• ই-পেপার

এনটিআরসিএ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি পাবেন ৬৭২০৮ জন

<li>দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শুধু নিবন্ধন সনদধারী প্রার্থীরাই আবেদনের সুযোগ পাবেন। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। দরকারি তথ্য জানাচ্ছেন সাজিদ মাহমুদ</li>

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে অতঃপর পুলিশ ক্যাডার

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স করেছেন নাভিদ তাসনিম। অনার্সে প্রথম দিকে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করেছিলেন। কিন্তু অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ৪৩তম বিসিএসে তিনি পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর সফলতার গল্প শুনেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে অতঃপর পুলিশ ক্যাডার
নাভিদ তাসনিম

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

অনার্সের প্রথম তিন বছর নাভিদ ছিলেন ক্লাসের সবচেয়ে অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের একজন। দ্বিতীয় বর্ষে একটি বিষয়ে একাধিকবার ফেল করেন। ফেল করেন তৃতীয় বর্ষেও। পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় মোবাইল রিচার্জের দোকান চালাতেন। একপর্যায়ে পড়াশোনায় মন দেন। অনার্সের চতুর্থ বর্ষেই ঘুরে দাঁড়ান। আগের দুই বছরে যেসব বিষয়ে ফেল করেছিলেন, এবার সেগুলোতে পাস করেন। শুধু তাই নয়, অনার্সের চার বছরের মধ্যে অর্জন করেন সর্বোচ্চ পয়েন্ট। নাভিদের উপলব্ধিচাইলে জীবনে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। এরই ধারাবাহিকতায় সফল হন বিসিএসেও।

 

সফল ক্যারিয়ার

অনার্স সম্পন্ন করে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তিন বছর ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরের দায়িত্ব পালন করেন নাভিদ। ৪১তম বিসিএস ছিল তার প্রথম বিসিএস। প্রথমবারেই নন-ক্যাডার ইনস্ট্রাক্টর (পদার্থবিজ্ঞান) পদে নিয়োগ পান। দ্বিতীয় বিসিএস অর্থাৎ ৪৩তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। পরবর্তী বিসিএসেও ভাইভায় ডাক পেয়েছিলেন; কিন্তু ইতোমধ্যে পছন্দের ক্যাডার পেয়ে যাওয়ায় আর ভাইভা দেননি। আগে থেকেই তার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন, তাই অন্যকোনো চাকরিতে তেমন আবেদন করেননি।

 

পরীক্ষার জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতি

প্রিলিমিনারি : প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রথমে তিনি বিগত বছরের বিসিএস প্রশ্নপত্রের কাঠামো বিশ্লেষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বাছাই করে বিষয়ভিত্তিক বই থেকে সম্পূর্ণ অধ্যায় দাগিয়ে পড়েন। পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো হাইলাইট করে আলাদা মনোযোগ দেন। একই সঙ্গে বিগত এক দশকের জব সলিউশন বা প্রশ্ন ব্যাংক নিয়মিত সমাধান করেন। তিনি অনলাইন ও অফলাইনউভয় মাধ্যমেই নমুনা প্রশ্নে মডেল পরীক্ষায় অংশ নেন। নতুন ও আনকমন প্রশ্নগুলোর উত্তর আলাদাভাবে নোট করে বারবার রিভিশন দেন তিনি। সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেপ্রথম এক ঘণ্টায় গণিত ও মানসিক দক্ষতা বাদ দিয়ে বাকি যেসব প্রশ্নে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, সেগুলোর উত্তর দিতেন। পরবর্তী ত্রিশ মিনিটে গণিত ও মানসিক দক্ষতার অংশ শেষ করতেন। এরপর নিশ্চিতভাবে দেওয়া উত্তরের সংখ্যা গণনা করতেন। শেষ ত্রিশ মিনিটে সম্ভাব্য কাটমার্ক বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় বাকি নম্বর পূরণের লক্ষ্যে প্রশ্ন দাগাতেন। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রশ্নের উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি, সেগুলোতে জোর দিতেন। সাধারণত তিনি প্রিলিতে ১৪৫ থেকে ১৫৫টির বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতেন না।

 

লিখিত : নাভিদ বলেন, লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই পড়ার পাশাপাশি অনলাইন থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা সংক্ষিপ্ত নোট আকারে প্রস্তুত করতাম। উত্তর লেখার সময় সৃজনশীলতা ও স্পষ্টতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। মানচিত্র, তথ্য-উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক উক্তি ব্যবহার করে উত্তরের গুণগত মান বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি।

