শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে সচেতনতামূলক সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসিএসবি) এবং গ্রেগরীয়ানস অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে ও সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ প্রিন্সিপাল ব্রাদার প্লাসিড রিবেরু’র সভাপতিত্বে ও ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং আমেরিকার জন্স হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক-চিকিৎসক ও সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন।
স্বাগত বক্তব্যে ব্রাদার প্লাসিড রিবেরু প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি অনেকেরই অজানা বলে মন্তব্য করেন এবং অধিকতর সচেতনতার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টির ব্যাপক পরিসর তুলে ধরেন যার মধ্যে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্হ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার কেবল রোগের চিকিৎসা নয়, এটি মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার সমন্বিত সেবা। তরুণ শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে জানাটা অত্যন্ত জরুরি, কারণ তারাই ভবিষ্যতে সমাজে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া তার বক্তব্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবায় বাংলাদেশে অপ্রতুল ব্যবস্হার কথা তুলে ধরেন এবং তা নিরসনে কমিউনিটির ভূমিকা কী হতে পারে, সে’ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেন। এবং ছাত্রদের করণীয় কী হতে পারে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবা এখনো অপ্রতুল। এই ঘাটতি পূরণে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। ছাত্র-ছাত্রীরা যদি হতাশা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা গ্রহণ করে, তবে তারাই পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারে।
ডা. নাকিবউদ্দীন জীবন থেকে নেয়া ঘটনা তুলে ধরে পরিবারে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার কীভাবে পরিচালিত হতে পারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি ছাত্রদের মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্য পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্র-শিক্ষক এবং উপস্থিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নে বক্তারা মুগ্ধ হন। নিজেকে জানার উপায় কী হতে পারে, সুখ কাকে বলে এমন দার্শনিক প্রশ্নের পাশাপাশি প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমন সেবা বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে ছাত্রদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ডা. নাকিব অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ করতে এসে পরিবারে সহমর্মিতা, বন্ধুদের একে অপরকে সহায়তা এবং সমাজে অন্যের প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দেবার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ উৎসাহী ছাত্র শিক্ষকদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন বলে জানানো হয়।






