• ই-পেপার

২০ ফেব্রুয়ারির বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ৩২১ প্রকাশকের

ট্যাগ:বইমেলা

বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাদাত হোসাইন

মানুষের সঙ্গী যত বাড়ে, মানুষ তত নিঃসঙ্গ হয়

নাইমুর রহমান
মানুষের সঙ্গী যত বাড়ে, মানুষ তত নিঃসঙ্গ হয়

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে। সাহিত্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, উপস্থাপক ও ফটোগ্রাফার হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত তিনি। বহুমাত্রিক এই সৃজনশীলতার মাধ্যমে পেয়েছেন ব্যাপক পাঠক ও দর্শকপ্রিয়তা। পেয়েছেন বিশেষ সব পুরস্কার ও সম্মাননা।

তাঁর কাছে চারপাশের জীবন ও জগৎ, মন ও মানুষ—সবই গল্প। তিনি বিশ্বাস করেন, সিনেমা থেকে শুরু করে চিত্রকলা, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, গান, কবিতা, উপন্যাস কিংবা নাটক—সৃজনশীল প্রতিটি মাধ্যমই মূলত গল্প বলারই ভিন্ন ভিন্ন রূপ। এই গল্প বলার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি একের পর এক লিখেছেন আরশিনগর, অন্দরমহল, মানবজনম, নিঃসঙ্গ নক্ষত্র, নির্বাসন, ছদ্মবেশ, মেঘেদের দিন ও অর্ধবৃত্ত–এর মতো পাঠকপ্রিয় উপন্যাস। গল্পের মানুষ হিসেবে খ্যাত এই লেখক লেখালেখি, শিল্পভাবনা ও সময়ের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠের সঙ্গে।

কেমন আছেন? বর্তমানে কেমন সময় কাঁটছে?

ভালো মন্দ মিলিয়েই কাটছে। যদিও আমি সব পরিস্থিতিতেই ভালো থাকার চেষ্টা করি। নিজেকে বোঝাই, আমি যেমন আছি, তেমন থাকাটাও হয়তো অনেকের কাছে স্বপ্নের। ভীষণ আরাধ্য। সুতরাং সবার আগে সন্তুষ্ট হওয়াটা জরুরী।

লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার আগে ‘মানুষ সাদাত’ কেমন ছিলেন—এখনকার সাদাতের সঙ্গে কতটা পরিবর্তন?

খুব একটা না। হয়তো আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘরকুনো হয়ে গেছি। চারপাশ থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছি। কিংবা কে জানে, হয়তো সবসময়ই এমনই ছিলাম। আগে হয়তো খেয়াল করিনি। এখন যেহেতু বাইরে থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে আলাদা ইফোর্ট দিতে হয়, আগে হয়তো তেমন দিতে হতো না। চাইলেই নিজের মতো থাকা যেতো। এখন নিজের মতো থাকতে হলে প্রচুর কসরত করতে হয়। নানান অজুহাত তৈরি করতে হয়। কারণ পরিচিতি বাড়লে যা হয়, অনেক ধরনের যোগাযোগ, এনগেজমেন্ট অবধারিত হয়ে যায়। সেগুলো থেকে আড়াল থাকতে হলে নানান কৌশল ব্যবহার করতে হয়।

আপনার লেখার অনেক চরিত্র কথা বলতে পারে না—তারা চুপ করে থাকে। এই নীরবতা কি আপনাকে টানে?

ওরকম চরিত্র সম্ভবত কেবল শঙ্খচূড়েই ছিলো, গৌরী বা শৈলগিরি চরিত্রটি। আবার 'তুমি সন্ধ্যা অলকানন্দা'য় ধ্রুব খুব ইন্ট্রোভার্ট। একজন কথা বলতে চেয়েও পারে না। অন্যজন কথা বলতে পেরেও বলে না। আবার অন্দরমহলে ছিলো অন্ধ একটি চরিত্র, বিভুই। সে দেখতে পায় না। ইমেজ তৈরি করতে পারে না কল্পনায়। আবার বিকলাঙ্গ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত চরিত্র ছিল আরশিনগর, অন্দরমহল, তোমার নামে সন্ধ্যা নামে-তে।

