• ই-পেপার

ঢামেকে কারাবন্দির মৃত্যু

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি পুলিশের
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’

পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান

দক্ষ গাড়িচালক তৈরিতে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষ গাড়িচালক তৈরিতে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সরকার দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরি করতে প্রশিক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গাড়ি চালকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য এই প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ের (ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১) অধীনে পরিচালিত পেশাদার গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, বিআরটিএ অনলাইনে বিভিন্ন সেবাকে আরো স্মার্ট ও গতিশীল করেছে, যাতে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমে। এখন এসব সেবা সম্পর্কে সকলকে জানতে হবে।  

এসময় বিআরটিএর প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোছাম্মাৎ মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন সংস্থার অডিট ও আইন শাখার পরিচালক (যুগ্মসচিব) রুবাইয়াত-ই-আশিক। এ ছাড়া এতে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জিয়াউর রহমান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তারই অংশই হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার এই কেন্দ্রে পরিচালনা করা হচ্ছে।

নদী রক্ষায় তরুণসমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নদী রক্ষায় তরুণসমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

নদী রক্ষায় তরুণসমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দখল ও দূষণের কারণে দেশের নদী ও জলাভূমি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অথচ নদী ও জলাভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। তাই নদী দখল ও দূষণ বন্ধ এবং জলাভূমি সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন
খুলনায় সাবেক সাংসদের জামাতা নিখোঁজ, ৪৮ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান

খুলনায় সাবেক সাংসদের জামাতা নিখোঁজ, ৪৮ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান

 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে ‘নদীতে প্রাণের কান্না : বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ শীর্ষক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী। 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রামের রৌমারির ইটালুকান্দার ডিগ্রীর চর থেকে ভোলার চর কুকরি-মুকরি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেটে পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। 

তিনি বলেন, নদীর এই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাস্তা খুজে বের করা। নদীর পাড় ধরে হাটতে গিয়ে নদীর পাড়ের মানুষের যেমন বৈচিত্রতা দেখেছি তেমন নদী ভাঙন, দূষণ এবং চরের ভয়াবহতা দেখে আতকে উঠেছি।

মূল বক্তব্যে ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকারও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নদী-খাল পুনরুদ্ধার বা পুনঃখননের আগে চলমান দখল ও দূষণ বন্ধ করা জরুরি। গাছ লাগানোর গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু তাঁর আগে গাছ কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর উপর মানুষের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা ভীষণভাবে নির্ভর করে, নদী ধ্বংশ হলে বিপর্যস্ত হয় সংশ্লিষ্ট জনপদ। তাই আমরা চাই সরকার নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ করুক, জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তার বন্ধ করুক।

আরো পড়ুন
রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ

রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ

 

রিভার বাংলা’র সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল, বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, পিইএকে ৬৯-এর স্বত্বাধিকারী হানিয়াম মারিয়া রাকা, চুনতি রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়ক সানজিদা রহমান প্রমুখ।

ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক জসিম, সদস্যসচিব আরিফ

অনলাইন ডেস্ক
ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক জসিম, সদস্যসচিব আরিফ
সংগৃহীত ছবি

সদস্য এবং সদস্যদের সন্তানদের মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ডিবেটিং ক্লাব’। ৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম (মীর মোহাম্মদ জসিম) এবং সদস্যসচিব হয়েছেন সিনিয়র সদস্য শেখ মো. আরিফ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল স্বাক্ষরিত এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নিয়াজ মাহমুদ সোহেল (অর্থ সম্পাদক), জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না (নারীবিষয়ক সম্পাদক), মাহমুদ সোহেল (তথ্য-প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক), মাহফুজ সাদী (কার্যনির্বাহী সদস্য), কাজী শহীদুল আলম (আজকালের খবর), মো. রিয়াসাদ আজিম (রিয়াসাদ আজিম ডটকম) এবং আসিফ জামান সুমিত (একুশে টিভি)।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২৬ ডিআরইউতে একটি ডিবেটিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে কার্যনির্বাহী সভায় ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ডিবেটিং ক্লাব’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। সিদ্ধান্তমতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।