রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বেধড়ক পিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচারের সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে লাঠিপেটা করেন একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাঁদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিল যে তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’
গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তাঁর রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তাঁর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।