আপনার প্রশ্নটাকে যদি আমি খানিক অন্যভাবে দেখি, তাহলে বিষয়টা ইন্টারেস্টিংই। কারণ, যে অন্ধ সে কিন্তু নিজের মতো করে একটা জগৎ তৈরি করে। নিজের উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা ও কল্পনার সংমিশ্রণে। একইভাবে যিনি কথা বলতে পারেন না, তিনিও নিজের উপলব্ধি, অভিজ্ঞতা ও ভাবনার সংমিশ্রণে একটা ভাষা তৈরি করে। যে নড়তে চড়তে পারে না, সেও কিন্তু তার ইশারায় অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায়। এদের প্রক্রিয়াগুলোই মূলত যোগাযোগের উপায়।

এখন পৃথিবী যদি আমরা এভাবে দেখি যে পৃথিবীতে আমরা যা করি, তার পুরোটাই মূলত সংযোগ তৈরির চেষ্টা, তাহলে কি সেটা ভুল? ভার্বাল ল্যাঙ্গুয়েজ, ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ, বা টেলিপ্যাথি বা এই যে এতো এতো প্রযুক্তি, মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপন, প্রত্নতাত্ত্বিকদের ইতিহাস অনুসন্ধান কিংবা একজন ক্ষুধার্তের খিদের যন্ত্রণা বোঝা, রোগীর ব্যথার যন্ত্রণা বোঝা, শীতার্তের শীতের কষ্ট, প্রেমিক প্রেমিকের পরস্পরের অনুভূতি, সাগরের তলদেশ থেকে মহাকাশ এর সবই আসলে যোগাযোগের চেষ্টা। আর তার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাষা তৈরি। ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম বা উপায়।  অন্যের অনুভূতি, অজানাকে জানতে, উপভোগ বা অনুভব করতে মানুষ যোগাযোগের এতো এতো উপায় তৈরি করছে। আমার মনে হয়, শব্দ যেমন ভাষা, তেমনি নৈঃশব্দ্যও ভাষা। পৃথিবীর সকল কিছুই আদতে ভাষা। ওই যে পাতার শব্দ, বৃষ্টির শব্দ, মেঘের গর্জন, পাখির ডাক, এমনকি হাড়ি পাতিল মাজার শব্দও ভাষা। দেখবেন, এর প্রতিটিই কোনো না কোনো ভাবে অনুভূতি তৈরি করে। অর্থাৎ যোগাযোগ তৈরি করে। তো আমি একটু একা থাকতে পছন্দ করি বলেই হয়তো ভাবি যে একা থেকেও কীভাবে নানাভাবে সংযোগ স্থাপন করা যায়। সেটা কল্পনায় হতে পারে। নৈঃশব্দ্যে হতে পারে। ইশারায় বা অনুভূতিতেও হতে পারে। এ কারণে হয়তো বিভিন্ন চরিত্রে এই ব্যাপারটি ভিন্ন ভিন্নভাবে এসেছে।

কোনো চরিত্র কি কখনো আপনাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে—যেটাকে লিখতে গিয়ে নিজেকেই চিনে ফেলেছেন?

ভয় পাইয়ে দেয়নি, তবে অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছি নিজের সঙ্গে। মনে হয়েছে নিজেকেই লিখছি। যেমন 'তুমি সন্ধ্যা অলকানন্দা' উপন্যাসের ধ্রুব চরিত্র এবং 'শঙ্খচূড়ে'র অরুণাদিত্য চরিত্রটি। মনে হয়েছে সম্ভবত আমারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষ কথা বলছে বেশি, কিন্তু বুঝছে কমএই বাস্তবতা আপনার লেখায় প্রভাব ফেলে?

এটা একটা খুব ভালো জিজ্ঞাসা। হ্যাঁ, আজকাল মনে হয় মানুষ খুব অস্থির হয়ে উঠেছে। যেন স্থির হওয়ার অবকাশ নেই তাদের। আসলে চারপাশে এতো এতো অপশন যে দ্রুত শিফট হয়ে যাচ্ছে মনোযোগ। শোনার চেয়েও সবাই বলতে চায়। এখন একটা ঘরের দশজন মানুষ যখন একইসঙ্গে বলতে চায়, তখন আসলে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না। আর শুনতে না পেলে বুঝবে কী করে? এজন্য একজন একজন করে বলতে হয়। মানছি যে আমাদের সবারই বলার মতো অসংখ্য কথা, অনুভূতি, গল্প থাকে। কিন্তু এমনওতো হয় যে যারা বলছেন, তারাও কেউ কেউ হয়তো আমার অনুভূতিটাই প্রকাশ করছেন। সুতরাং শুনলে সেটি হয়তো উপলব্ধি করা যেত। কিন্তু সকলে একসঙ্গে বললে সেই শোনাটাও যেমন হয় না। উপলব্ধিটাও না।

কখনো কি মনে হয়েছে, আপনি আসলে নিজের না বলা কথাগুলোই চরিত্রদের দিয়ে বলিয়ে নিচ্ছেন?

হ্যাঁ। এটা সবসময়ই মনে হয়।

আপনি কি বিশ্বাস করেনসব মানুষই একদিন না একদিন ভেঙে পড়ে, শুধু ভাঙার ভাষাটা আলাদা? এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

একদম তাই। মানুষ প্রবল অনুভূতি তাড়িত প্রাণী। আর অনুভূতি নানানরকম হয়। তাতে প্রচন্ড ঋজুতা যেমন থাকে, ভঙ্গুরতাও।

আপনার কোনো লেখাকে পাঠক যখন বলে, 'এই গল্পটা আমার জীবন'— তখন আপনার ভেতরে কী হয়?

ভীষণ তৃপ্তির অনুভূতি হয়। কারণ, লেখকতো তার লেখার মধ্য দিয়ে মানুষের অনুভূতির কুয়োয় থাকা বিন্দু বিন্দু জলও নিঙড়ে নিয়ে আসেন। আর সেটা কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়। ফলে কেউ যখন বলেন যে তার অনুভূতি ভীষণ গভীর ও সুক্ষ্মভাবে প্রতিবিম্বিত হয়েছে, তখন মনে হয় কাজটা ঠিকঠাক করতে পেরেছি।

শুনেছি এবারের বই মেলায় আপনার নতুন দুইটা বই আসছে। সেগুলো নিয়ে কিছু বলুন।

একটির নাম ঠিক হয়েছে, নীলকণ্ঠী। লেখা প্রায় শেষের দিকে। আরেকটি উপন্যাস লেখা ছিল অনেক আগে, আড়াল নামে। সেই উপন্যাসটি যখন লিখেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল সেটি আরও বিস্তৃতি দাবী করে। হয়তো সেটিকে বই আকারে প্রকাশ করার আগে আরও বিস্তৃত করব।

আজ যদি ২০ বছর বয়সী সাদাত হোসাইনের সঙ্গে দেখা হয়আপনি তাকে কী বলতে চাইতেন?

আরও আগে লেখালেখিটা শুরু করতে চাইতাম। আসলে নিজের ভেতরে যে শক্তিটা আমাদের থাকে, তা বেশিরভাগ সময়ই আমরা আবিষ্কার করতে পারি না। বুঝতে পারি না। এজন্য অনেকক্ষেত্রে হয়তো আমাদের একটা জীবনই কেটে যায় নিজের শক্তি বা সক্ষমতার জায়গাটা বুঝতে। আবার কখনো কখনো বিলম্ব হয়। লেখালেখির ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে। মনে হয়েছে, আমি হয়তো আরও আগে শুরু করতে পারতাম। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের নানাবিধ পারস্পেক্টিভ বদলায়। দর্শন, উপলব্ধি, বোঝাপড়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পরিণত হয় বলে অনেকেই বলেন বা মনে করেন। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রত্যেক বয়সেরই আলাদা বিশেষত্ব আছে। দৃষ্টিভঙ্গি আছে। একটা শিশু কীভাবে পৃথিবীটা দেখছে, ফীল করছে তা একজন কিশোর, একজন বয়স্কের জীবন দর্শনের সাপেক্ষে অকিঞ্চিৎকর নয় মোটেই। বরং ওটাই জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। এই কারণে সেই কুড়ি, আঠারো বছর বয়সের নানাবিধ অনুভূতি, পারসেপশন, পারস্পেক্টিভ ঠিক তখনকার বয়সে লেখা বা প্রকাশ না করার আক্ষেপ খানিক হয়।

আপনি কি মনে করেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম আগের চেয়ে বেশি একা? সেক্ষেত্রে মূল কারণ কী?

