কঠিন অর্থনৈতিক ও জননিরাপত্তা সংকটের সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ক্ষমতায়। বিগত আওয়ামী সরকারের জঞ্জাল এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে না পারার ধকল এখন তারেক রহমান সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে। তাই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিন হবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে মূলভিত্তি হওয়া চাই ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি। অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মব সন্ত্রাস ইত্যাদি দমন করে সবার মধ্যে আস্থা ফেরানো ও নিরাপত্তা জোরদার করা। এ জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ।
অর্থনীতির চাকা সচল করতে প্রথমেই বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফেরানো জরুরি। উচ্চ সুদের হার বর্তমানে ব্যবসার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হবে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতের জন্য ঋণের প্রবাহ সচল রাখা যায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাত রক্ষায় বিশেষ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা না করলে তৃণমূল পর্যায়ে বেকারত্ব কমানো সম্ভব নয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মতো রপ্তানিমুখী শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টেকসই করা সহজ হবে।
রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলায় করব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। হয়রানিমুক্ত কর আদায় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে করের আওতা বাড়ানো উচিত, যাতে সৎ ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হন। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্রুত চুক্তি এবং শক্তিশালী লবিং শুরু করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এটি কেবল তহবিলের সংস্থান করবে না, বরং দুর্নীতিবাজদের প্রতি কঠোর বার্তা দেবে। আমদানির ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশকে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কের আওতায় এনে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, যা পরোক্ষভাবে ডলার সংকট কাটাতে সাহায্য করবে।
আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারই টেকসই হবে না। মব কালচার বা গণপিটুনি এবং বিনা বিচারে হয়রানির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। জনমনে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। মানুষ যখন দেখবে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, তখনই স্থবির হয়ে পড়া ঘরোয়া বিনিয়োগ চাঙ্গা হবে।
রপ্তানি ঝুড়িতে কেবল পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে তথ্য-প্রযুক্তি ও চামড়াশিল্পের মতো খাতগুলোতে বিশেষ ছাড় দিয়ে বাজার বহুমুখী করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা হলো আস্থার সংকট এবং খেলাপি ঋণের পাহাড়। এই সংকট নিরসনে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠন করা জরুরি, যা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই বড় বড় খেলাপিকে চিহ্নিত করবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কেবল টাকা ছাপিয়ে সহায়তা না করে বরং আন্ত ব্যাংক লেনদেন চাঙ্গা করা এবং আমানতকারীদের মনে এই বিশ্বাস ফেরানো দরকার যে তাঁদের টাকা নিরাপদ। উচ্চ সুদের হার ব্যবসার জন্য শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উৎপাদনশীল খাতের জন্য বিশেষ ‘ইন্টারেস্ট ক্যাপ’ বা সুদের হার নির্দিষ্ট করে দিয়ে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করতে হুন্ডি বন্ধে প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স প্রেরণে বিশেষ প্রিমিয়াম বা ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।
শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে না পারা এবং জ্বালানিসংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধের মুখে। নতুন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি আমদানিতে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে লোডশেডিং শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। বিশেষ করে সাভার, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকাগুলোতে মব সন্ত্রাস বা অস্থিরতা বন্ধে একটি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাস্কফোর্স’ গঠন করা উচিত, যেখানে শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় থাকবে।
দীর্ঘদিনের দলীয়করণের ফলে রাজনীতি-আমলাতন্ত্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা বিএনপি সরকারের জন্য হবে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার করতে গেলে এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বেরিয়ে আসবে, যাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ও কর্মক্ষম না হয়, তবে সরকারের ঘোষিত ভালো নীতিগুলোও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
গত দেড় দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা যদি শক্ত হাতে দমন করা না যায়, তবে কোনো বিনিয়োগকারীই নিরাপদ বোধ করবেন না। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে তৃতীয় কোনো পক্ষ যদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, তবে রপ্তানি খাতে ধস নামার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া বিগত সরকারের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, যারা এখনো প্রশাসনের ভেতরে বা বাইরে সক্রিয়, তারা অর্থনৈতিক সংস্কারে ‘স্যাবোটাজ’ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটগুলো যদি তাদের সরবরাহ চেইন ধরে রাখে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তবে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ নতুন সরকারের জনপ্রিয়তাকে দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএনপি সরকারকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রথম ১৮০ দিনে দল-মত-নির্বিশেষে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে পূর্ণ পেশাদারির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া না হলে সংস্কারগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং সংস্কারপ্রক্রিয়ায় বিরোধী মত বা সুধীসমাজকে আস্থায় নেওয়া হবে একটি বড় রাজনৈতিক কৌশল।