খাতায় লেখার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতেন। উত্তর লেখার ক্ষেত্রে মূল বক্তব্যগুলো বুলেট পয়েন্টে উপস্থাপন করতেন এবং প্রয়োজনে একাধিক কালির ব্যবহার করতেন। দীর্ঘ লেখা গঠনের পরিবর্তে প্রশ্নের মূল উত্তর পয়েন্ট আকারে, সুসংগঠিত ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন। উত্তরের শুরু ও শেষে নীল কালিতে প্রাসঙ্গিক উক্তি ব্যবহার, অর্থনৈতিক সমীক্ষা বা অন্যান্য উৎস থেকে ছক আকারে ডাটা উপস্থাপন, সম্ভাব্য সমস্যা ও সমাধান এবং নিজের সুপারিশগুলো স্পষ্টভাবে লিখতে তিনি গুরুত্ব দিতেন। তিনি জানান,  প্রতিদিন নিয়মিত লেখালিখির অভ্যাস এবং ইংরেজি পত্রিকার অনুবাদের চর্চা ইংরেজি পরীক্ষায় বিশেষ করে অনুবাদ অংশে নম্বর বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

 

ভাইভা : ভাইভা পরীক্ষার জন্য নিজ জেলার ইতিহাস ও বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে ধারণা নেন নাভিদ। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও পছন্দের শীর্ষ দুইটি ক্যাডার নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতেন। ইংরেজিতে কথোপকথনে স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিদিন নিজে নিজে চর্চা করতেন। ভাইভায় তিনি আত্মবিশ্বাস, আই-কন্টাক্ট এবং হাসি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতেন। নিজ জেলা, নিজ বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ এবং পছন্দের ক্যাডারের সঙ্গে নিজের যোগসূত্র ও প্রাসঙ্গিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কেন ওই ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ করেছেন, নিজেকে কিভাবে সেই ক্যাডারের জন্য উপযুক্ত মনে করেন এবং চাকরি পেলে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা কীএই বিষয়গুলো যাতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন, সেই প্রস্তুতি ছিল তার।

রুটিন ও সময় ব্যবস্থাপনা

গড়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় দিতেন তিনি। অন্য চাকরিতে থাকা অবস্থায় বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তাই মূল পড়াশোনার সুযোগ হতে সন্ধ্যার পর। তার মতে, প্রতিদিনের নির্ধারিত পড়ার অংশটি ভালোভাবে বুঝে আয়ত্ত ও আত্মস্থ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাছে পড়াশোনার সময়ের চেয়ে প্রস্তুতির গুণগত মানই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তিনি শর্টকাট সিলেবাস এড়িয়ে প্রথমে বিষয়গুলো বিস্তারিত পড়তেন বোঝার জন্য।

 

প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ

কেবল বিসিএসকেন্দ্রিক প্রস্তুতিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথম শ্রেণির একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হওয়া। পাশাপাশি প্রচণ্ড ধৈর্যশীল হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ এ গুণটি প্রস্তুতির চেয়েও কর্মক্ষেত্রে আরো বেশি কাজে আসে। তিনি মনে করেন, যা-ই পড়া হোক না কেনমনোযোগ দিয়ে, বুঝে এবং জানার উদ্দেশ্যে পড়া জরুরি। এমনভাবে পড়তে হবে, যেন প্রয়োজনে অন্যকে শেখানো যায়। নিত্যনতুন বই কেনার চেয়ে একই বই বারবার দাগিয়ে পড়াকে তিনি বেশি কার্যকর বলে মনে করেন। একই সঙ্গে যত বেশি সম্ভব, মডেল টেস্টে অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য দরকারসঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য, যথাসাধ্য পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস। প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে সহজভাবে দেখতে হবে। একবারে অনেক দূরের চিন্তা না করে ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই সফল হওয়া যাবে। নিজের লক্ষ্য ও প্রস্তুতির মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে।

 

অফিসার ক্যাডেট নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

৯৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অফিসার ক্যাডেট নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আবেদন করতে হবে অনলাইনে, ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাজিদ মাহমুদ