হ্যাঁ। এটা মনে হয়। এর অসংখ্য কারণ আছে। মূল যেটা মনে হয়, সেটা হচ্ছে, আপনার সঙ্গী যত বেশি থাকবে, আপনার একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতাও তত বেশি হবে। সঙ্গী যত কম হবে, আপনার নিঃসঙ্গতাও তত কম হবে। একটু কি অদ্ভুত উত্তরটা? আচ্ছা ব্যখ্যা করছি। ধরুন, যখন দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকে, তখন তারা পরস্পরের সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে নিবিড়, সবচেয়ে প্রগাঢ় বন্ধু হয়। তাদের পরস্পরের সঙ্গ হয় সবচেয়ে ঘনিষ্ট, একাত্ম, একান্ত। তারা দুজন পরস্পরের গভীর অনুভূতিগুলো অনুভব করতে পারে। শেয়ার করতে পারে। নিঃসঙ্গতা কাটাতে পারে। কিন্তু তিনজন হলে পারস্পরিক ঘনিষ্টতা, একাত্মতা দুজনের তুলনায় বেশ খানিকটা কম হয়। চারজন হলে আরও খানিক কম। অর্থ্যাৎ সঙ্গীর সংখ্যা যত বাড়তে থাকে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, নিবিষ্টতা, নিবিড়তা তত কমতে থাকে।

একটা জনসভায় যদি ১০ লাখ লোক থাকে, তাতে কিন্তু লোক সংখ্যা অনেক। কিন্তু তারা পরস্পরের সঙ্গী নয়। একান্ত সঙ্গও নয়। বরং বিচ্ছিন্ন। অসংখ্য মানুষের ভিড়েও প্রত্যেকেই একা। তাদের একজনের দুঃখ, কষ্ট, একাকীত্ব তার গা ঘেঁষে লেপ্টে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটারও রয়ে যায় অজানা। তারা কেউ কাউকে চেনে না, জানে না। অথচ দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলে তারা অপরিচিত হলেও দেখবেন কুশল বিনিময় হয়, কথা হয়, গল্প হয়। চা খেতে অফার করে। ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। প্রফেশন, পরিবারের খবর জানতে চায়। আড্ডা হয়। তাই না? অর্থাৎ ওই অচেনা দুজন মানুষও পরস্পরের চেনা, জানা, ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। দশজন হলে কিন্তু সেটা হয় না। এজজন্যই যত কম সঙ্গী, তত পরস্পরের সবচেয়ে গভীর, গাঢ় সঙ্গ। তো এখন, এইসময়ে দেখবেন মানুষের সঙ্গী অনেক। সেটা কেবল মানুষের সাপেক্ষে বা রিয়েল লাইফেই নয়, ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডেও। আবার কেবল মানুষই মানুষের সঙ্গী নয়, যন্ত্র বা ডিভাইসও মানুষের সঙ্গী বা সঙ্গ। সেই যন্ত্রের ভেতর থাকা অসংখ্য এলিমেন্টও সঙ্গী। এই যে চারপাশে এতো রকমের সঙ্গ ও সঙ্গী, এগুলো মানুষকে মূলত ভেতরে ভেতরে তার নিজের অজান্তেই নিঃসঙ্গ করে দিচ্ছে। সে সবার সঙ্গেই থাকছে, অথচ কারো সঙ্গেই গভীরভাবে থাকছে না। ফলে সে যতটা অগভীর আনন্দ নিয়ে হাসছে, তারচেয়ে অনেক বেশি গভীর দুঃখ নিয়ে কাঁদছে। কারণ, তার ওই আনন্দটা খুব সামান্য এক মুহূর্তের এবং তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্রেফ প্রদর্শনের নিমিত্তে। এ কারণেই আমার মনে হয় সম্পর্ক যত বিস্তৃত হয়, অনুভূতি তত অগভীর হয়। আর অনুভূতি যত অগভীর হয়, মানুষ তত নিঃসঙ্গ হয়।

নতুন লেখকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন সত্যটা কী, যেটা কেউ আগে বলে না?

