• ই-পেপার

আমার সংকটে আলোর দিশা শুভসংঘ

<li>ইফফাত জাহান বিথী, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়</li>

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

ফেব্রুয়ারির প্রথম সকাল থেকেই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর ভাষাসৈনিক ও শহীদদের স্মরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। একুশের গান, আলোচনা, শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন করা, বর্ণমালা প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ পালন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মুক্ত আলোচনা। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনে মহান নায়কদের বীরত্ব ও অবদান, শুদ্ধ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা, বাংলা ভাষাকে বৈশ্বিকায়ন করা, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষার অবস্থান এবং ভাষাকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আব্দুল মমিন, রিয়াদুস সালেহীন, প্রিয়া আক্তার, হানিফ আলী, শারমিন, শিরিন আক্তার, সামিয়া তাসনিম, রওশন ইসলাম, শাকিল মিয়া, ফরহাদ আহমেদ, কেন্টন চাকমা, রিপন মিয়া, রাজিব সরকার, ফারিহা, মেহেদি, মারিয়া খাতুন, সানজিদা আকতার, মুসলেমিনা সুলতানা, শাহিদা আক্তারসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে রূপগঞ্জ থানা শাখার তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তারাব বিশ্বরোড এলাকার শহীদ মিনারে পরিচ্ছন্নতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সকালে সোনালি রোদ গায়ে লাগার সঙ্গে সঙ্গেই একদল তরুণ পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় শহীদ মিনারে। কারো হাতে ময়লা পরিষ্কারের ব্যাগ, কারো হাতে পানির পাত্র। সবার একটিই লক্ষ্য ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটিকে পরিচ্ছন্ন করা। আয়োজকরা বলেন, ভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখা মানে আমাদের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়কে সম্মান করা। তরুণদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দেশ, ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা এখনো অটুট।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

বান্দরবান

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের প্রত্যয়ে ‘মায়ের কথা, আমার ভাষা’ শিরোনামে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, বান্দরবান জেলা শাখা। পার্বত্য জনপদের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এই আয়োজনে অংশ নেন জেলার ১২টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। আয়োজকরা বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষাসহ সব সংগ্রাম ও আন্দোলনের উৎস এবং প্রেরণা। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালিদের মিলেমিশে বসবাস। নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, খেয়াং, লুসাই, বম, ম্রো, খুমি, চাক ও পাংখোয়া সম্প্রদায়। প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, যা বাংলাদেশের সামগ্রিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। মায়ের ভাষা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। যে জাতি তার ভাষাকে সম্মান করতে জানে না, সে জাতি তার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকেও হারিয়ে ফেলে। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা আমাদের জাতীয় ঐক্যের শক্তি। ভাষা সংরক্ষণ মানে কেবল শব্দ রক্ষা নয়, এটি আমাদের আত্মমর্যাদা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলুক, লিখুক এবং গর্ব অনুভব করুক।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

মণিরামপুর, যশোর

পয়লা ফেব্রুয়ারি সকালে মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ বেদিতে অনুষ্ঠিত হয় আবেগঘন স্মরণানুষ্ঠান। ভাষার গান, কবিতা আবৃত্তি ও হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপস্থিত সবাই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান আত্মত্যাগীদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশ। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন শিল্পী সঞ্জয় মল্লিক, দ্বীপজয় বিশ্বাস, কাঞ্চন ঘোষাল, বাপন সরকার, রামপ্রসাদ টুটুল, নূপুর মল্লিক, ডা. হাবিবুর রহমান ও অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতার।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ফেব্রুয়ারি আমাদের স্মরণ করায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। বাতাসে যেন রক্তলাল রাজপথের গন্ধ। মনে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা। চারদিকে ব্যানার, পোস্টার, স্লোগান, আবৃত্তি আর ভিন্নধর্মী সব স্মৃতিচারণা। বসন্তের বিকেলে ভাষার শিকড়ে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ভাষার মাসকে স্মরণীয় করতে বাংলা বর্ণমালা শুদ্ধ উচ্চারণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই আয়োজন করা হয়। কবি অতুল প্রসাদ সেনের গান ‘মোদের গরব মোদের আশা; আ-মরি বাংলা ভাষা’ লেখা একটি ব্যানারে সাজানো হয় মঞ্চ। ধানের শুকনা খড়ের ওপর লাগানো হয় ককশিটের তৈরি বাংলা বর্ণগুলো। রঙিন এই বর্ণগুলো যেন ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলেছে।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

বারেক টিলা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বারেক টিলা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। ভূমি থেকে ৪০০ ফুট উঁচু ৩৬৫ একর বিস্তৃত যাতায়াতে দুর্গম বারেক টিলাটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এই বিদ্যালয় এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো শহীদ মিনার নেই। রাত পোহালেই একুশে ফেব্রুয়ারি। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকদের সহায়তা নিয়ে বাঁশ, রশি ও কাগজ দিয়ে নিজ হাতে তৈরি করল প্রাণের শহীদ মিনার। দৃষ্টিনন্দন এই টিলায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল মাঠে নিজ হাতে গড়া অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি মিলে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। তারা শহীদ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে চায়, ভোরে প্রভাতফেরিও করবে। করবে গান ও কবিতা আবৃত্তি। এ জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার চায়। শিক্ষার্থীদের দাবি ও শিক্ষকদের আগ্রহে সবাই মিলে বিদ্যালয়ের মাঠে বাঁশ, রশি ও কাগজ দিয়ে তৈরি করে অস্থায়ী এই শহীদ মিনার। বারেক টিলা এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে ও শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। টিলায় ৬৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার বসবাস করে। বিদ্যালয় এলাকার আশপাশে আরো শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের বসবাস। স্থানীয় বাঙালিদের চেয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ওরা অনেক অগ্রসর। তারা টিলার আদি বাসিন্দা। শহীদ মিনার তৈরিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিশুদের আগ্রহ বেশি ছিল।

