• ই-পেপার

কনডাক্ট ডিস-অর্ডার

কৈশোরে আচরণগত সমস্যা দেখা দিলে

ফুড পয়জনিং হলে করণীয়

ফুড পয়জনিং হলে করণীয়

লিন ডায়াবেটিস

অপুষ্টিজনিত ডায়াবেটিস

প্রচলিত ধারণা, যাদের ওজন বেশি তাদের ডায়াবেটিস হয়। দেহের সঠিক ওজন থাকলেও অনেকের ডায়াবেটিস হতে পারে, মেডিক্যাল ভাষায় যার নাম লিন ডায়াবেটিস। কেন হয় এ রোগ, প্রতিকারে করণীয় কী? জানিয়েছেন ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম

অপুষ্টিজনিত ডায়াবেটিস

যাদের দেহের ওজন বেশি, ক্লিনিক্যালি তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী স্থূলকায় নন, হালকা বা শুকনা দেহের অধিকারী। এদের বলা হয় লিন, সেই সূত্রে এমন রোগীদের ডায়াবেটিসের নাম লিন ডায়াবেটিস। বিশ্বের প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ এ রোগে ভুগছে। দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব অপেক্ষাকৃত বেশি। চিকিৎসকের ধারণা, আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এমন রোগীর সংখ্যা। এ রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে গবেষণা চলমান।

 

লিন ডায়াবেটিস কী

দেহের উচ্চতা ও ওজনের অনুপাতকে বলা হয় বডি ম্যাস ইনডেক্স (বিএমআই)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের চোখে কেউ মোটা বা চিকন কি না শনাক্ত করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। যেসব ডায়াবেটিক রোগীর বিএমআই ১৮.৫ কেজি/মি২-এর কম এবং ডায়াবেটিসের কারণ দেহে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নয়, বরং ইনসুলিন উৎপাদনে ঘাটতি, সেসব ক্ষেত্রে লিন ডায়াবেটিস বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের ডায়াবেটিস হলে রোগীর অগ্ন্যাশয় সঠিক মাত্রায় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এসব রোগীর দেহে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে এবং শরীরে পেশি থাকে তুলনামূলক কম।

 

কেন হয় লিন ডায়াবেটিস

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিন ডায়াবেটিসের মূল কারণ অপুষ্টি।  সঠিক মাত্রায় পুষ্টি না পেলে বাড়ন্ত শিশুদের দেহের গঠন বাধাপ্রাপ্ত হয়, যার প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয় আজীবন। পুষ্টির অভাবে অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে থাকা ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষ ঠিকমতো গঠন হয় না। ফলে এর কার্যকারিতা হ্রাস পায়, সৃষ্টি হয় ইনসুলিন ঘাটতিজনিত ডায়াবেটিস। এ রোগের প্রাদুর্ভাব উন্নয়নশীল দেশে অপেক্ষাকৃত বেশি দেখা যায়।

 

উপসর্গ

  এ ধরনের রোগীরা সাধারণত শীর্ণকায় হয়ে থাকে।  ১৮.৫ কেজি/মি২-এর কম হয় বিএমআই।

  টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের মতো মেদবহুল না হলেও এসব রোগীর পেটে অস্বাভাবিক চর্বি থাকতে পারে।

  রক্তে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা যায়। 

  দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠার ইতিহাস।

  ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।

  রোগীর দেহে সি-পেপটাইড (c-peptide) থাকে স্বাভাবিক অথবা কিছুটা কম মাত্রার।

  লিন ডায়াবেটিস সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সে দেখা দেয়। পুষ্টিহীনতা থাকলে ৩০ বছরেরও কম বয়সে দেখা দিতে পারে।

  অল্পবয়সী রোগীদেরও ইনসুলিন গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

 

টাইপ-১ ডায়াবেটিসে নয়

ইনসুলিন গ্রহণ ছাড়া লিন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা যায় না।  এ কারণে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক এটিকে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হিসেবে শনাক্ত করতে পারেন। তবে দুটি রোগের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। লিন ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রোগীর কিটো এসিডোসিস হবে না, পারিবারিক ইতিহাসে ডায়াবেটিক রোগী থাকার আশঙ্কা কম এবং দেহে সি-পেপটাইডের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। এ ছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে অটো ইমিউন ডিজিজের সঙ্গে এটি তফাত করা যায়।

 

চিকিৎসা

সঠিক মাত্রায় পুষ্টি গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। রোগীর খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষ থাকতে হবে। শস্যদানা ও চর্বিও থাকতে হবে পরিমাণমতো।  মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস; যেমনভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের ঘাটতি আছে কি না, সেটি নজরে রাখতে হবে। অন্যান্য ডায়াবেটিসের মতো ক্যালরি গ্রহণ খুব বেশি কমানো যাবে না। দেহের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম (Resistance exercise) করা যেতে পারে। অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে দেহের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং হৃদযন্ত্রেরও উপকার হবে। নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ এ রোগের সর্বোত্তম চিকিৎসা। তবে রোগের প্রকোপ অনুযায়ী অনেক সময় ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায় এমন ওষুধেও উপশম হতে পারে।