অফিসার ক্যাডেট নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

প্রার্থী নির্বাচন ধাপ

মোট ৫টি ধাপে যোগ্য অফিসার ক্যাডেট নির্বাচন করা হবে। প্রথম ধাপে প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা। দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা। তৃতীয় ধাপে আন্তঃবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ বা আইএসএসবি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার। চতুর্থ ধাপে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সবশেষে, চূড়ান্ত নির্বাচন এবং যোগদান সম্পর্কিত নির্দেশনা।

 

পরীক্ষা পদ্ধতি

ঢাকা সেনানিবাসসহ বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) নেওয়া হবে ১২ এপ্রিল ২০২৬, চলবে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত। প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে সাক্ষাৎকার পত্রে উল্লিখিত কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে ৮ মে ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৯টায়। লিখিত পরীক্ষার ফল সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। আন্তঃবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ বা আইএসএসবি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে ঢাকা সেনানিবাসে। আইএসএসবি পরীক্ষা চার দিনে শেষ হবে। উক্ত পরীক্ষার ফল আইএসএসবির ওয়েবসাইটে (www.issb-bd.org) প্রকাশ করা হবে। আইএসএসবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত নির্বাচন এবং যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা

চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীরা বিএমএতে তিন বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীরা লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন লাভ করবেন। কমিশন পাওয়ার পর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সশস্ত্রবাহিনীর বেতনক্রম অনুসারে অফিসার ক্যাডেটরা বেতন পাবেন। পরবর্তী সময়ে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। এ ছাড়া রয়েছে উচ্চতর শিক্ষা ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানদের অধ্যয়নসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা।

 

প্রার্থীর যোগ্যতা

এসএসসি বা সমমান ও এইচএসসি বা সমমান উভয় পরীক্ষাতেই আলাদাভাবে জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৬ থেকে ২১ বছর। সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ২৩ বছর। পুরুষ প্রার্থীদের বেলায় ন্যূনতম শারীরিক যোগ্যতাউচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। ওজন ৫৪ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি, প্রসারণে ৩২ ইঞ্চি। মহিলা প্রার্থীদের বেলায় উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। ওজন ৪৬ কেজি। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি, প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি।

 

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন : https://join.army.mil.bd    

ভাইভা অভিজ্ঞতা

সংবিধানের আর্টিকেল ৭৬ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়েছেন শান্ত দেব রায় অর্ন। তিনি ১৭তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর বিজেএস ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

সংবিধানের আর্টিকেল ৭৬ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন
শান্ত দেব রায় অর্ন

প্রশ্নকর্তা : আপনার এলএলবি, এলএলএমদুটোতেই ভালো রেজাল্ট।

জি স্যার, চেষ্টা করেছি ভালো রাখার।

আপনি কি ক্যাডেট কলেজে সায়েন্স নিয়ে পড়েছিলেন?

জি স্যার।

এটা কি আপনার প্রথমবার জুডিশিয়ারি পরীক্ষা?

জি স্যার, প্রথমবার।

বলুন, এলএলবির ফুল মিনিং কী?

ব্যাচেলর অব ল।

না, আরেকটা আছে, ওটা বলেন।

Legum Baccalaureus.

লিখে দেখান। (আমি বানান ভুল করেছিলাম, স্যার বললেন, একটা শব্দ বেশি লিখেছেন। বললাম, স্যরি স্যার।)

আর্টিকেল-১২৬ ও ১১২ ব্যাখ্যা করুন, পার্থক্য কী, বলুন।

(আমি আর্টিকেল-১২৬ বিস্তারিত বলতে পারিনি। শুধু বলেছিলাম নির্বাচন চলাকালীন নির্বাহী বিভাগ সহায়তা করবে, আর বিচার বিভাগ দায়িত্ব পালন করে। তখন স্যার বললেন, বিচার বিভাগ কেন করবে? কোথায় বলা আছে?)

বিজেএসসি-এর কাজ কী?

(আমি দুটো কাজ বলতে পেরেছিলাম, কিন্তু স্যার আরো শুনতে চেয়েছিলেনআর বলতে পারিনি। এরপর স্যার  বিজেএসসি চেয়ারম্যানের নাম জানতে চাইলেন, বললাম।)

 

ভাইভায় আমার সিরিয়াল ছিল শেষের দিকে। তাই কাগজপত্র যাচাই শেষে নিচে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে ভাইভার ফ্লোরের নিচ তলায় রেস্ট রুমে গিয়ে টানা তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছিলাম। আমার মতে, ব্রেন ঠান্ডার জন্য ঘুম জরুরি। রাত ৮:১০টার দিকে নিয়ে ভাইভা বোর্ডে ডাক পড়ে। রুমে ঢোকার পরই স্যার বললেন, আসেন আসেন, বসেন। এ কথা শুনে মনে হচ্ছিল, অল্প প্রশ্ন করেই স্যার ছেড়ে দেবেন।

 

সংবিধানের আর্টিকেল ৭৬ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন।

(পুরোটা মুখস্থ ছিল, টানা বলে দিলামকমিটির গঠন, কার্যাবলিসব কিছুই বললাম।)

শপথ পাঠ ও সমনএটা কিভাবে করে?

