অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বর্তমানে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকা ডিজিটাল পরিসর শিশুদের জন্য অনলাইন যৌন শোষণ ও ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক শিশু অনলাইনে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল বা সেক্সটোরশনের শিকার হচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিস কেন্দ্র’ (আসক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
‘অনলাইন শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধে করণীয়’ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন আসকের নির্বাহী পরিষদের সদস্য গবেষক তাহমিনা রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমান আইনি কাঠামোতে অপরাধীদের শাস্তির বিধান থাকলেও ভুক্তভোগী শিশুর মানসিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় সেবা ও পুনর্বাসনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত জ্ঞান বৃদ্ধি, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং একটি শিশুবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক আইনি পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরো পড়ুন
চাঁদাবাজ ধরে মাইকিং গ্রেপ্তার ফারুক রিমান্ডে
সরকারি সংস্থাগুলো শিশুদের নিরাপদ অনলাইন ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিনিয়র সহকারি পরিচালক শিবলী ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, শিশুরা সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এটাই আমাদের চাওয়া। তাদের অনলাইন সুরক্ষা ও যৌন স্বাস্থ্যকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে শিশুদের সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণ করা আছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়নি। বিটিআরসি চাইলেই যে কোন অনলাইনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। এক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট এণ্ড ইনভেষ্টিগেশন ইউনিটের কর্মকর্তা ফারহানা মৃধা বলেন, শিশুদের যে ডিভাইসনির্ভরতা তৈরি হয়েছে, তাতে তারা ইতিবাচক তথ্যের পাশাপাশি নেতিবাচক ও অনিরাপদ জগতের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কিশোর-কিশোরীরা পাচার ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এমনকি দেশের বাইরে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের মাধ্যমে তাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থা যে কাজ করছে সে সম্পর্কে অধিকাংশের ধারণা নেই। যে কারণে আমরা যথাসময়ে সঠিক জায়গায় অভিযোগ দিতে পারিনা। ফলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার এ সংক্রান্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
টেরে দেস হোমসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর (সুফাসেক প্রজেক্ট) সুপা বড়ুয়া বলেন, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে মোকাবেলা করা জরুরি। বর্তমানে উন্নয়ন ভাবনায় আমরা শিশুর ক্ষেত্রে কেবল মেয়ে বা নারী হিসেবে আলাদা করে না দেখে জেন্ডার ইকুইটির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্বজুড়ে ছেলে শিশুদের সচেতন করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আশা করি আমাদের দেশেও সে ধারা শক্তিশালী হবে।
আরো পড়ুন
বাহ্যিক নয়, অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনেই রমজানের প্রকৃত সার্থকতা
আসকের প্রকল্প কর্মকর্তা শিল্পী শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন গুড নেইবারস বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান আনন্দ কুমার দাস, স্ক্যান বাংলাদেশের সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির, নাগরিক উদ্যোগের প্রকল্প কর্মকর্তা লাকী আক্তার প্রমুখ।