• ই-পেপার

গান-কবিতা আর আলোচনায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

<li>ফেব্রুয়ারির প্রথম সকাল থেকেই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর ভাষাসৈনিক ও শহীদদের স্মরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। একুশের গান, আলোচনা, শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন করা, বর্ণমালা প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ পালন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস</li>

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ

সারোয়াত হোসেন বুশরা, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আমি। আমার বিগত বছরগুলোর ফলাফল খুবই ভালো। এসএসসি পরীক্ষায় মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছি। আমার পারিবারিক অবস্থা বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন। কারণ বাবার একটি ব্যবসা ছিল। কভিড-১৯ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক মন্দা চলছিল, সেই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি মানুষকে বেকারত্বের জ্বালা ভোগ করতে হয়েছে। আমার বাবাও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন দুর্ভাগা। তাঁর ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ছয় সদস্যের সংসার কোনো রকমে চলছিল। আমার বোনের একটি ছোট চাকরি থাকায় কোনো রকমে চলছিল।

আমার পড়ালেখায়ও খুব সমস্যা হচ্ছিল। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য মনে হয় উচ্চশিক্ষা এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ। আমি তো কোনো টিউশনি বা উপার্জনের রাস্তা পাচ্ছিলাম না।
নিরুপায় হয়ে কারো সহায়তা খুঁজেছি। অবশেষে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে আমি তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষাগ্রহণ কিংবা চলাফেরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের খরচ সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে; যেমন—এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের সহায়তা নিতে হয়। পড়াশোনার ক্ষেত্রে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে একজন রিডার নিযুক্ত করতে হয় এবং পরীক্ষাকালে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এসব বিষয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়। ফলে যদি কোনো কারণে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এককথায় সেটিই হবে আমার শিক্ষাজীবনের পথে একটি বিশাল প্রাচীর। তখন আমার উচ্চশিক্ষা মাঝপথে থেমে যাবে এবং উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নের অকালমৃত্যু মেনে নিতে হবে। আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাদের জন্য অনেক দোয়া করি।

 

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা

মোহাম্মদ নাঈমুল ইসলাম নাঈম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা

ব্যক্তিগত জীবনে আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। চোখে কিছুটা দেখতে পেলেও সে দেখা স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়ালেখা ও দৈনন্দিন চলাফেরায় আমাকে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ক্লাসে যাওয়া, পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া—সবকিছু মিলিয়ে আমার জীবন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আমার পরিবার অত্যন্ত অসচ্ছল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে আমি টিউশনি করতে পারি না। অথচ পড়ালেখা চালিয়ে নিতে আমাকে অনেক ক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, পরীক্ষার সময় শ্রুতিলেখক নেওয়া, এমনকি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও সহায়তার দরকার হয়। এর সঙ্গে থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ হয়ে আমার অর্থনৈতিক সংকট আরো তীব্র হয়ে ওঠে। এমন কঠিন সময়ে এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি, বসুন্ধরা শুভসংঘ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করে। আমি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিই এবং আল্লাহর রহমতে সেখানে নির্বাচিত হই। বর্তমানে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে বৃত্তি প্রদান করছে, তা দিয়ে আমি মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন ও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছি। এই সহযোগিতার জন্য আমি বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আশা করি, বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও আমার মতো আরো অসংখ্য অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াবে।

 

আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়েছে

মো. রেদুয়ান মিয়া, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়েছে

ছোটবেলা থেকে আমার শরীরের ডান সাইড প্যারালাইজড। মানে আমি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী। পারিবারিবভাবেও আমরা খুবই দরিদ্র। তার পরও শত বাধা পেরিয়ে পড়াশোনা করেছি। অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। ভর্তি শেষে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসি, তখন ভাবছিলাম টিউশনি করে পড়াশোনার যাবতীয় খরচ মেটাব। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। প্রতিবন্ধীদের জন্য টিউশনি পাওয়া খুব কঠিন বিষয়। অনেক দিন হলেও কোনো টিউশনি ম্যানেজ করতে পারিনি। দু-একটি ম্যানেজড হলেও অনেক দূরে হতো অথবা আমার ক্যাম্পাসের আশপাশে হতো না। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দূরে কোথাও টিউশনি করতে যেতে পারিনি। আর পরিবার প্রতি মাসে আমাকে এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। সব মিলিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম কয়েক মাস অনেক হতাশার মধ্যে কাটিয়েছি। হঠাৎ একদিন আমার হলের এক ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি বসুন্ধরা শুভসংঘ সম্পর্কে। ভাই বললেন, তোমাদের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং নিডি শিক্ষার্থীদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়। সেই স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমি এই শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি। আমার ফিন্যানশিয়াল কন্ডিশন জেনে আমাকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করেন তিনি। আলহামদুলিল্লাহ, এই স্কলারশিপ পাওয়ার মাধ্যমে আমার ফিন্যানশিয়াল ক্রাইসিস দূর হয়। এখন আমার ফিন্যানশিয়াল কন্ডিশন নিয়ে আগের মতো চিন্তা করতে হয় না। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে এবং বসুন্ধরা শুভসংঘকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিনতম সময়ে ফিন্যানশিয়াল এইডের মাধ্যমে পাশে থাকার জন্য আমি আপনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

 

আমার সংকটে আলোর দিশা শুভসংঘ

ইফফাত জাহান বিথী, বাংলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আমার সংকটে আলোর দিশা শুভসংঘ

আমি বাংলা বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি আমি, যেখানে ছোটবেলা থেকেই মা সংসারের বেশির ভাগ দায়িত্ব বহন করে আসছেন। তিনি একটি এনজিওতে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। সংসারের খরচ, দেনা এবং আমার পড়াশোনার ব্যয়—সবকিছু সামলানো তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। বই পড়া, নোট তৈরি, অডিও  রেকর্ড করা এবং পরীক্ষায় লেখার জন্য আমাকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বেশ অর্থসাপেক্ষ। এর সঙ্গে যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরো কঠিন করে তোলে। অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একসময় মনে হচ্ছিল, হয়তো আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। এই সংকটময় মুহূর্তে আলোর দিশা হয়ে আসে বসুন্ধরা শুভসংঘ। ক্যাম্পাসের এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ইমদাদুল হক মিলন স্যার বরাবর আবেদন করি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি বসুন্ধরা শুভসংঘের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হই। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘ থেকে প্রাপ্ত মাসিক তিন হাজার ৬০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি আমার পড়াশোনার পথকে অনেক সহজ করেছে এবং আমার পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়েছ। আমি বিশ্বাস করি, বসুন্ধরা শুভসংঘ আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জীবনে আসা এক আশীর্বাদ। এই সহায়তার মর্যাদা রেখে ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে বসুন্ধরা শুভসংঘকে গর্বিত করতে চাই। পাশাপাশি কামনা করি, আমার মতো আরো অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হোক।