• ই-পেপার

ছবির অ্যালবাম

ছবির অ্যালবাম

ছবির অ্যালবাম
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করার জন্য নেওয়া হয় দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লাশ। গতকাল রাজধানীর জিয়া উদ্যানে

গণতন্ত্রের মহীয়সীর চিরবিদায়

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় (বাঁয়ে) এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সান্ত্বনা দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

 

গণতন্ত্রের মহীয়সীর চিরবিদায়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অন্যরা

 

গণতন্ত্রের মহীয়সীর চিরবিদায়

রাজধানীর গুলশান থেকে কঠোর নিরাপত্তায় জানাজার জন্য নেওয়া হয় লাশ (বাঁয়ে) এবং মাকে সমাহিত করে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান

 

গণতন্ত্রের মহীয়সীর চিরবিদায়

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

 

গণতন্ত্রের মহীয়সীর চিরবিদায়

 ছবি : কালের কণ্ঠ, পিআইডি ও বিএনপি মিডিয়া সেল

সব নির্বাচনেই অপরাজিতা

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন প্রতিটি নির্বাচনে। সর্বোচ্চ পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিনটি সংসদ নির্বাচনে। একটি নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সব কয়টি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন

কাজী হাফিজ
সব নির্বাচনেই অপরাজিতা

জীবনসঙ্গীর গড়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হাল ধরতেই বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির জটিল পথে পা রেখেছিলেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ। ওই বছরের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তিনি জনসমক্ষে প্রথম বক্তব্য দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর কয়েক মাস পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। পরের বছর দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন প্রতিটি নির্বাচনে। সর্বোচ্চ পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়েছেন তিনটি সংসদ নির্বাচনে। একটি নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সব কয়টি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৪০টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। জীবনের প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়ে ওই নির্বাচনে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচটিতেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি আসনে পরাজিত হন। বেগম জিয়ার আসনগুলো ছিল বগুড়া-৭, ঢাকা-৫, ঢাকা-৯, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মেজর (অব.) মান্নান ও ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির ছাদেক হোসেন খোকার কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। জয়ী হন শুধু গোপালগঞ্জ-৩ আসনে।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট ওই সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জন ও আন্দোলনের কারণে অংশগ্রহণমূলক হতে পারেনি। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। সংসদ স্থায়ী হয় মাত্র ১২ দিন এবং প্রতিশ্রুতি অনুসারে বিরোধী দলগুলোর দাবির সঙ্গে একমত হয়ে সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করা হয়।

অংশগ্রহণমূলক অন্য নির্বাচনগুলোর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচটিতেই জয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ করেন। আসনগুলো ছিল বগুড়া-৬ ও ৭, ফেনী-১, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচটিতেই জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখেন। এই নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ ও ৭, ফেনী-১, লক্ষ্মীপুর-২ ও খুলনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে এই নির্বাচনে শেখ হাসিনা পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়ে রংপুর-৬ আসনে পরাজিত হন। এই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে তিনটির বেশি আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান বাতিল করা হয়। ওই নির্বাচনের আগে বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা ছিল প্রকাশ্য। খালেদা জিয়ার দুই সন্তানকে নির্যাতন ও তাঁদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তারপরও পারিবারিকভাবে নিঃসঙ্গ খালেদা জিয়া ওই তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই বিপুল ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। আসনগুলো ছিল বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসন। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে চরম হিংসার প্রতিফলন ঘটানো হয়।

এর পরের তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনগুলো হয় তত্ত্ব্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাজানো মামলায় কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রার্থী হতে চাইলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

 

নারীর ক্ষমতায়নে যাঁর অপার অবদান

গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক আইডল

কেয়া আক্তার
নারীর ক্ষমতায়নে যাঁর অপার অবদান
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। —ফাইল ছবি