 

লেখক : ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ

ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল

রমজানে দাঁতের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন

ডা. ফারজানা আখতার কেয়া

রমজানে দাঁতের প্রয়োজন বিশেষ যত্ন

আত্মশুদ্ধি ও সংযমের পবিত্র মাস রমজান। রোজা পালনের জন্য সারা দিন একটানা খাওয়াদাওয়া বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই আমাদের মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটে। লালা নিঃসরণ বন্ধ হয়ে মুখ শুকিয়ে যায়, তৈরি হয় হালকা দুর্গন্ধ এবং কিছু ক্ষেত্রে মাড়ির সংবেদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। এ সময় কিছু নিয়ম মেনে চললে রোজা পালন করেও সহজেই দাঁত ও মাড়ি সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা সম্ভব। রমজানে মুখের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে করণীয় নিয়ে আজকের লেখা।

 

►  ডা. ফারজানা আখতার কেয়াইফতারের পরে অবশ্যই ব্রাশ করুন : সাহরি ও ইফতারের শেষে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। দাঁতের পাশাপাশি পরিষ্কার করুন জিহ্বা। মুখের দুর্গন্ধের একটি বড় কারণ জিহ্বায় জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া।

 

►  মিসওয়াক ব্যবহার নিরাপদ : রোজা অবস্থায় মিসওয়াক ব্যবহার করা যায়। এটি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে উপকারী।

 

►  নিয়মিত ফ্লসিং করুন : দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে ফ্লসিং জরুরি। ইফতারের পর বা ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। 

 

►  পর্যাপ্ত পানি পান : মুখের শুষ্কতা কমাতে এবং লালা নিঃসরণ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। দাঁতের সুরক্ষায় লালা নিঃসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

►  এড়িয়ে চলুন মিষ্টি খাবার ও কোমল পানীয় : ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, শরবত ও কোমল পানীয় গ্রহণ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। এর ফলে সৃষ্টি হতে পারে শিরশিরে অনুভূতি ও সংবেদনশীলতা। মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের পর কুলি করা বা সম্ভব হলে ব্রাশ করা উত্তম।

 

►  দুর্গন্ধ নিয়ে দুশ্চিন্তা নয় : রোজা অবস্থায় মুখে অল্পবিস্তর গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। পাকস্থলী খালি থাকায় এমনটা হতে পারে। নিয়মিত ব্রাশ, মিসওয়াক ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।

 

►  দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন : রমজানের আগে বা পরে অন্তত একবার হলেও রেজিস্টার্ড দন্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করানো উচিত। এতে দাঁত ও মুখের যেকোনো সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার আগেই দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং সহজেই সেটির চিকিৎসা সম্ভব হয়।

 

আত্মার পরিশুদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সময় পবিত্র মাহে রমজান। তাই মুখ ও দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়ার রুটিন তৈরি করার উত্কৃষ্ট সময় এটি। সঠিক নিয়ম মেনে চললে রোজার মাসেও আপনার হাসি থাকবে সতেজ এবং আত্মবিশ্বাস থাকবে অটুট। দাঁত বা মাড়ির কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, হাসিখুশি থাকুন।

 

লেখক : ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

 

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের রোজা

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রয়োজন বাড়তি পুষ্টি ও পানি। তাই কিছু ক্ষেত্রে রোজা রাখা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের রোজা পালনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ নিয়ে লিখেছেন ডা. নাশফিয়া তাহসিন খান

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের রোজা

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। এই মাসে বয়ঃপ্রাপ্ত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রোজা ফরজ। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা পালনে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে এ সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে রোজা রাখতে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রতিটি মায়ের প্রধান কর্তব্য নিজের ও সন্তানের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। গর্ভাবস্থায় যদি কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা সৃষ্টি না হয়, স্তন্যদানকারী মা যদি
সুস্থ থাকেন এবং মা ও শিশুর যদি কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি না হয়, তবে অবশ্যই তাঁরা নিশ্চিন্তে রোজা রাখতে পারবেন। তবে মনে রাখা জরুরি, রোজা রাখতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত সাহরি ও ইফতারি গ্রহণ করতে হবে। রোজার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করাও জরুরি।

ঝুঁকিতে রয়েছেন যাঁরা

রোজা পালনের ফলে যদি মা অথবা শিশুর স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ইসলামি বিধানে ছাড় রয়েছে। যেসব মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, পুষ্টিহীনতা, বমি, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, রক্তপাত, ফ্লুইড ডিসচার্জ অথবা প্রস্রাবের ইনফেকশনের মতো সমস্যা রয়েছেচিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে তাঁদের রোজা পালন করা উচিত নয়। এ ছাড়াও যেসব কারণে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