বিএনপি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো জন-আকাঙ্ক্ষাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোতে রূপ দেওয়া। এর জন্য প্রথম ১৮০ দিনে প্রতিটি উপজেলায় ‘নাগরিক তদারকি কমিটি’ চালু করা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও বাজার মনিটরিংয়ে ভূমিকা রাখবে। এতে প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা ফিরবে এবং অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করার সুযোগ কমে যাবে। একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও অস্থির সমাজব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে বিএনপির জন্য প্রথম ১৮০ দিনের রোডম্যাপটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে।
প্রথম ৬০ দিন : জরুরি স্থিতিশীলতা ও আস্থা পুনরুদ্ধার
এই পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে মব সন্ত্রাস নির্মূল করা এবং বাজারে স্বস্তি ফেরানো। প্রথমেই পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করতে দলীয় প্রভাবমুক্ত পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানিকারক ও পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমাতে একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং কমিশন গঠন করে বড় বড় খেলাপির কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর তালিকা করে সেগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা আসতে হবে।
পরবর্তী ৬০ দিন : অর্থনৈতিক চাকা সচল ও নীতি সংস্কার
মাঝামাঝি সময়ে এসে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে উচ্চ সুদের হার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। উৎপাদনশীল খাত ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং এলসি খোলার জটিলতা দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে করব্যবস্থাকে অটোমেশন করা এবং করদাতাদের হয়রানি বন্ধে ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ কার্যকর করতে হবে। বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আইটি খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা প্রয়োজন। এই সময়েই উপজেলা পর্যায়ে নাগরিক তদারকি কমিটি গঠন করে স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে।
শেষ ৬০ দিন : টেকসই উন্নয়ন ও ফলাফল মূল্যায়ন
শেষ ধাপে এসে সংস্কারগুলোর সুফল জনগণের কাছে দৃশ্যমান করতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে কেবল গার্মেন্টসনির্ভর না থেকে চামড়া, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বিশেষ কার্গো সুবিধা ও ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন বা নিয়মিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে হবে। মব কালচার চিরতরে বন্ধ করতে প্রতিটি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই ১৮০ দিন শেষে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, যা সরকারের প্রতি জনসমর্থনকে আরো সুসংহত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার যদি উল্লিখিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির একটি পরিকল্পিত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে পারে, তাহলে জনগণ ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরবে। পরে শুধু এই পরিস্থিতিকে টেকসই রূপ দিতে হবে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও
বার্তাপ্রধান, কালের কণ্ঠ



অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এডিস মশার ঘনত্ব কমে আসার তথ্য অনেকের মধ্যেই স্বস্তি তৈরি করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা সার্ভেইল্যান্স তথ্য অনুযায়ী এডিস মশার ঘনত্ব এবং ব্রেটো ইনডেক্স কমেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। এটি প্রমাণ করে যে কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ, জনসচেতনতা, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না থাকা এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়া ফ্যাক্টরগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু এডিস মশার ঘনত্ব কমার এই স্বস্তিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা। আমাদের মনে রাখতে হবে, এডিস মশার এই কমে যাওয়া কোনো স্থায়ী অর্জন নয়, বরং এটি এক ধরনের সাময়িক বিরতি। নগরের অলিগলি, বেইসমেন্টে গাড়ি পার্কিং করার স্থান, পুরনো বাড়ির নিচতলা, বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পানির ট্যাংক, প্লাস্টিক ড্রাম ও বালতির ভেতরে এখনো এডিস মশার প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান রয়ে গেছে। বর্ষা শুরু হলেই সামান্য অবহেলা এই মশাকে আবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেবে। তখন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লে দায় কার হবে
সভ্যতার গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো অনেক প্রযুক্তিগত রূপান্তর মানব ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগুন, লিখন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতোই সেই একই স্তরে অবস্থান করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আগে কয়েক দশক সময় লেগে যাওয়া পরিবর্তনগুলো এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটতে পারে এবং সমগ্র পৃথিবীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।