণ, পরিমাণমতো পানি দিয়ে কষিয়ে আলু ও এক কাপ পানি দিয়ে ঢাকনা দিন। আলু সিদ্ধ হয়ে এলে ভেজে রাখা ডিম বাঁধাকপির পাকোড়া, কাঁচা মরিচ ও গরম মসলা দিন। আরো দু-তিন মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখুন। এরপর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

ভাপা দই

 

উপকরণ

পানি ঝরানো টক দই এক কাপ, কনডেন্সড মিল্ক এক কাপ, দুধ আধা কাপ, জাফরান এক চিমটি, পেস্তাবাদাম কুচি এক টেবিল চামচ এবং তেল এক চা চামচ।

সাহরির সহজপাচ্য পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*  প্রথমে দই ও কনডেন্সড মিল্ক বাটিতে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দুধ দিয়ে নেড়ে নিন। এবার এতে দুধে গোলানো জাফরান দিয়ে মিশিয়ে নিন।

*  ছোট কাটোরিতে তেল ব্রাশ করে মিশ্রণটি ঢেলে ওপরে বাদাম কুচি দিয়ে ফয়েল পেপার দিয়ে কাটোরির মুখটি ভালো করে আটকে দিন। একটি পাতিলে পানি গরম করে এতে স্ট্যান্ড বসিয়ে ওপরে কাটোরিগুলো রেখে ১৫ মিনিট ভাপ দিয়ে নিন।

*  ভাপ দেওয়া হলে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে দুই ঘণ্টা সেট হতে দিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা মজাদার ভাপা দই। সাহরিতে এই পদটি খেলে সারা দিন শরীর ঠাণ্ডা থাকবে।

 

 

চালতার ডাল

 

উপকরণ

মসুরের ডাল আধা কাপ, চালতা তিন-চার ফালি, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, আদা-রসুন বাটা আধা চা চামচ, তেল এক টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি একটি, রসুন তিন-চার কোয়া, কাঁচা মরিচ দু-তিনটি, আস্ত জিরা ও আস্ত পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ করে এবং লবণ স্বাদমতো।

সাহরির সহজপাচ্য পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*   ডাল ধুয়ে পরিমাণমতো পানিতে হলুদ গুঁড়া, আদা-রসুন বাটা ও লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে ঘুঁটনি দিয়ে ঘুঁটে চালতার টুকরা দিয়ে দিন। চালতা সিদ্ধ হলে লবণ চেখে এতে আস্ত কাঁচা মরিচ দিন।

* আরেকটি পাত্রে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি হালকা বাদামি করে ভেজে জিরা ও পাঁচফোড়ন দিয়ে এক-দুই মিনিট নেড়ে মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে ঢাকনা দিন। কিছুক্ষণ রেখে তারপর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। সাহরিতে অনেকেই টক খাবার পছন্দ করেন, বিশেষ করে বয়স্করা। তাঁরা রমজান মাসে নিয়মিত পাতে এই পদটি রাখতে পারেন।

 

নরম খিচুড়ি

 

উপকরণ

পোলাওয়ের চাল তিন কাপ, মসুর ডাল, মটর ডাল, ছোলার ডাল, মুগ ডাল ও মাষকলাই ডাল আধা কাপ করে, তেজপাতা দুটি, পেঁয়াজ ১০টি, আদা বাটা, মরিচ বাটা ও ধনে বাটা এক টেবিল চামচ করে, রসুন বাটা এক চা চামচ, হলুদ বাটা দুই চা চামচ, ঘি আধা কাপ, ভাজা জিরা গুঁড়া আধা কাপ এবং কাঁচা মরিচ ১০টি।

সাহরির সহজপাচ্য পদ

যেভাবে তৈরি করবেন

*   চাল ও ডাল একসঙ্গে ধুয়ে পানি দিয়ে চুলায় দিন। চাল-ডাল সিদ্ধ হলে এবং পানি অর্ধেক শুকালে সব বাটা মসলা, তেজপাতা ও লবণ দিয়ে দিন। খিচুড়ি ঘন ঘন নাড়তে হবে।

*  পাঁচটি পেঁয়াজ মোটা করে কেটে শিলে ছেঁচে নিন। খিচুড়ি ঘন হয়ে এলে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে পাঁচ মিনিট পরে নামান।

*   বাকি পাঁচটি পেঁয়াজ ঘি দিয়ে ভেজে বেরেশতা বানিয়ে ঘিসহ খিচুড়ির সঙ্গে ভালো করে মেশান। পাতিলের মুখ সামান্য খোলা রেখে ঢেকে রাখতে হবে। ব্যস, হয়ে গেল মসলাদার নরম খিচুড়ি। সাহরির পদে ভিন্নতা আনতে রাখতে পারেন এই পদটি।