জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আমি। আমার বিগত বছরগুলোর ফলাফল খুবই ভালো। এসএসসি পরীক্ষায় মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে জিপিএ ৫ অর্জন করেছি। আমার পারিবারিক অবস্থা বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন। কারণ বাবার একটি ব্যবসা ছিল। কভিড-১৯ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে যে আর্থিক মন্দা চলছিল, সেই প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি মানুষকে বেকারত্বের জ্বালা ভোগ করতে হয়েছে। আমার বাবাও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন দুর্ভাগা। তাঁর ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ছয় সদস্যের সংসার কোনো রকমে চলছিল। আমার বোনের একটি ছোট চাকরি থাকায় কোনো রকমে চলছিল।
আমার পড়ালেখায়ও খুব সমস্যা হচ্ছিল। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য মনে হয় উচ্চশিক্ষা এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ। আমি তো কোনো টিউশনি বা উপার্জনের রাস্তা পাচ্ছিলাম না।
নিরুপায় হয়ে কারো সহায়তা খুঁজেছি। অবশেষে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে আমি তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষাগ্রহণ কিংবা চলাফেরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের খরচ সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে; যেমন—এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের সহায়তা নিতে হয়। পড়াশোনার ক্ষেত্রে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে একজন রিডার নিযুক্ত করতে হয় এবং পরীক্ষাকালে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
এসব বিষয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় হয়। ফলে যদি কোনো কারণে বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এককথায় সেটিই হবে আমার শিক্ষাজীবনের পথে একটি বিশাল প্রাচীর। তখন আমার উচ্চশিক্ষা মাঝপথে থেমে যাবে এবং উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্নের অকালমৃত্যু মেনে নিতে হবে। আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাদের জন্য অনেক দোয়া করি।