পৃথিবীতে নতুন কোনো কথা নেই। গল্পও না। সবই আগে বলা হয়ে গেছে। হয়তো ভিন্নভাবে, ভিন্ন উপস্থাপনায়। ফলে নতুন লেখকদের জন্য নতুনভাবে কিছু বলার নেই। শুধু এটুকুই বলব, 'এইসময়ে প্রচুর নতুন লেখকরা লিখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার লেখা থেকেই অসংখ্য উপন্যাস, গল্পের বই প্রকাশ হচ্ছে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা লিখছে। বিশেষ করে মেয়েদের সংখ্যা অনেক। এটি একদিক দিয়ে ভালো যে ছেলেমেয়েরা সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। আমি এটিকে এপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু আবার একইসঙ্গে এটিও অনুভব করি যে এদের একটা বড় অংশই কিছু না পড়েই লিখছে। একদম কিছু না পড়েই। এটি একটা খারাপ প্র‍্যাকটিস। লেখক হবার আগে ভালো পাঠক হওয়াটা জরুরী। না হলে লেখক সত্তা পরিস্ফুটিত হয় না। অংকুরেই ঝরে যায়। এমনকি তুমুল সম্ভাবনা থাকলেও। সো, এটা একটা কঠিন সত্য। এই সত্যটা বোঝা জরুরি।

যদি পাঠকের কাছে এক লাইনের একটা কথা রেখে যেতে চানসেটা কী হবে?

নিভে গেলে আলো, জ্বেলে দিও মন।

১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব
সংগৃহীত ছবি

‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’—এই দৃপ্ত প্রত্যয়ে আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব-২০২৬ হতে যাচ্ছে। ঢাকার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ইতিমধ্যে কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ।

উৎসবের প্রথম দিন রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক ড. সলিমুল্লাহ খান।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত কবিরা উৎসবে অংশ নেবেন এবং স্বরচিত কবিতা পাঠ করবেন। পাশাপাশি খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে কবিতা আবৃত্তি, কবিতার গান ও কাব্যনৃত্য—যা উৎসবকে করে তুলবে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা।

আয়োজকদের মতে, হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা উগ্রবাদী অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কবিতা সব সময়ই প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা। এই উৎসব সেই প্রতিবাদী চেতনাকে আরো সংগঠিত ও শাণিত করবে। অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে এই আয়োজন নতুন প্রেরণা জোগাবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উৎসবে সবার আন্তরিক উপস্থিতি কামনা করেছেন আয়োজক পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং প্রধান সমন্বয়ক মানব সুরত।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইথাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ (অন্যতম আইবেলিক বিশ্ববিদ্যালয়) কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের এক অভূতপূর্ব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টারে নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় এই ব্যতিক্রমধর্মী উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়। দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে ছিল ‘নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি ও মানব চেতনার শেষ আশ্রয় : ঋত্বিক ঘটক ও থিও এঞ্জেলোপোলাসের তুলনামূলক পাঠ’ শীর্ষক সেমিনার।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল ঋত্বিকের কালজয়ী ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারা’র সঙ্গীত নিয়ে পুনর্বিবেচনা ও সঙ্গীত-পরিবেশনা।

পুরো অনুষ্ঠান একই সঙ্গে ভার্চুয়ালি সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং সিনেমাপিপাসু দর্শক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও অংশগ্রহণ করেছেন।

কর্নেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টার ও ব্রিটেনভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংস্থা সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি এন্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদযাপনের সেমিনার-পর্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক, কবি ও ঔপন্যাসিক অধ্যাপক শামীম রেজা।

