রমজানের বিকেল মানেই ইফতারের অপেক্ষা, প্রার্থনার অপেক্ষা, আর একটু স্বস্তির অপেক্ষা। সূর্য ঢলে পড়ছে পশ্চিম আকাশে, আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যাডমিন্টন কোর্টে জমতে শুরু করেছে এক ভিন্ন আবহ।
দলে দলে এসে সমবেত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আজানের ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে শরিক হবেন ইফতার আয়োজনে। কোর্টজুড়ে নেই কোনো র্যাকেটের শব্দ, নেই প্রতিযোগিতার উত্তাপ, বরং রয়েছে অপেক্ষা, কৃতজ্ঞতা আর ভাগাভাগি করে নেওয়ার আনন্দ।
এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ওবিই কারিকুলামের আওতাধীন একই বিভাগে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
প্রথম রমজান থেকে টানা দশম রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ১২০-১৫০ জন রোজাদারের ইফতারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যাডমিন্টনকে কোর্ট রূপ দিয়েছেন সমবেত ইফতার প্রাঙ্গণে।
বাশারের ইফতার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছোলা বুট, মুড়ি, জিলাপি, কলা, আলুর চপ, পিঁয়াজু, কলা, শরবত ইত্যাদির মিশ্রণে একজনের পরিমাণমতো। সকলকিছুর জোগানদাতা আবুল বাশার নিজেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাহিরে দোকান থেকে খাবার সামগ্রী সংগ্রহের মাধ্যমে এই আয়োজনকে চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তবে অল্প কয়েকদিনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে এই উদ্যোগটাকে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়া অবধি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাশারকে এই কাজে সাহায্যকারী ছাত্রদল কর্মী আসিফ বলেন, ‘যে কোনো ব্যতিক্রমধর্মী কাজ, যেগুলো শিক্ষার্থীদের কাজে আসে, সাধারণ মানুষদের কাজে আসে, সেগুলোর মধ্যে একটা আনন্দ লুকিয়ে আছে। প্রচুর পরিমাণ পরিশ্রম করার পর যখন দেখি, মানুষ এটাকে প্রশংসা করে, ভালোভাবে নেয়, তখন এটাতে একটা ভালোলাগা কাজ করে। আমার মনে হয়, এইরকম উদ্যোগ ক্যাম্পাসে রিচ্যুয়ালে পরিণত হোক।’
এই উদ্যোগ নেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে উদ্যোক্তা আবুল বাশার বলেন, ‘আমার কিছু ছোট ভাই এটার প্ল্যান করেছিল, পরে তাদের সহায়তায় আমি কাজটা করে যাচ্ছি। এই উদ্যোগটা নেওয়ার পরে দেখা যাচ্ছে, সেসব ছোটভাইদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় না, ইফতারের মাধ্যমে তাদেরকে কাছে পাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন অবধি আমার ফান্ডিংয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী অল্প অল্প সাহায্য করেছে, অনেকে করবে বলে জানিয়েছে। তাই আমার মনে হচ্ছে আমি এটা শেষে পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারব। এছাড়া রাজনীতির বাহিরে আমার নিজস্ব কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে, তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে।’