(আমি প্রথমে বলেছিলাম, স্যার খুশি হননি। পরে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করায় কিছুটা খুশি হলেন।)

বাংলাদেশের সংবিধানে নেই; কিন্তু অন্য দেশের সংবিধানে আছেএমন ৩টি বিষয় বলুন, যেগুলো আমাদের সংবিধানে পরিবর্তনযোগ্য হতে পারে।

১. দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধানে Fundamental RightsFundamental Principles উভয়ই Enforceable

২. বেলজিয়ামের সংবিধানে Unicameral সংসদ থেকে Bicameral সংসদে রূপান্তর ঘটেছে।

৩. গণভোটের বিধান।

South African কোনো Case law বলতে পারবেন?

একটি বলতে পেরেছিলাম। স্যার কিছুটা খুশি হলেন, কিন্তু আরেকটা জানতে চাইলে বলতে পারিনি।

Order 22’ Explain in English.

Order 22 deals with the procedure in case of death, marriage, or insolvency of parties in civil proceedings.

(আরো তিনজন স্যার বসা ছিলেন। তারা প্রশ্ন করেননি, শুধু মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। স্যার তখন অন্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, আর কেউ কিছু জানতে চান? অন্য স্যাররা মাথা নাড়লেন। এরপর স্যার আমাকে ছেড়ে দিলেন। আমি সালাম দিয়ে স্যারদের কাছে দোয়া চেয়ে উঠে পড়লাম। বের হওয়ার সময় আবার সালাম দিলাম। দেখলাম, বোর্ডের সবাই গভীর দৃষ্টিতে আমাকে দেখছেন।)

 

 

৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ৩০ জানুয়ারি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার আগ মুহূর্তের কৌশল, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে লিখেছেন ৪৪তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার (সহকারী পুলিশ সুপার) ও ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে (সহকারী কমিশনার) সুপারিশপ্রাপ্ত এম তাওফিক ইমাম খান

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগ মুহূর্তের রুটিন

বিগত বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়ুন। ১০তম বিসিএস থেকে ৪৯তম বিসএসের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়লে প্রশ্ন ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে আসলেও উত্তর দিতে পারবেন। নিজের শক্তিমত্তার জায়গাটি খুঁজে বের করুন। সবাই সব বিষয়ে অভিজ্ঞ হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। নিজের অবস্থা (শক্তির জায়গা বা দুর্বলতা) শনাক্ত করে প্রস্তুতির পরিকল্পনা সাজাতে হবে। যে যেই বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করুন। আগামী কয়েক দিনের পাঠ-পরিকল্পনা সাজান। রিভিশনের ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থার কথা মাথায় রাখুন। এই মুহূর্তে নতুন কোনো পড়া কিংবা একই বিষয়ের নতুন বই পড়া থেকে বিরত থাকুন। এত দিন যা যা পড়া হয়েছে, সেগুলো রিভিশনে জোর দিন।

 

সাম্প্রতিক বিষয়

সাম্প্রতিক তথ্যাবলি নিয়ে পরিকল্পনা সাজান। প্রতিটি প্রিলিমিনারিতেই সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে ৫ থেকে ৭টি প্রশ্ন থাকে। সাধারণত কোনো পরীক্ষার ১০-১৫ দিন আগেই প্রশ্নপত্র খসড় হয় বা সম্পাদনার জন্য যায়। তাই পরীক্ষার আগের ১০-১৫ দিনের তথ্য নিয়ে অহেতুক চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই। ২০২৫ সালের শেষ তিন মাস ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম ১৫-২০ দিনে বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোকে আয়ত্তে আনতে পারলে এই অংশে ভালো করা সম্ভব।

 