চলচ্চিত্র সমালোচক ও ল্যাংগুয়েজ রিসোর্স সেন্টারের শিক্ষাক্রম সমন্বয়ক ড. আহমেদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধকার অধ্যাপক শামীম রেজা গ্রিক চলচ্চিত্রকার থিও ও বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিকের সিনেমায় মাইগ্রেশন, পার্টিশন ইত্যাকার অনুষঙ্গের ভেতর উদ্বাস্তু মানুষের এপোক্যালিপ্টিক রিয়েলিটি ও অস্তিত্ব সঙ্কটের স্বরূপ উন্মোচনে ব্রতী হন। এইসব দার্শনিক অনুষঙ্গের গভীরতা আরো নিবিড়ভাবে উদঘাটনের জন্যে ঋত্বিকের সিনেমার পাশাপাশি প্রতীচ্যের বিভিন্ন সিনেমার প্রসঙ্গও তিনি উত্থাপন করেন। তিনি ‘সুবর্ণরেখা’ চলচ্চিত্রে সীতা চরিত্রের উদ্বাস্তু জীবনের সঙ্গে বাল্মিকীর রামায়ণের সেই পরাধীন সম্রাজ্ঞী অপহৃতা সীতার তুলনামূলক আলোচনা করেন।

‘ইউলিসিস গেইজ‘ এ মূলত (আলেকজান্ডার) চরিত্রের যে বলকান দেশগুলো উদ্বাস্তু ‘এ’ চরিত্রের যুদ্ধ বিধ্বস্ত বলকান অঞ্চল ভ্রমণ যেমন হোমারের ওডিসিয়াসের ইউলিসিসে দেশ থেকে দেশে যুদ্ধ থেকে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন।

সেমিনারে মূল আলোচক কবি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক সেজান মাহমুদ সেমিনার-প্রবন্ধ ও সেমিনারের থীমকে ‘জরুরি ও অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আজকের আধুনিক মানুষের সঙ্কটের স্বরূপ বোঝার জন্যে আমরা বারবার এই উদ্বাস্তু মানুষের গল্পগুলো, সিনেমাগুলো পাঠ এবং পুনর্পাঠ করতে হবে। একই সঙ্গে জর্জিও আগামবেন এবং জগতের অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের তত্ত্বগুলোও এসব সিনেমার বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা বা ভাষ্য নির্মাণে কতটা জরুরি ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে তা নিয়েও আলোকপাত করেন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সালমা বাণী তাঁর আলোচনায় নিজের লেখা উপন্যাস ‘ইমেগ্রেশন‘ উদ্বাস্তু মানুষের জীবন বাস্তবতা ও ঋত্বিকের সিনেমার বিবিধ প্লট ও চরিত্র ইত্যাকার অনুষঙ্গ টেনে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

কবি ও সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, নীটশের ঈশ্বরবিহীন বিশ্বে জগতের সকল আধুনিক মানুষই একই সঙ্গে উদ্বাস্তু এবং শোচনীয়ভাবে নিঃসঙ্গ। তাই উদ্বাস্তু মানুষ নিয়ে সিনেমা প্রকারান্তরে আধুনিক মানুষের জটিল সঙ্কটের সঙ্কেতবাহী দ্যোতকপুঞ্জ। তিনি বলেন, থিও এঞ্জেলোপোলসের ‘ইটার্নিটি এন্ড এ ডে’ সিনেমায় গ্রীক কবি দিওনিসিস সলমসের কবিতা ও ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় সিলেটের কবি ইদম শাহের গান ‘মন তোমায় কেবা পার করে’-তে উদ্বাস্তু জীবনের যে পার্থিব ও আধ্যাত্মিক সঙ্কটের ইঙ্গিত বিধৃত হয়েছে, এই রূপকল্পের অন্তর্নিহিত মর্ম ও মগ্ন মৌনতা বিশ্লেষণে এক্ষুণি তৎপর হতে হবে কারণ এতেই লুকিয়ে আছে অনেক সঙ্কটের উত্তরও। মিখাইল বাখতিন, তাঁর ক্রনোটোপ তাঁর দ্বিরালাপ তত্ত্ব এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে সহায়ক হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয়পর্বে ঋত্বিকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় ব্যবহৃত সঙ্গীত, প্রাসঙ্গিক ভাষ্যসহ পরিবেশন করেন বহির্বিশ্বে কিরানা ঘরানার শীর্ষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী। তিনি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ সিনেমায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশেষত রাগ হংসধ্বনি গাওয়া কিংবদন্তীতুল্য শিল্পী পন্ডিত এ কাননের সঙ্গীত শিষ্যা। ফলে পন্ডিত এ কাননের ঋত্বিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’র দৃশ্য-বিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাঁর কণ্ঠে গাওয়া রাগ ভাটিয়ার ও হংসধ্বনি ঋত্বিক উদযাপনে যোগ করে এক নতুন মাত্রা।

