• ই-পেপার

বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাদাত হোসাইন

মানুষের সঙ্গী যত বাড়ে, মানুষ তত নিঃসঙ্গ হয়

২০ ফেব্রুয়ারির বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ৩২১ প্রকাশকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ ফেব্রুয়ারির বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ৩২১ প্রকাশকের
সংগৃহীত ছবি

আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্তকে বাস্তবতাবিবর্জিত, আত্মঘাতী ও প্রকাশনাশিল্পকে প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে অভিহিত করে তাতে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩২১ জন প্রকাশক।

প্রকাশকদের চাওয়া, ২০ ফেব্রুয়ারি নয়, ঈদের পরেই হোক ‘প্রাণবন্ত’ বইমেলা। ঈদের পরে মেলা হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হলে সেই ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। 

আজ রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশকরা ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ নিয়ে নিজেদের এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বইমেলা কোনো সরকারি রুটিন ওয়ার্ক বা কেবল আমলাতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মিলনমেলা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজনের যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে মেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।’

বিবৃতিতে প্রকাশকরা বলেন, “আমাদের সামগ্রিক অবস্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ মেলা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে নতুন নতুন প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ দিচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠতা ও মান যাচাইয়ের নিয়ম ভেঙে অযোগ্যদের বড় স্টল দেওয়ায় ভবিষ্যতে ভুল নজির তৈরি হবে। পরবর্তীতে এই বরাদ্দকেই তারা ‘আইনি অধিকার’ দাবি করে বিশৃঙ্খলা ও মামলা-মোকদ্দমার পথ তৈরি করবে। শূন্যস্থান পূরণের হুজুগে অযোগ্য বা সুবিধাভোগীদের জায়গা দেওয়ায় মেলার ব্যাবসায়িক পরিবেশ ও প্রকাশনার ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে প্রকৃত পেশাদার প্রকাশকরা কোণঠাসা হয়ে পড়বেন এবং মেলার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।”

আরো পড়ুন
আবাসন সুবিধা হারালেন সেই ১৫ কর্মী

আবাসন সুবিধা হারালেন সেই ১৫ কর্মী

 

প্রকাশকরা কেন ঈদের পর মেলা চান—তার ব্যাখ্যায় বিবৃতিতে পাঠকশূন্যতার আশঙ্কা, মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলে মাত্র কয়েক দিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান শুরু হবে। রোজার দিনে তীব্র গরম ও যানজট ঠেলে পাঠকরা মেলায় আসবেন না। পাঠকহীন মেলা প্রকাশক ও আয়োজক— উভয়ের জন্যই বিব্রতকর।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মেলার স্টলগুলোতে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাজ করেন। সারাদিন রোজা রেখে, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের পর এই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো অমানবিক। গত দেড় বছরে প্রকাশনাশিল্প চরম মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরো একটি অসফল মেলায় অংশ নিয়ে অবশিষ্ট পুঁজি হারানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি ‘এপ্রিলে ঝড়-বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়েছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই— ঈদের পরে মেলা হলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয়, সেই ঝুঁকি আমরা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু জেনেশুনে রোজার মধ্যে মেলা করে নিশ্চিত ব্যাবসায়িক মৃত্যুর ঝুঁকি আমরা নেব না।’

বাংলা একাডেমি ছাড়াও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার শরণাপন্ন হয়েছেন জানিয়ে বিবৃতিতে প্রকাশকরা বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল, বর্তমান সরকার অংশীজনের মতামতের গুরুত্ব দেবে। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলতে হয়, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল প্রকাশকদের এই অস্তিত্বের সংকট অনুধাবন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। রাষ্ট্র যখন কেবল বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় ব্যস্ত, তখন আমরা প্রকাশকরা অস্তিত্ব রক্ষায় লড়ছি।’

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নেওয়া আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে একটি সৃজনশীল শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়লে তার দায়ভার সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রকাশকদের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে প্রকাশনা খাত সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এবং বাংলা একাডেমির প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান—জেদ পরিহার করুন। প্রকাশকদের এই গণদাবি মেনে নিয়ে বইমেলা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করুন। যখন মানুষ উৎসবের আমেজে বই কিনবে।’

১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব
সংগৃহীত ছবি

‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’—এই দৃপ্ত প্রত্যয়ে আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব-২০২৬ হতে যাচ্ছে। ঢাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ইতিমধ্যে কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।

উৎসবের প্রথম দিন রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক ড. সলিমুল্লাহ খান।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত কবিরা উৎসবে অংশ নেবেন এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন। পাশাপাশি খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে কবিতা আবৃত্তি, কবিতার গান ও কাব্যনৃত্য—যা উৎসবকে করে তুলবে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।