গণিত ও মানসিক দক্ষতা 

প্রতিদিন এই বিষয়টি অনুশীলন করতে হবে। আগামী কয়েক দিনের পড়াশোনায় এই অংশের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই হবে। কারণ ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে গাণিতিক যুক্তি অংশের নম্বর ২০ হতে যাচ্ছে। আর তাই এই অংশে ভালো করতে পারলে প্রিলিমিনারিতে পাশের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যাবে। যে যে বিভাগের শিক্ষার্থীই হোন না কেন, গণিত ও মানসিক দক্ষতা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করতে হবে। যদি গাণিতিক যুক্তিতে ২০ ও মানসিক দক্ষতায় ১৫ নম্বর তুলতে পারেন, তাহলে এই নম্বর হতে পারে আপনার প্রিলিমিনারি পাসের ট্রামকার্ড।

 

মডেল টেস্ট

মডেল টেস্টের কোনো বিকল্প নেই। পূর্ণাঙ্গ ২০০ নম্বরের ১০-১৫টি মডেল টেস্ট দিতে পারলে পরীক্ষার হলে ভীতি অনেকটাই কমে যাবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারবেন। পাশাপাশি দুই ঘণ্টায় ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যে স্নায়ুচাপ দেখা যায়, সেটিও সামলানো যাবে বলে মনে করি। সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোথাও (কোচিং সেন্টার বা এ ধরনের পরিবেশে) মডেল টেস্টে দিতে পারলে ভালো। আর সেটি সম্ভব না হলে মডেল টেস্টের বই কিনে কিংবা অনলাইনে যুক্ত হয়েও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই সময় ব্যবস্থাপনার দিকে খেয়াল রাখবেন।

 

হলে করণীয় ও সময় ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষার দিন কী করা যেতে পারে তার জন্য হোমওয়ার্ক করে ফেলুন। পরীক্ষার আগের রাতে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রবেশপত্র যাচাই করে নিন। সঙ্গে দুইটা কালো বল পয়েন্ট কলম একটি স্বচ্ছ ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। সকাল ৯.৩০টার পর কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হবে, যাতে করে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে অহেতুক চিন্তা করতে না হয়। পরীক্ষার হলে অন্তত ৪০-৪৫ মিনিট সময় হাতে রেখে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা সবশেষে উত্তর দেওয়া উচিত। প্রথমে কিছুটা সহজ ও নিজের পছন্দের বিষয় দিয়ে উত্তর শুরু করলে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল, বাংলা, নৈতিকতা, কম্পিউটার, সাধারণ বিজ্ঞান, গণিত ও সবশেষে মানসিক দক্ষতাএই ক্রমানুসারে পরীক্ষায় উত্তর করা যেতে পারে। এর ফলে গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতার জন্যে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

 

পরীক্ষার বাকি মোটে ছয় দিন। এই সময়ে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম কাজ আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। বিভিন্ন সাল, ডাটা, সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের অতি প্রয়োজনীয় অংশ, বীজগণিত-জ্যামিতিক সূত্রাবলি রিভিশন দেওয়ার চেষ্টা করবেন। পরীক্ষার দুই-এক দিন আগে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়টি পড়তে পারলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। বাজারের যেকোনো মডেল টেস্টের বই থেকে ওএমআর শিট দিয়ে ২০০ নম্বরের নমুনা পরীক্ষা বা মডেল টেস্ট চালিয়ে যান। এই সময়টাতে সাত-আট ঘণ্টা ঘুম ও পরিমিত খাবারের চেষ্টা করবেন। মনে চাপ নেবেন না। পরীক্ষার অন্তত আগের  দুই দিন ভোরে উঠে প্রস্তুতি নিন।

 

প্রার্থীদের কমন ভুল

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রার্থীরা সচরাচর কিছু ভুল করেন। যেগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমনওএমআর শিটে সেট কোড কিংবা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিকভাবে না লেখা, ভুল বৃত্ত পূরণ করা, বৃত্ত আংশিক ভরাট করা, অতি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন উত্তরে সময়ক্ষেপণ করা, নেগেটিভ মার্কিংয়ের ফাঁদে পা দেওয়া, কাটমার্ক নিয়ে পরীক্ষার হলেই অহেতুক চিন্তা করা, গণিত বা মানসিক দক্ষতার কোনো প্রশ্নে বেশি সময় দেওয়া বা বারবার চেষ্টা করা, প্রশ্ন আংশিক পড়েই উত্তর নির্ধারণ ইত্যাদি।