• ই-পেপার

নিজের ফোনে যেভাবে পাবেন ভোটের ফলাফল

চীনা কম্পানির ভিডিও তৈরির এআই নিয়ে হলিউডে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
চীনা কম্পানির ভিডিও তৈরির এআই নিয়ে হলিউডে তোলপাড়
ছবিসূত্র : রয়টার্স

কল্পনা করুন—টম ক্রুজ আর ব্র্যাড পিট ধ্বংসস্তূপের ওপর হাতাহাতি করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কুং-ফু লড়ছেন, আর ক্যানি ওয়েস্ট চিনা রাজপ্রাসাদে মান্দারিন ভাষায় গান গাইছেন। গত সপ্তাহে ইন্টারনেটে এমন কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে সবার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভিডিওগুলো কোনো সিনেমার শুটিং নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

টিকটক-এর মালিকানাধীন চীনা কম্পানি বাইটড্যান্স বাজারে এনেছে ‘সিড্যান্স ২.০’। এটি এমন এক শক্তিশালী এআই টুল, যা মাত্র কয়েক মিনিটে একদম বাস্তবের মতো ভিডিও তৈরি করতে পারে। এটি কেবল ভিডিও নয়, মানুষের গলার স্বর ও হাঁটাচলার ধরনও হুবহু নকল করতে সক্ষম।

এই প্রযুক্তি আসার পরপরই হলিউডের বড় বড় কম্পানি যেমন—ডিজনি ও প্যারামাউন্ট ক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি তাদের সিনেমার চরিত্র এবং কপিরাইট করা তথ্য অনুমতি ছাড়াই এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। তারা কম্পানিটিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। আমেরিকার প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই নিয়ে এখন চিন আর আমেরিকার মধ্যে এক নতুন মহাকাশ লড়াই (স্পেস রেস) শুরু হয়েছে।

‘সিড্যান্স ২.০’-এর ক্ষমতা দেখে হলিউডের ডেডপুল সিনেমার প্রযোজক রেট রিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, হলিউড হয়তো ধ্বংসের মুখে বা বড় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে। বিশেষজ্ঞরা ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে ডিপফেকের মাধ্যমে যেকোনো মানুষের ভুয়া কিন্তু বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো সম্ভব। কেবল একটি ছবি থেকে কারো গলার স্বর নকল করা এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার।

চীন সরকার এআই-কে তাদের জাতীয় শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখছে। সম্প্রতি চীনা নববর্ষের অনুষ্ঠানে মানুষের মতো দেখতে রোবটদের মার্শাল আর্ট এবং ব্যাক-ফ্লিপ করতে দেখা গেছে। তবে বিতর্কের মুখে বাইটড্যান্স জানিয়েছে, তারা মেধা সম্পদ রক্ষায় আরো কঠোর হবে এবং এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে বিশেষ লেবেল বা চিহ্ন ব্যবহার করবে।

মার্কিন কোম্পানি ওপেনএআই-এর ‘সোরা’ ও চিনের ‘সিড্যান্স’ এর মধ্যে এখন চলছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। কে কার ডেটা ব্যবহার করে নিজের এআই-কে বেশি বুদ্ধিমান করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির যেমন দ্রুত উন্নতির ক্ষমতা আছে, তেমনই একটু অসাবধানতায় বড় ধরনের সামাজিক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকিও রয়েছে।

কী হয়েছিল ইউটিউবে?

অনলাইন ডেস্ক
কী হয়েছিল ইউটিউবে?
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে হঠাৎই ভিডিও দেখা এবং ব্রাউজিংয়ে বিঘ্নের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ত্রুটি সমাধান হয়েছে। ইউটিউব সেবা স্বাভাবিক আছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যবহারকারীরা ভিডিও দেখা যাচ্ছে না, হোমপেজে সার্চ করা কনটেন্ট আসছে না এরকম অভিযোগ করতে শুরু করেন। অনেকেই জানান, ইউটিউব অ্যাপ ঠিকমতো লোড হচ্ছে না।

আরো পড়ুন
রমজান উপলক্ষে টিসিবির বিক্রি শুরু, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য

রমজান উপলক্ষে টিসিবির বিক্রি শুরু, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য

 

আউটেজ-পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর জানায়, অভিযোগ বাড়তে বাড়তে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। তবে এসব সংখ্যা ব্যবহারকারীদের স্বপ্রণোদিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

পরে ইউটিউব এ বিষয়ে এক বিবৃতি দেয়। এতে জানানো হয়, তাদের ‘রেকমেন্ডেশন সিস্টেম’-এ সমস্যা হয়েছিল। এই ত্রুটির কারণে প্ল্যাটফর্মজুড়ে ভিডিও প্রদর্শনে বিঘ্ন ঘটছিল। হোমপেজ, সার্চ ও অন্যান্য জায়গায় ভিডিও দেখা যায়নি। এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা হয় এবং টেকনিক্যাল টিম তা সমাধান করে। বর্তমানে ইউটিউব ডটকম, মোবাইল অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক, ইউটিউব কিডস এবং টিভি—সব সেবাই স্বাভাবিক আছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরো কিছু দেশের ব্যবহারকারীরাও একই ধরনের সমস্যা কথা জানান। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকো। ডাউনডিটেক্টরেও এসব দেশের অভিযোগ প্রতিফলিত হয়।

এসব সমস্যা কতক্ষণ স্থায়ী ছিল সে বিষয় স্পষ্ট করেনি ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। তবে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ দ্রুত কমতে শুরু করে। এ থেকে ধারণা করা যায়, সমস্যা সীমিত সময়ের মধ্যেই সমাধান করা হয়। ইউটিউব এ ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, সেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক আছে।

ভ্যালেনটাইনস ডেতে প্রতারণা রুখবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
ভ্যালেনটাইনস ডেতে প্রতারণা রুখবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

ভ্যালেনটাইনস ডে সামনে এলেই অনলাইন প্রতারকদের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ করে ফ্লার্টি বা বন্ধুসুলভ টেক্সট মেসেজ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর বেশিরভাগই রোমান্স স্ক্যাম— যার লক্ষ্য হলো আপনাকে কথোপকথনে জড়িয়ে ফিশিং লিংকে ক্লিক করানো বা ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা।

কিভাবে শুরু হয় ‘রং নাম্বার’ স্ক্যাম?

এই ধরনের প্রতারণা সাধারণত একটি নিরীহ বা বন্ধুসুলভ বার্তা দিয়ে শুরু হয়, যা দেখে মনে হয় ভুল করে অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে। বার্তায় থাকতে পারে জরুরি কোনও বিষয়— যেমন চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পুরনো প্রেমের স্মৃতি, কিংবা অফিস সংক্রান্ত সমস্যা। উদ্দেশ্য একটাই: প্রাপক যেন সহানুভূতি বা কৌতূহলবশত উত্তর দেন।

আপনি একবার উত্তর দিলেই প্রতারক ক্ষমা চেয়ে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আলাপ গড়ায় ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক দিকে। কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর শুরু হয় আসল ফাঁদ— নগদ অর্থ চাওয়া, ভুয়া ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব, কিংবা অনুদানের লিংক পাঠানো।

এরপর একসময় প্রতারক উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগীর হাতে থাকে শুধু কিছু টেক্সট মেসেজ, আর হারিয়ে যায় অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য।

উত্তর দিলেই ঝুঁকি

সব ‘ভুল নম্বর’ মেসেজ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ না হলেও, উত্তর দিলেই আপনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ এতে আপনার নম্বরটি সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেটি পরবর্তীতে অন্য প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এখন হাজার হাজার বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে। ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাগুলো ব্যক্তিগতকৃতও হতে পারে।

সন্দেহজনক মেসেজ পেলে কী করবেন?

১. উত্তর দেওয়ার আগে নম্বর যাচাই করুন
গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে নম্বরটি খুঁজে দেখুন। অনেক সময় স্প্যাম রিপোর্টিং সাইটে নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়।

২. ব্লক, ডিলিট ও রিপোর্ট করুন
যদি নিশ্চিত হন এটি প্রতারণা, তাহলে নম্বরটি ব্লক করুন, মেসেজ মুছে ফেলুন এবং মোবাইল অপারেটরকে স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করুন। এতে ভবিষ্যতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা হয়।

৩. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো ফিশিং সাইট হতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে।

৪. মেসেজ ফিল্টার চালু করুন
আইফোন ব্যবহারকারীরা মেসেজ ফিল্টার চালু করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডেও অপরিচিত প্রেরকের মেসেজ আলাদা ফোল্ডারে চলে যায়।

৫. ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন
ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইট থেকে নিজের নাম ও নম্বর সরানোর উদ্যোগ নিন, অথবা ডাটা রিমুভাল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন।

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তায় উত্তর না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। প্রতারকদের সঙ্গে বুদ্ধির লড়াইয়ে নামা আকর্ষণীয় মনে হলেও, তারা অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মনে রাখুন—
রিপ্লাই নয়, ক্লিক নয়, শেয়ার নয়।

শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্সের সঙ্গে বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্সের সঙ্গে বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া
ছবিসূত্র : রয়টার্স

গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্সে শিশুরা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। প্ল্যাটফর্মটিতে শিশুদের যৌন শিকারিদের কবলে পড়া এবং আপত্তিকর দৃশ্য বা গ্রাফিক কন্টেন্ট দেখার খবর সামনে আসার পর অস্ট্রেলীয় সরকার রবলক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস রবলক্স কম্পানিকে চিঠি লিখে তার গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রবলক্সে শিশুদের সঙ্গে যা ঘটছে এবং যেভাবে তাদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। অস্ট্রেলীয় অভিভাবক ও শিশুরা রবলক্সের কাছে আরো নিরাপদ পরিবেশ আশা করে।

রবলক্সের বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত ও গ্রাফিক দৃশ্য বা কন্টেন্ট প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের লোভ দেখিয়ে বা ফুঁসলিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে অপরাধীরা।

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা সংস্থা ই-সেফটি কমিশনার জানিয়েছে, তারা রবলক্সের শিশু-নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করে দেখবে। যদি দেখা যায় রবলক্স দেশের অনলাইন সুরক্ষা আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে কম্পানিটিকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

২০২৫ সালে রবলক্স শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং চ্যাট করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা চালু করেছিল। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই পদক্ষেপগুলো শিশুদের পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারছে না। আপাতত অস্ট্রেলিয়া সরকার এই গেমটিকে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় না ফেললেও তাদের কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স