 

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

দিনাজপুর সরকারি কলেজ

‘ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, এ আমাদের আত্মপরিচয়ের স্তম্ভ’ ভাষাশহীদদের অমর স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনারকে ঘিরে বাঙালির আবেগ, গর্ব ও ভালোবাসা চিরন্তন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করল বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা। সম্প্রতি এক সকালে পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম হাতে নিয়ে শহীদ মিনারে হাজির হন শুভসংঘের বন্ধুরা। ঝাড়ু, ব্রাশ ও পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করে তোলা হয় পুরো এলাকা। সবার একটিই লক্ষ্য ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানকে নতুন করে সাজানো। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. লুত্ফর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘খুব সুন্দর একটি উদ্যোগ। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মাঝে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে। বসুন্ধরা শুভসংঘকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাহতাবুল হক, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছির আরাফাত রাফি, দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরুপ কুমার রায়সহ অন্য সদস্য বন্ধুরা।

 

 

 

 

 

 

 

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ

সারোয়াত হোসেন বুশরা, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আমি। আমার বিগত বছরগুলোর ফলাফল খুবই ভালো। এসএসসি পরীক্ষায় মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছি। আমার পারিবারিক অবস্থা বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন। কারণ বাবার একটি ব্যবসা ছিল। কভিড-১৯ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক মন্দা চলছিল, সেই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি মানুষকে বেকারত্বের জ্বালা ভোগ করতে হয়েছে। আমার বাবাও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন দুর্ভাগা। তাঁর ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ছয় সদস্যের সংসার কোনো রকমে চলছিল। আমার বোনের একটি ছোট চাকরি থাকায় কোনো রকমে চলছিল।

আমার পড়ালেখায়ও খুব সমস্যা হচ্ছিল। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য মনে হয় উচ্চশিক্ষা এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ। আমি তো কোনো টিউশনি বা উপার্জনের রাস্তা পাচ্ছিলাম না।
নিরুপায় হয়ে কারো সহায়তা খুঁজেছি। অবশেষে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে আমি তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষাগ্রহণ কিংবা চলাফেরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের খরচ সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে; যেমন—এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের সহায়তা নিতে হয়। পড়াশোনার ক্ষেত্রে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে একজন রিডার নিযুক্ত করতে হয় এবং পরীক্ষাকালে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এসব বিষয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়। ফলে যদি কোনো কারণে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এককথায় সেটিই হবে আমার শিক্ষাজীবনের পথে একটি বিশাল প্রাচীর। তখন আমার উচ্চশিক্ষা মাঝপথে থেমে যাবে এবং উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নের অকালমৃত্যু মেনে নিতে হবে। আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাদের জন্য অনেক দোয়া করি।

 

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা

মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম নাঈম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা

ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। চোখে কিছুটা দেখতে পেলেও সে দেখা স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়ালেখা ও দৈনন্দিন চলাফেরায় আমাকে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ক্লাসে যাওয়া, পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে আমার জীবন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আমার পরিবার অত্যন্ত অসচ্ছল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে আমি টিউশনি করতে পারি না। অথচ পড়ালেখা চালিয়ে নিতে আমাকে অনেক ক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, পরীক্ষার সময় শ্রুতিলেখক নেওয়া, এমনকি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও সহায়তার দরকার হয়। এর সঙ্গে থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়ে আমার অর্থনৈতিক সংকট আরো তীব্র হয়ে ওঠে। এমন কঠিন সময়ে এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি, বসুন্ধরা শুভসংঘ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করে। আমি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিই এবং আল্লাহর রহমতে সেখানে নির্বাচিত হই। বর্তমানে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে বৃত্তি প্রদান করছে, তা দিয়ে আমি মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন ও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছি। এই সহযোগিতার জন্য আমি বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করি, বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও আমার মতো আরো অসংখ্য অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াবে।

 

আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়েছে

মো. রেদুয়ান মিয়া, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়েছে

ছোটবেলা থেকে আমার শরীরের ডান সাইড প্যারালাইজড। মানে আমি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী। পারিবারিবভাবেও আমরা খুবই দরিদ্র। তার পরও শত বাধা পেরিয়ে পড়াশোনা করেছি। অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। ভর্তি শেষে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসি, তখন ভাবছিলাম টিউশনি করে পড়াশোনার যাবতীয় খরচ মেটাব। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। প্রতিবন্ধীদের জন্য টিউশনি পাওয়া খুব কঠিন বিষয়। অনেক দিন হলেও কোনো টিউশনি ম্যানেজ করতে পারিনি। দু-একটি ম্যানেজড হলেও অনেক দূরে হতো অথবা আমার ক্যাম্পাসের আশপাশে হতো না। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দূরে কোথাও টিউশনি করতে যেতে পারিনি। আর পরিবার প্রতি মাসে আমাকে এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। সব মিলিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম কয়েক মাস অনেক হতাশার মধ্যে কাটিয়েছি। হঠাৎ একদিন আমার হলের এক ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি বসুন্ধরা শুভসংঘ সম্পর্কে। ভাই বললেন, তোমাদের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং নিডি শিক্ষার্থীদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। সেই স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমি এই শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি। আমার ফিন্যানশিয়াল কন্ডিশন জেনে আমাকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করেন তিনি। আলহামদুলিল্লাহ, এই স্কলারশিপ পাওয়ার মাধ্যমে আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়। এখন আমার ফিন্যানশিয়াল কন্ডিশন নিয়ে আগের মতো চিন্তা করতে হয় না। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে এবং বসুন্ধরা শুভসংঘকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিনতম সময়ে ফিন্যানশিয়াল এইডের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য আমি আপনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।