আয়োজকদের মতে, হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা উগ্রবাদী অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কবিতা সব সময়ই প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা। এই উৎসব সেই প্রতিবাদী চেতনাকে আরো সংগঠিত ও শাণিত করবে। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে এই আয়োজন নতুন প্রেরণা জোগাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উৎসবে সবার আন্তরিক উপস্থিতি কামনা করেছেন আয়োজক পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং প্রধান সমন্বয়ক মানব সুরত।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইথাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ (অন্যতম আইবেলিক বিশ্ববিদ্যালয়) কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের এক অভূতপূর্ব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টারে নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় এই ব্যতিক্রমধর্মী উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে ছিল ‘নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি ও মানব চেতনার শেষ আশ্রয় : ঋত্বিক ঘটক ও থিও এঞ্জেলোপোলাসের তুলনামূলক পাঠ’ শীর্ষক সেমিনার।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল ঋত্বিকের কালজয়ী ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা ও সঙ্গীত-পরিবেশনা।

পুরো অনুষ্ঠান একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সিনেমাপিপাসু দর্শক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও অংশগ্রহণ করেছেন।

কর্নেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টার ও ব্রিটেনভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংস্থা সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি এন্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদযাপনের সেমিনার-পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক, কবি ও ঔপন্যাসিক অধ্যাপক শামীম রেজা।

চলচ্চিত্র সমালোচক ও ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষাক্রম সমন্বয়ক ড. আহমেদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক শামীম রেজা গ্রিক চলচ্চিত্রকার থিও ও বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিকের সিনেমায় মাইগ্রেশন, পার্টিশন ইত্যাকার অনুষঙ্গের ভেতর উদ্বাস্তু মানুষের এপোক্যালিপ্টিক রিয়েলিটি ও অস্তিত্ব সঙ্কটের স্বরূপ উন্মোচনে ব্রতী হন। এইসব দার্শনিক অনুষঙ্গের গভীরতা আরো নিবিড়ভাবে উদঘাটনের জন্যে ঋত্বিকের সিনেমার পাশাপাশি প্রতীচ্যের বিভিন্ন সিনেমার প্রসঙ্গও তিনি উত্থাপন করেন। তিনি ‘সুবর্ণরেখা’ চলচ্চিত্রে সীতা চরিত্রের উদ্বাস্তু জীবনের সঙ্গে বাল্মিকীর রামায়ণের সেই পরাধীন সম্রাজ্ঞী অপহৃতা সীতার তুলনামূলক আলোচনা করেন।

‘ইউলিসিস গেইজ‘ এ মূলত (আলেকজান্ডার) চরিত্রের যে বলকান দেশগুলো উদ্বাস্তু ‘এ’ চরিত্রের যুদ্ধ বিধ্বস্ত বলকান অঞ্চল ভ্রমণ যেমন হোমারের ওডিসিয়াসের ইউলিসিসে দেশ থেকে দেশে যুদ্ধ থেকে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন।

সেমিনারে মূল আলোচক কবি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক সেজান মাহমুদ সেমিনার-প্রবন্ধ ও সেমিনারের থীমকে ‘জরুরি ও অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আজকের আধুনিক মানুষের সঙ্কটের স্বরূপ বোঝার জন্যে আমরা বারবার এই উদ্বাস্তু মানুষের গল্পগুলো, সিনেমাগুলো পাঠ এবং পুনর্পাঠ করতে হবে। একই সঙ্গে জর্জিও আগামবেন এবং জগতের অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের তত্ত্বগুলোও এসব সিনেমার বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা বা ভাষ্য নির্মাণে কতটা জরুরি ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে তা নিয়েও আলোকপাত করেন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সালমা বাণী তাঁর আলোচনায় নিজের লেখা উপন্যাস ‘ইমেগ্রেশন‘ উদ্বাস্তু মানুষের জীবন বাস্তবতা ও ঋত্বিকের সিনেমার বিবিধ প্লট ও চরিত্র ইত্যাকার অনুষঙ্গ টেনে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

