বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’। কেরালায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ নির্মিত বলে দাবি করা এই সিনেমাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের সুর উঠেছে।
অভিযোগ, এটি একটি ‘প্রোপাগান্ডা’ চলচ্চিত্র, যা ভারতের, বিশেষ করে কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই বিতর্কের মাঝেই আত্মপক্ষ সমর্থনে মুখ খুলেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাখ্যা নারায়ণ সিং। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে আমার কাজ করেছি, বিশ্বাস করুন। যদি আমরা ছবিতে কিছু ভুল দেখিয়ে থাকি, তাহলে আমি সিনেমা বানানো ছেড়ে দেব।’
এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কামাখ্যা নারায়ণ সিং বলেন, ‘আমি একজন তথ্যচিত্র নির্মাতা। আমি সব সময় এমন তথ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র তৈরি করেছি, যা সামাজিক কুফল এবং সমাজের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলিকে তুলে ধরে, এমন সিনেমা যা প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং মানুষকে তাদের চারপাশে কী ঘটছে তা নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহ দেয়। এই কারণেই আমি সর্বদা একটি চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র মুক্তি দেওয়ার আগে সমস্যা বোঝার জন্য, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করি।’
তার দাবি, দ্য কেরালা স্টোরি ২-এ কেরালার তিন তরুণীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যাদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। যদিও ছবির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এটি অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এটিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে নির্মাতাদের দাবি, ছবিটি কখনোই কেরালার বিরুদ্ধে নয়। প্রযোজক বিপুল অমৃতলাল শাহ বলেন, ‘আমরা কখনোই কেরালার পেছনে পড়িনি। কেরালা ঈশ্বরের দেশ... আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই রাজ্য থেকে এই সমস্যা নির্মূল হোক।’
উলকা গুপ্তা, অদিতি ভাটিয়া ও ঐশ্বরিয়া ওঝা অভিনীত ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস




