• ই-পেপার

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার ২২৬ জনের ২২২ জন বাংলাদেশি

বার্মিংহামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি
বার্মিংহামে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বার্মিংহামস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসের প্রথম পর্বে সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সহকারী হাইকমিশনে আয়োজিত আলোচনাসভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কাউন্সিলর, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও মিশনের সদস্যরা অংশ নেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনের সভাপতির ভিডিও বার্তা প্রদর্শিত হয়।

বক্তারা ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলা ভাষার সংরক্ষণ ও প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি এবং মাতৃভাষায় পরিচিতি প্রদান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

প্যারিসে ভাষা শহীদদের স্মরণে ইফতার মাহফিল

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
প্যারিসে ভাষা শহীদদের স্মরণে ইফতার মাহফিল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের পরিবেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন করেছে বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্স। ভাষা শহীদদের স্মরণে সংগঠনটির উদ্যোগে গার দ্যু নোর এলাকার ঐতিহ্যবাহী পানসী গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে দোয়া করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব ও ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, নাগরিক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ ,অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক সেনা সদস্য মীর জাহান, তরুণ চিন্তক মনোয়ার হোসেন, মানবাধিকারকর্মী তানভীর ওয়াদুদ এবং মহাকাশ বিজ্ঞানী ইকরামুল কবির সালমান। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠক শহীদুল ইসলাম, অ্যাক্টিভিস্ট খান খালেদ মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম ও আরাফাত রহমান।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু বাঙালির আবেগের দিন নয়; এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা চর্চা ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে প্রবাসীদের আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, প্রবাসে থেকেও ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে এ আয়োজন প্রমাণ করে— বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।
 

ইউনেস্কোতে মাতৃভাষা দিবস পালন, ভাষা সংরক্ষণে বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘোষণা

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ইউনেস্কোতে মাতৃভাষা দিবস পালন, ভাষা সংরক্ষণে বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘোষণা
ছবি: কালের কণ্ঠ

ইউনেস্কোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। ইউনেস্কো সদর দপ্তরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি।

শুক্রবার প্যারিসে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনই তরুণ প্রজন্মের জন্য মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউনেস্কো।

বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। মিশরের নাগরিক ড. এনানি তার বক্তব্য নিজ মাতৃভাষা আরবিতে উপস্থাপন করেন।

এবারের আয়োজনে প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাটির শীর্ষ তিন কর্মকর্তার এই বিরল উপস্থিতি বাংলাদেশের উদ্যোগকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সংস্থাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইউনেস্কোর কার্যক্রম তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে মাতৃভাষা সংরক্ষণে একটি শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি এবং তরুণ প্রজন্মকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি, কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে এ বছরের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাঞ্জানিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী ও পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী অংশ নেন। তাঞ্জানিয়ার মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য নিজ মাতৃভাষা সোয়াহিলিতে প্রদান করেন।’

এ ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা কেচুয়া ভাষাবিদ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্পেনের ভাষা গবেষক প্রফেসর ড্যামিয়েন ব্লাসি। আলোচকরা বক্তব্যের অংশবিশেষ নিজ নিজ মাতৃভাষায় উপস্থাপন করলে ইউনেস্কো প্রাঙ্গণে যেন বিশ্ব ভাষার এক জীবন্ত চিত্র ফুটে ওঠে।

দিবসটির শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল এবং প্যারিসভিত্তিক একটি বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর লোকসংগীত উপস্থিত কূটনীতিক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষা এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তাদের গর্বিত করেছে বলে অনুভূতি ব্যক্ত করেন তারা।

মালয়েশিয়ায় ক্রেনের আঘাতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

মোহাম্মদ আলী/মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় ক্রেনের আঘাতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান পেরাক এলাকায় ক্রেনের আঘাতে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সাইন বোর্ড মেরামতের কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত বাংলাদেশি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে স্পাইডার লিফটটি পরিচালনা করছিলেন। ফুটপাতের ধারে ধাক্কা লেগে ক্রেনটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং বাংলাদেশি কর্মীর ওপর উল্টে পড়লে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ক্রেনটি উল্টে যাওয়ার সময় পাশে থাকা একটি প্রোটন পারসোনা এবং একটি বিএমডব্লিউ ৫২৩আই গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত গাড়ি দুটির ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগ বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মো. ঈসা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেন মালিকের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কুয়ালালামপুর সিটি হলের পক্ষ থেকে কাজের কোনো বৈধ পারমিট ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে, পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় বা ট্রাফিক পুলিশের ০৩-২০৭১ ৯৯৯৯ হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।