কবি ও সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, নীটশের ঈশ্বরবিহীন বিশ্বে জগতের সকল আধুনিক মানুষই একই সঙ্গে উদ্বাস্তু এবং শোচনীয়ভাবে নিঃসঙ্গ। তাই উদ্বাস্তু মানুষ নিয়ে সিনেমা প্রকারান্তরে আধুনিক মানুষের জটিল সঙ্কটের সঙ্কেতবাহী দ্যোতকপুঞ্জ। তিনি বলেন, থিও এঞ্জেলোপোলসের ‘ইটার্নিটি এন্ড এ ডে’ সিনেমায় গ্রীক কবি দিওনিসিস সলমসের কবিতা ও ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় সিলেটের কবি ইদম শাহের গান ‘মন তোমায় কেবা পার করে’-তে উদ্বাস্তু জীবনের যে পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সঙ্কটের ইঙ্গিত বিধৃত হয়েছে, এই রূপকল্পের অন্তর্নিহিত মর্ম ও মগ্ন মৌনতা বিশ্লেষণে এক্ষুণি তৎপর হতে হবে কারণ এতেই লুকিয়ে আছে অনেক সঙ্কটের উত্তরও। মিখাইল বাখতিন, তাঁর ক্রনোটোপ তাঁর দ্বিরালাপ তত্ত্ব এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে সহায়ক হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয়পর্বে ঋত্বিকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় ব্যবহৃত সঙ্গীত, প্রাসঙ্গিক ভাষ্যসহ পরিবেশন করেন বহির্বিশ্বে কিরানা ঘরানার শীর্ষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী। তিনি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশেষত রাগ হংসধ্বনি গাওয়া কিংবদন্তীতুল্য শিল্পী পন্ডিত এ কাননের সঙ্গীত শিষ্যা। ফলে পন্ডিত এ কাননের ঋত্বিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’র দৃশ্য-বিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া রাগ ভাটিয়ার ও হংসধ্বনি ঋত্বিক উদযাপনে যোগ করে এক নতুন মাত্রা।

সেলিম আল দীন বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন নাটকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেলিম আল দীন বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন নাটকে
সংগৃহীত ছবি

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। পাশ্চাত্য শিল্পরীতির বাইরে গিয়ে বাংলা নাটকে নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন বাংলাদেশের এ প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেলিম আল দীনের প্রয়াণদিবসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উদ্যোগে বুধবার বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার হলে এ বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীর সঞ্চালনায় সেমিনারে ‘বাঙালির নন্দনসূত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজা মোহাম্মদ আরিফ। 

আরো পড়ুন
বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবে : মোনায়েম মুন্না

বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবে : মোনায়েম মুন্না

 

রেজা মোহাম্মদ আরিফ তার প্রবন্ধে নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাট্যতত্ত্ব, দর্শন এবং জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন। প্রবন্ধে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পরীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “মূলত ভারতীয় ভক্তিবাদের পঞ্চম সূত্র ‘অচিন্ত্যদ্বৈতাদ্বৈতবাদের’ অনুপ্রেরণায় ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী’ শিল্পতত্ত্বের স্বরূপ নির্ধারিত হয়েছে। এ শিল্প মতবাদের প্রবক্তা সেলিম আল দীন। দ্বৈতাদ্বৈতবাদে পাশ্চাত্য শিল্পরীতির বহুবিভাজন রীতিকে খারিজপূর্বক এমন এক মুক্ত আঙ্গিকের অন্বেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শিল্পের একাধিক আঙ্গিক একীভূত অবস্থায় থাকতে পারে। শিল্পের বহুবিধ আঙ্গিককে এক উৎসকেন্দ্রে নিমগ্ন করে দেওয়াই এ শিল্প মতবাদের উদ্দেশ্য।”

রেজা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘সেলিম আল দীনের মতে, দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতি। দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বে বাংলা নাট্যের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি আঙ্গিক, গঠন-কাঠামো, দার্শনিক অভিপ্রায় ও পরিবেশনারীতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও তাত্ত্বিক ধারণা প্রদান করা হয়েছে।’

সেলিম আল দীনের নাটকের আঙ্গিক সম্পর্কে প্রবন্ধকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সহযোগী অধ্যাপক আরো বলেন, ‘সেলিম আল দীনের নাটকের প্রেক্ষাপট সুবিস্তৃত এবং অসংখ্য ঘটনা ও চরিত্রবহুল। তার নাটকে রয়েছে সংলাপ ও বর্ণনার তীব্র মাখামাখি। নাটকের গড়ন উপন্যাসের মতো, ভাষারীতি গদ্য ও পদ্যমথিত, গদ্য আবার কাব্যময়। তার নাটক আখ্যান, উপকাহিনী, সংলাপ, বর্ণনা, গীত, গদ্য, পদ্য ইত্যাদির সমারোহে বিচিত্রগন্ধী। সেলিম আল দীন বলেছেন, তার নাটক একইসঙ্গে উপন্যাস, কাব্য, নাটক বা আখ্যান। একাধিক স্বতন্ত্র আঙ্গিক এভাবে একসঙ্গে ব্যঞ্জিত হয় বলে এ শিল্প মতবাদকে তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদ নামে অভিহিত করেছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন নাট্য নির্দেশক জাহিদ রিপন ও লেখক আবু সাঈদ তুলু।