• ই-পেপার

শেখ হাসিনাকে ফারুকীর কটাক্ষ

যে ভোট রাতেই করে ফেলা যায় সেটা দিন পর্যন্ত রাখা হলো কেন

প্রথমবার ভোট দিতে পেরে আনন্দিত অনেক শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবার ভোট দিতে পেরে আনন্দিত অনেক শিক্ষার্থী

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আনন্দিত অনেক শিক্ষার্থী ও প্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত ডাকসু নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এবারের ডাকসু নির্বাচনে তাঁরা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরেছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাবের আহমেদ বলেন, ‘এটা আমার প্রথম নির্বাচন। আমি বিশ্বাস করি, যাঁকে আমি ভোট দিচ্ছি, তিনি আমার হয়ে আমাকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আমার নিজের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন তাঁর মধ্যে খুঁজে পাব।’ শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে প্রতিরোধ পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু। তিনি হুইলচেয়ারে করে একজন সহযোগীর সহযোগিতায় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ভোট দেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথম ভোট দিতে পেরে অসাধারণ লাগছে। গত ডাকসু নির্বাচনে ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়েও ভোট দিতে পারিনি। আর এবার এসেই আমি ভোট দিতে পেরেছি। এই ভোট দিতে পারাটাই জুলাই অভ্যুত্থানের বড় পাওয়া।’

 

সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের মৃত্যু
তরিকুল শিবলী

নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহকালে তরিকুল শিবলী (৪০) নামের এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কার্জন হলের সামনে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

শিবলী অনলাইনভিত্তিক টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’-এর সিটি রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানায়। বর্তমানে উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় থাকতেন। সহকর্মী সোহেল রানা বলেন, কার্জন হলের ভেতরে ডাকসু নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন শিবলী। তাঁর মাথা ও মুখে পানি দিলেও হুঁশ ফেরেনি। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রচণ্ড গরমের কারণে হয়তো তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।

 

 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডাকসুকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মেলালে ঠিক হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাকসুকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মেলালে ঠিক হবে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং ভোট দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে ভোটার, প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসার সবাই উচ্চশিক্ষিত। জাতীয় পর্যায়ে কিন্তু এ রকম হবে না। দুটি মিলিয়ে ফেললে হবে না। তবে অনেক বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। অবশ্যই এটা জাতীয় নির্বাচনের একটা মডেল হতে পারে।

গতকাল সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমরাও আশা করছি একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে মিডিয়াতেও দেখেছি, নির্বাচন ভালোভাবেই হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। দীর্ঘদিন পর একটা নির্বাচনের আমেজ তৈরি হয়েছে।’

সব কেন্দ্রে ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়

সরেজমিন

কেয়া আক্তার
সব কেন্দ্রে ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে গতকাল কার্জন হল কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০২৫ নির্বাচন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা মোট আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোয় ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অন্যদিকে ভোট চলাকালীন ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন প্রার্থীরা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোয় এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে।  বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৮০ শতাংশ আর ১৮টি হলে মোট ৭৮.৩৩ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে জানান ডাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জসীম উদ্দিন।

ছয় বছর পর জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে উত্ফুল্ল শিক্ষার্থীরা। ঢাবি সিনেট ভবনে ভোট দিতে আসা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান সম্রাট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আজকের (গতকাল) ভোট আমাদের প্রজন্মের দেখা সেরা ভোট হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নির্বাচনী পরিবেশ, সবকিছু অত্যন্ত ভালো ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরো বাড়িয়ে দেবে। জয়-পরাজয় যারই হোক আজ নির্বাচনব্যবস্থার জয় হয়েছে।’ 

বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দেশে এই প্রথম কোনো ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হলো। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা শেষে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছি। আমি খুবই আশাবাদী।’

এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি দেখে খুশি প্রার্থীরাও। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছিলেন প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল বাছিত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যে-ই জিতি না কেন, আমাদের ভোটাররা যে এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে, তারা যে এত উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছে, এটা দেখে ভালো লাগছে। সবার এমন উপস্থিতি আমাদের আগামী দিনের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা গেছে প্রার্থী এবং তাঁদের সমর্থকদের। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রাজিয়া সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, কেন্দ্রের আশপাশে কোনো প্রচারণা হবে না। কিন্তু এখানে এসে দেখি, সবাই প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা আমাদের বিব্রত করেছে।’

সব কেন্দ্রে ছিল ভোটারের উপচে পড়া ভিড়