সেলিম আল দীন বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন নাটকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেলিম আল দীন বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন নাটকে
সংগৃহীত ছবি

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। পাশ্চাত্য শিল্পরীতির বাইরে গিয়ে বাংলা নাটকে নিজস্ব শিল্পরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন বাংলাদেশের এ প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেলিম আল দীনের প্রয়াণদিবসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উদ্যোগে বুধবার বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার হলে এ বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীর সঞ্চালনায় সেমিনারে ‘বাঙালির নন্দনসূত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজা মোহাম্মদ আরিফ। 

আরো পড়ুন
বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবে : মোনায়েম মুন্না

বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবে : মোনায়েম মুন্না

 

রেজা মোহাম্মদ আরিফ তার প্রবন্ধে নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাট্যতত্ত্ব, দর্শন এবং জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন। প্রবন্ধে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পরীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “মূলত ভারতীয় ভক্তিবাদের পঞ্চম সূত্র ‘অচিন্ত্যদ্বৈতাদ্বৈতবাদের’ অনুপ্রেরণায় ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী’ শিল্পতত্ত্বের স্বরূপ নির্ধারিত হয়েছে। এ শিল্প মতবাদের প্রবক্তা সেলিম আল দীন। দ্বৈতাদ্বৈতবাদে পাশ্চাত্য শিল্পরীতির বহুবিভাজন রীতিকে খারিজপূর্বক এমন এক মুক্ত আঙ্গিকের অন্বেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শিল্পের একাধিক আঙ্গিক একীভূত অবস্থায় থাকতে পারে। শিল্পের বহুবিধ আঙ্গিককে এক উৎসকেন্দ্রে নিমগ্ন করে দেওয়াই এ শিল্প মতবাদের উদ্দেশ্য।”

রেজা মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘সেলিম আল দীনের মতে, দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতি। দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বে বাংলা নাট্যের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি আঙ্গিক, গঠন-কাঠামো, দার্শনিক অভিপ্রায় ও পরিবেশনারীতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও তাত্ত্বিক ধারণা প্রদান করা হয়েছে।’

সেলিম আল দীনের নাটকের আঙ্গিক সম্পর্কে প্রবন্ধকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সহযোগী অধ্যাপক আরো বলেন, ‘সেলিম আল দীনের নাটকের প্রেক্ষাপট সুবিস্তৃত এবং অসংখ্য ঘটনা ও চরিত্রবহুল। তার নাটকে রয়েছে সংলাপ ও বর্ণনার তীব্র মাখামাখি। নাটকের গড়ন উপন্যাসের মতো, ভাষারীতি গদ্য ও পদ্যমথিত, গদ্য আবার কাব্যময়। তার নাটক আখ্যান, উপকাহিনী, সংলাপ, বর্ণনা, গীত, গদ্য, পদ্য ইত্যাদির সমারোহে বিচিত্রগন্ধী। সেলিম আল দীন বলেছেন, তার নাটক একইসঙ্গে উপন্যাস, কাব্য, নাটক বা আখ্যান। একাধিক স্বতন্ত্র আঙ্গিক এভাবে একসঙ্গে ব্যঞ্জিত হয় বলে এ শিল্প মতবাদকে তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদ নামে অভিহিত করেছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন নাট্য নির্দেশক জাহিদ রিপন ও লেখক আবু সাঈদ তুলু।