নাহিদ ইসলাম
কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটবে
অমর একুশে বইমেলা

টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ভয়ে পরিবারসহ খুলনা ছাড়লেন মাছ ব্যবসায়ী

খুলনায় আশা শেখ নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি পরিবার নিয়ে শহরের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে একরামসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন নগরীর ময়লাপোতা কেসিসি সান্ধ্য বাজারে যান। সেখানে তাঁরা আশা শেখের নাম উল্লেখ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে দোকান খুললেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বাজারের ২২২ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশা শেখ পরিবার নিয়ে খুলনার বাইরে অবস্থান করছেন। রবিবার তাঁরা খুলনা ত্যাগ করেন।
আশা শেখ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে পাইকারি হিসেবে মাছ সরবরাহ করেন। অভিযুক্ত একরামকে তিনি চেনেন না। তবু তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় সান্ধ্য বাজারের ব্যবসায়ী আশা শেখ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
কৃষি খাতে সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি কৃষি খাত বর্তমানে কাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্য কৃষি খাত হবে সবচেয়ে গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বড় অংশই নির্ভর করে এই খাতের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিসংস্কার, বাজারব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ও ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড এবং শস্যবিমার মতো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দক্ষ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও কৃষক ন্যায্য দাম পান না। মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভর বাজারব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাব এবং সরাসরি বিপণনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে। এ কারণে কার্যকর বাজার সংস্কার ও কার্যকরে বিপণন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কৃষিবীমা চালু করা, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড দেওয়া, উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং অ্যাগ্রো-প্রসেসিং শিল্পের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণায় জোর দেওয়া এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইশতেহারে আরো বলা হয়েছে, অ্যাগ্রো-প্রসেসিং কেন্দ্র স্থাপন ও শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র গঠন, খাদ্য অপচয় রোধে আইন প্রণয়ন এবং খাদ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, বিএনপি সরকারের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভাঙাই হবে অন্যতম কাজ। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকরা যেন সঠিকভাবে এই কার্ড পান এবং কেউ যেন অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা নিতে না পারে, সেটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১৬টি সংস্থা ও অধিদপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্তর্বর্তী সরকার কিছু শীর্ষপদে পরিবর্তন আনলেও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে এখনো সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই দায়িত্বে রয়েছেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষি খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হলে প্রশাসনিক কাঠামোয় ব্যাপক পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ঘন ঘন বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ধান ও সবজি চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে খরার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ফসল বহুমুখীকরণ হবে সরকারের জন্য অগ্রাধিকারমূলক কাজ। টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তি সমপ্রসারণ না করলে খাদ্য উৎপাদনে চাপ বাড়তে পারে।
সার, বীজ, সেচ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, অন্যদিকে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষা এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে সম্ভাব্য বিএনপি সরকারকে। কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ড. আলম আরো উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি করা হয়েছিল। আর জিয়াউর রহমান সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তাঁর মতে, গভীর নলকূপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে খাল খননের মাধ্যমে পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।
দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে আবাদি জমি কমছে। দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতি ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন না হলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই নীতি ও আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে স্মার্ট কৃষি নিশ্চিত করতে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।
বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী ইশতেহারে বাজারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃষক-ভোক্তা সংযোগ জোরদার করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরাসরি ক্রয়ব্যবস্থা ও বিশেষ কৃষিবাজার স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে ভোক্তাপর্যায়ে দাম স্থিতিশীল রাখা হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