  গর্ভের শিশু নড়াচড়া না করলে বা কমিয়ে দিলে।

  শিশু পর্যাপ্ত দুধ না পেলে।

  শিশুর কোনো প্রকার শারীরিক জটিলতা বা পুষ্টির অভাব থাকলে।

  মায়ের গর্ভের অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ কম থাকলে।

  স্তন্যপানকারী শিশুর ওজন কম থাকলে।

 

এসব ক্ষেত্রে মায়ের রোজা না রাখাই উত্তম। এতে রয়েছে স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা।

 

কখন বুঝবেন রোজা ভঙ্গ করতে হবে

যে ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রোজা ভঙ্গ করা মা ও শিশুর জন্য উত্তম

  মাথা ঘোরানো বা ঝিমুনি দেখা দিলে।

  হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বল বোধ করলে।

  চোখে হঠাৎ অন্ধকার বা ঝাপসা দেখলে।

  কোনো কারণে রক্তপাত হলে।

  গর্ভের পানি ভেঙে গেলে।

  গর্ভে শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে।

  যদি ডায়াবেটিস থাকে, সে ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে অথবা হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিলে।

  রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে।

  প্রেসার কমে গেলে/হাইপোটেনশন হলে।

  বমি হলে।

 

যা খাবেন

রোজায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া জরুরি

  ভাত, রুটি, ওটস, মাছ, মুরগি, ডিম, ডাল, শাক-সবজি ও ফলমূল।

  পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি (দু-তিন লিটার) ও তরল খাবার।

  ইফতারসামগ্রী : খেজুর, ডাবের পানি, ঘরের শরবত, সালাদ, বাদাম, স্যুপ, কাস্টার্ড ইত্যাদি।

  বেশি ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। বেশি চা ও কফি খাওয়া যাবে না।

  গর্ভবতী মা আনারস, কামরাঙা ও পেঁপে খাওয়া পরিহার করবেন।

 

স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রয়োজন বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে এমন খাবার গ্রহণ করা। যেমন

  খেজুর, কলা, লাউ, কালিজিরা, দই, মিষ্টিকুমড়া ও ডিম খেতে হবে।

  আয়রন, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ প্রোটিনজাতীয় খাবার গ্রহণ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে লালশাক, পালংশাক, লাল মাংস, দুধ, দই ও পনির।

 

পানি পানে গুরুত্ব

বিশেষত স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দু-তিন লিটার পানি পান করতে হবে ইফতারের পর থেকে সাহরির সময় পর্যন্ত। এতে মায়ের ইউরিনারি ইনফেকশন ও পানিশূন্যতার আশঙ্কা কমবে। কোনোভাবেই সাহরি করা বাদ দেওয়া যাবে না। ইফতারে ক্যাফেইনযুক্ত উত্তেজক পানীয় বাদ দিতে হবে।

 

জরুরি ওষুধ গ্রহণ

চিকিৎসকের পরামর্শে যদি কোনো স্তন্যদানকারী মা ও গর্ভবতী নারীর ইনহেলার, অক্সিজেন ও নাকের ড্রপ গ্রহণ করতে হয়, তবে রোজা ভাঙবে না। কিন্তু নাকের ড্রপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ওষুধ গলা বা মুখে না পৌঁছে। যদি মুখে ওষুধ পৌঁছে, সে ক্ষেত্রে তা ফেলে দিতে হবে।

যদি কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতার চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেন চিকিৎসক, সেটি অবহেলা করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনে কাজা রোজা পালন করা যাবে, কিন্তু শিশু বা মায়ের স্থায়ী ক্ষতি অপূরণীয়।

 

বিশ্রাম

গর্ভবতী মা ও স্তন্যদানকারী মা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নেবেন। এতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা কমবে। রোজা রেখে কোনো অবস্থায় কায়িক পরিশ্রম করা যাবে না। দিনের কিছু সময় ঘুমাতে হবে এবং রাত জাগা পরিহার করতে হবে যতটা সম্ভব।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য

জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ পান করাতে হবে। সন্তান যাতে পর্যাপ্ত দুধ পায়, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দুগ্ধদানে সমস্যা হলে রোজা না রাখাই উত্তম এবং পরবর্তী সময়ে কাজা রোজা আদায় করা যেতে পারে। রোজা রাখার জন্য অনেকে বুকের দুধের বদলে সম্পূরক শিশু খাদ্য খাওয়ান, শিশুর ছয় মাস বয়সের আগে যা কোনোভাবেই করা যাবে না।

 

লেখক : কনসালট্যান্ট

সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার