• ই-পেপার

কৃষি খাতে সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

অমর একুশে বইমেলা

অমর একুশে বইমেলা
অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। স্টল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন

টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন
একটু কম দামে পণ্য কেনার আশায় টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। গতকাল মিরপুর ২ নম্বর থেকে তোলা। ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ভয়ে পরিবারসহ খুলনা ছাড়লেন মাছ ব্যবসায়ী

খুলনা অফিস
১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ভয়ে পরিবারসহ খুলনা ছাড়লেন মাছ ব্যবসায়ী

খুলনায় আশা শেখ নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি পরিবার নিয়ে শহরের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে একরামসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন নগরীর ময়লাপোতা কেসিসি সান্ধ্য বাজারে যান। সেখানে তাঁরা আশা শেখের নাম উল্লেখ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে দোকান খুললেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর বাজারের ২২২ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশা শেখ পরিবার নিয়ে খুলনার বাইরে অবস্থান করছেন। রবিবার তাঁরা খুলনা ত্যাগ করেন।

আশা শেখ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে পাইকারি হিসেবে মাছ সরবরাহ করেন। অভিযুক্ত একরামকে তিনি চেনেন না। তবু তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় সান্ধ্য বাজারের ব্যবসায়ী আশা শেখ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

রোজায় কম লাভের ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোজায় কম লাভের ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের

রোজায় লেবু-তেল-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্য কম লাভে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীররা। এ সময় ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতি পিস লেবু দুই টাকা, তেল প্রতি লিটারে এক টাকা, চিনি প্রতি কেজি এক টাকা, ছোলা দুই টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রামের প্যাকেটে পাঁচ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজিতে এত টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।

এ সময় কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা দিয়ে প্রতি পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে পাঁচ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু তিন-চার টাকায় বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবুর দাম ১৭ টাকায়ও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে দুই টাকা কমিয়ে দেব। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সব তেল বিক্রেতার পক্ষে আঁখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা পাঁচ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি পাঁচ লিটারে আরো পাঁচ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।

কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করব।

ছোলার দাম নিয়ে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এত দিন আমরা ছোলা ৮০ টাকা কিনে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন থেকে দুই টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকা বিক্রি করব।

রমজানের প্রয়োজনীয় আরেক পণ্য ট্যাং, এর দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দুই কেজি জার ট্যাং এক হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে বিক্রি হতো এক হাজার ৫৮০ টাকা। এখন এক হাজার ৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল। মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করব। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি দুই টাকা লাভ করতাম, এখন এক টাকা লাভে বিক্রি করব। এখন থেকে মিনিকেট চাল ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হবে।

এ সময় ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারো ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের অংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছেন। আমি ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দাম কমাব। তাদের জোরজবরদস্তি করে পায়ে ঠেলতে চাই না, বুকে ধরে দাম কমাতে চাই।