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্ব যখন হাতে গোনা, সেই সময়ে রাজনৈতিক উত্থান ঘটে এক সাধারণ গৃহবধূর। তিনি বাংলাদেশের সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার যাত্রাটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার পথচলা মোটেও সুখকর ছিল না। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন এই নেত্রী দেশের ইতিহাসে নারী নেতৃত্বকে শুধু দৃশ্যমানই করেননি করেছেন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত।

নানা প্রতিকূলতা পার করে নিজের নেতৃত্ব প্রদানের বিরল সক্ষমতার মাধ্যমে সামরিক শাসনোত্তর রাজনৈতিক এক অস্থির সময়ে তিনি দেশের হাল ধরেন। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে মূলত স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর। নিজের অসাধারণ দৃঢ়তা দিয়ে নেতৃত্বহীন অগোছালো দল বিএনপিকে পুনর্গঠন করে হয়ে ওঠেন দলটির আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। বারবার গৃহবন্দি, রাজনৈতিক চাপ ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়েও নিজেকে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় শুধু দলের জন্য নয়, দেশের ইতিহাসেও এক বড় পরিবর্তন আনে। সামরিক শাসনের অবসান ঘটার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন একজন নারী। তিনি এমন এক সময় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন যখন নারী নেতৃত্ব নিয়ে গোটা বিশ্বই ছিল বহু দ্বিধা ও প্রশ্নের মুখে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নিজ গুণে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে নারীরা শুধু শিক্ষা ও অর্থনীতি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সক্ষম।

সদ্য সামরিক প্রভাবমুক্ত একটি দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থায়ী করা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে সুশৃঙ্খল করার মতো বড় চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে তিনি দেশ পরিচালনায় নামেন। তাঁর সময়কালে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, টেলিকম খাতের বিকাশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুধু তা-ই নয়, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি নারীর ক্ষমতায়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি মেয়েদের জন্য শিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেন। এ ছাড়া নারীর অবস্থান দৃঢ় করতে তিনি নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য উদ্যোক্তা সহায়তা চালু করেছিলেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগও তিনি নিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, স্বাস্থ্য খাতে নারীকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য তিনি মাতৃস্বাস্থ্য সেবার উন্নতি ঘটিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরে গ্রামীণ ও শহর উভয় অঞ্চলে নারীরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হতে শুরু করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের জন্য বেগম খালেদা জিয়া এক অনুকরণীয় নাম। সাধারণ এক স্বামী হারানো নারী ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দলীয় স্বার্থ রক্ষায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার এই ত্যাগ ইতিহাসে বিরল। রাজনৈতিক কারণে পরিবার সন্তান থেকে দূরে থেকেও দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত কিছুর তোয়াক্কা না করে দেশের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু ইতিহাসই গড়েননি, একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার জন্ম দিয়েছিলেন।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও যিনি একটি দেশের পুরো রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন তিনি বেগম খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশই আমার ঠিকানা

খালেদা জিয়া

বাংলাদেশই আমার ঠিকানা
খালেদা জিয়া

(ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এর পর সকালে ঢাকা সিএমএম কোর্টে হাজির করা হলে আইনজীবীদের বক্তব্যের পর কোর্টের অনুমতি নিয়ে তিনি ৮টা ২৫ মিনিটে বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান। কোর্টে ১২ মিনিটব্যাপী মর্মস্পর্শী বক্তৃতা দেন তিনি।)

মা, জননী, জন্মভূমি আমার বাংলাদেশ। এ দেশই আমার ঠিকানা। এর বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশেই জন্মেছি আমি। এই দেশেই মরতে চাই।

বাংলাদেশকে নিয়ে বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং আমাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে আমাকে দেশ থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এখন আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি বাইরে চলে গেলে আজ আমাকে এভাবে গ্রেপ্তার হতে হতো না। আমি বলতে চাই, এই দেশের মাটি ছাড়া আমি এবং আমার পরিবারের কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না, কোথাও না।

আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়েছে। এই মামলা ষড়যন্ত্রের মামলা। বিএনপি পাঁচবার এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। বাংলাদেশের উন্নয়ন আর কল্যাণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আমার ও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ দেশের জন্য আমরা নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। আমার, আমাদের পরিবারের বা আমার ছেলেদের অর্থের কোনো লোভ নেই, অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই। এ দেশের জনগণের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমরা সব সময় পেয়েছি এবং পাচ্ছি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমরা সব সময় দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছি।

আমার প্রিয় দেশবাসীকে বিনীতভাবে জানাতে চাই, আমি ও আমার পরিবার সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। মহামান্য আদালতকে সবিনয়ে জানাতে চাই, আমরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাই এই মিথ্যা মামলা থেকে সুবিচার চাই। শুধু অমই নই, যেকোনো নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

মাননীয় আদালত, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে এ দেশের প্রতিটি মানুষই চেনে। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকই শুধু ছিলেন না, সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী হিসেবে আমি বলতে চাই, এ দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান অপরিসীম। এ দেশের যত উন্নয়ন ও কল্যাণ হয়েছে, তা শহীদ জিয়া ও জাতীয়তাবাদী দলের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিক। তাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন। এ দেশের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে মুক্ত করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছেন। তাঁর সময় বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি পর্যন্ত হয়েছে। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে গোটা মুসলিম উম্মাহসহ বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে এ দেশের আরো উন্নতি হতো। তিনি দেশকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত করেছিলেন। সেই চেতনার আলোকে দেশের কৃষক-শ্রমিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল; কিন্তু তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয়। তাঁর শাহাদাতের পর কুচক্রীরা ভেবেছিল তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি আর থাকবে না। এই দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা যাবে; কিন্তু জনগণ পরবর্তী সময়ে এই ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল করে দেয়।

আমি রাজনীতিতে আসতে চাইনি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর এ দেশের মা, বোন ও ছাত্র-জনতা এ দেশের স্বার্থে, বিএনপির স্বার্থে আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। দেশের কথা ভেবে, দলের কথা ভেবে এবং লাখ-কোটি মানুষের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি রাজনীতিতে আসি। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রামে অবতীর্ণ হই। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলি। তখনো আমাকে কয়েকবার হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন থেকে আমি পিছপা হইনি। সেদিন জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা আন্দোলন সফল করেছিলাম এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিলাম।

স্বৈরশাসনের অবসানের পর সবাই মিলে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারপ্রধান হিসেবে মনোনীত করি। তাঁর অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে আমার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিজয় লাভ করে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সরকার পরিচালনা করে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করতে আমরা সক্ষম হই। একইভাবে পরবর্তী সময়ে সরকারে এসেও উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে যাই। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এ দেশের যত উন্নয়ন হয়েছে, তার বেশির ভাগই জিয়াউর রহমান, আমি এবং বিএনপির অবদান। আমি বাংলাদেশের যত জায়গায় গিয়েছি, আর কেউ সম্ভবত এত জায়গায় যাননি। আমি আজ একটি কথা বলতে চাইএ দেশের কাজ করতে গিয়ে আমার দুটি পা পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে গেছে। এ দেশে বন্যা হলে, টর্নেডো ও ঘূর্ণিঝড় হলে আমি ছুটে গেছি দুর্গত এলাকায়। মানুষের সহযোগিতায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এবারের বন্যায় আমি দুর্গত মানুষের পাশে যেতে পারিনি। আমি যদি বন্দি না-ই থাকতাম, তাহলে তাদের কাছে কেন যেতে পারলাম না। আমার ও আমাদের পরিবারের অর্থের কোনো লোভ নেই, অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি কাউকেই প্রভাবিত করিনি, আমাকেও কেউ প্রভাবিত করেনি। আমরা সব সময় দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে এসেছি এবং যত দিন বেঁচে থাকব, এ দেশের কল্যাণেই নিজেকে নিবেদিত রাখব। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার থাকবেন। আমার ও পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।