ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০২৫ নির্বাচন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা মোট আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোয় ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অন্যদিকে ভোট চলাকালীন ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রার্থীরা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোয় এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৮০ শতাংশ আর ১৮টি হলে মোট ৭৮.৩৩ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে জানান ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জসীম উদ্দিন।
ছয় বছর পর জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে উত্ফুল্ল শিক্ষার্থীরা। ঢাবি সিনেট ভবনে ভোট দিতে আসা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান সম্রাট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আজকের (গতকাল) ভোট আমাদের প্রজন্মের দেখা সেরা ভোট হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নির্বাচনী পরিবেশ, সবকিছু অত্যন্ত ভালো ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরো বাড়িয়ে দেবে। জয়-পরাজয় যারই হোক আজ নির্বাচনব্যবস্থার জয় হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দেশে এই প্রথম কোনো ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হলো। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা শেষে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি। আমি খুবই আশাবাদী।’
এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি দেখে খুশি প্রার্থীরাও। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল বাছিত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যে-ই জিতি না কেন, আমাদের ভোটাররা যে এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে, তারা যে এত উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছে, এটা দেখে ভালো লাগছে। সবার এমন উপস্থিতি আমাদের আগামী দিনের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা গেছে প্রার্থী এবং তাঁদের সমর্থকদের। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রাজিয়া সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, কেন্দ্রের আশপাশে কোনো প্রচারণা হবে না। কিন্তু এখানে এসে দেখি, সবাই প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা আমাদের বিব্রত করেছে।’
