• ই-পেপার

নীলফামারীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

নীলফামারীতে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলোচনাসভা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
নীলফামারীতে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলোচনাসভা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীতে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনগত দিক, সামাজিক প্রভাব, ইসলামে নারীর মর্যাদা এবং পরিবার-সমাজের করণীয় নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে নীলফামারী প্রেস ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলাম রাজার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান রাব্বি প্রধান, বর্তমান সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, সহসভাপতি আতিয়ার রহমান বাড্ডা, সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, সংগঠনের উপদেষ্টা আবু তাহের রাজা ও আব্দুর রশিদ শাহ্ প্রমুখ।

বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম শাহ্ ও সদস্য হুমায়রা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জীবন।

আলোচকরা বলেন, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। 

তারা বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। সচেতনতার মাধ্যমে ‘না’ বলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

সভায় অংশ নেওয়া নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট ও সচেতনতার অভাবে অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হয়েও নীরব থাকতে হয়। তারা নিরাপদ পরিবেশ, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সহমর্মিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

বক্তারা আরো বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সমাজের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

সভাপতির বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম রাজা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ইসলাম নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার কথা বলেছে, তাই এ ধরনের ক্ষতিকর সামাজিক প্রথা থেকে সরে আসতে পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জীবন বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। 

তিনি বলেন, ইসলামের মানবিক মূল্যবোধ ও নারীর প্রতি সম্মানবোধ পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বি এম খাজা নেওয়াজ ও গোলাম রাব্বী, অর্থ সম্পাদক সাজু ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দুলালী খাতুন, নারী বিষয়ক সম্পাদক রিদওয়ানুম ইকরা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পূজা রানী রায়, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ সম্পাদক নুর আলম, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আদুরি আক্তার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জিমু আক্তার, কার্যকরী সদস্য শীতুল, শিখা রায়, সুইটি আক্তার, কনা আক্তার, আশা মনি, রুমানা আক্তার, জেসমিন আক্তার, সুবর্ণা আক্তারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের ইফতার মাহফিল ও কোরআন শরীফ বিতরণ কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
নরসিংদীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের ইফতার মাহফিল ও কোরআন শরীফ বিতরণ কর্মসূচি

নরসিংদীর মনোহরদীতে অসহায় ও এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও কোরআন শরীফ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখা। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চন্দনবাড়ি চরপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড, মনোহরদী পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত আলাউদ্দিন কবিরাজ নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মসজিদে মসজিদভিত্তিক কোরআন শরিফ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া ইফতার মাহফিলে মুসলিম উম্মাহ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আলাউদ্দিন। তিনি বসুন্ধরা শুভসংঘের এ মহতী উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের সহমর্মিতা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের মাঝে মানবিক চেতনা জাগ্রত করে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার সভাপতি ডাক্তার সাইদুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রমজানের শিক্ষা শুধু আত্মসংযমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের অবহেলিত, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ মাসের প্রকৃত তাৎপর্য। বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য একসাথে জামাতে নামাজ আদায়ের উপযোগী একটি মসজিদ অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে এই প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারলেই সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতার ভিত্তি মজবুত হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এমন কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ডা. এমদাদুল হক সোহেল, মোখলেসুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার নেতারা। এ আয়োজন শুধু ইফতার ও কোরআন বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক সহমর্মিতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য প্রয়াস।

স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং তরুণ প্রজন্মকে সেবামূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করে। মানবতার কল্যাণে এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে বসুন্ধরা শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিকৃতি রোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতা কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিকৃতি রোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতা কর্মসূচি

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধ, ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ সবুজবাগ থানা শাখা।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সবুজবাগ থানা এলাকায় রাস্তার পাশে আয়োজিত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি পরিচালিত হয় বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের দিক নির্দেশনায় এবং সবুজবাগ থানা শাখার সভাপতি সাগির মো. ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদিরের নেতৃত্বে।

এ সময় সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও সঠিক ব্যবহারের বার্তা ছড়িয়ে দেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে বাংলা ভাষার সঠিক বানান ও ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পরবর্তীতে সেগুলো নিরাপদ স্থানে টাঙিয়ে রাখা হয়, যাতে শহীদ দিবস উপলক্ষে আগত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তা দেখতে পারেন এবং ভাষা ব্যবহারে সচেতন হন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. এহসানুল হক, সবুজবাগ থানা শাখার সহ-সভাপতি সাদ্দাম ও রেহানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান, ক্রীড়া সম্পাদক আকাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহাগ, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রশান্ত, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক শেফালি, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাছির ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এ সময় আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার ভিত্তি। ভাষার বিকৃতি রোধ ও শুদ্ধ চর্চা নিশ্চিত করা তরুণ প্রজন্মের নৈতিক দায়িত্ব।

রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মো. এহসানুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও শুদ্ধ চর্চা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসুন্ধরা শুভসংঘের  শ্রদ্ধাঞ্জলি

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসুন্ধরা শুভসংঘের  শ্রদ্ধাঞ্জলি
ছবি : কালের কণ্ঠ

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা কলেজ শাখা। এ উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। 

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি  মাহমুদুল হাসান শোভন, সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হক,   সহসভাপতি গগন ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, মো. নাজমুল ইসলাম ও রিপন হোসেন; প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শান্ত হাসান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সিয়াম হোসেনসহ সদস্য মিঠু দাস, অনন্ত কুমার দাস, শুভ ঘোষ, আব্দুল্লাহ, অনিক আসান, সিয়াম হাসান মারুফ, নাজমুল, শরীফ মিয়া, নাজমুস সাকিব, খান জুয়েল মিয়া, ইমরান এবং ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তী সময়ে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা কলেজ শাখা ছাড়াও বিভিন্ন ক্লাব, হল ও সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভোরে সূর্যোদয়ের পর জাতীয় পতাকাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা তা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। মিছিলে গুলিবর্ষণে শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত ও জব্বার। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ।