ভারতের গোয়ায় কিউএস ইন্ডিয়া সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি—বাংলাদেশ (এআইইউবি)। আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা জোরদার এবং বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা সহযোগিতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতেই এ সম্মেলনে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সামিটে এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং জনসংযোগ বিভাগের প্রধান আবু মিয়া আকন্দ তুহিন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এই সামিটে আন্তর্জাতিকায়ন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, উদ্ভাবন, গবেষণা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কিউএস ইন্ডিয়া সামিটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা সংলাপে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি আরো জোরালো করেছে এআইইউবি। এই অংশগ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ, বৈশ্বিক সংযোগ এবং শিক্ষা ও গবেষণায় মানোন্নয়নের কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটবে বলে জানিয়েছে এআইইউবি।
ট্রফি জেতাই শেষ কথা নয়
<li>২০০৪ সালে মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা আড়াই শ বিতার্কিকের এক বিশাল পরিবার। ছোট একটা ক্লাবে স্বপ্নবাজ কিছু তরুণের প্রাকটিস সেশন থেকে শুরু করে আইইউটি আইভির ঐতিহাসিক জয়। কেডিএসের গল্পটা কেবল তর্কের নয়; বরং একতার। আসন্ন ‘কুয়েট আইভি ২০২৬’ নিয়ে প্রস্তুতির গল্প ও বিশ্বমঞ্চে কুয়েটের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন কেডিএসের সভাপতি (প্রশাসন) সুদীপ্ত হালদার, শুনেছেন আল সানি</li>
গোয়ায় কিউএস ইন্ডিয়া সামিটে এআইইউবি

ক্যাম্পাস সংবাদ
এনএসইউ ইনডোর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

৮ ফেব্রুয়ারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ইনডোর গ্রাউন্ডে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার পাশাপাশি দলগত কাজের মানসিকতা বাড়ানো। ফাইনাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার এবং উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর মধ্যে প্রীতি ম্যাচ। এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শ্রেণিকক্ষ ও অফিসের বাইরে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে এবং সবার জন্য আরো ঐক্যবদ্ধ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।’ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধুলায় অংশগ্রহণ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়ায়।’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাবের আয়োজনে ১ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্টুডেন্টস (পুরুষ) বিভাগে টিম সিএসসি প্রো-চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মো. আজোয়াদ ইসলাম ও তানভীর হাসান প্রিন্স। রানার-আপ হয়েছে টিম বিবিটি স্ম্যাশার্স—মাহমুদ হাসান ও মো. আসাদুল্লাহ আল নাহিয়ান। স্টুডেন্টস (নারী) বিভাগে টিম বিবিএ বাবল ট্রাবল-এর আকীক সানা তারিক ও রাইসা মুজিব চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হয় টিম ফার্মা এলিক্সির ২—রুবাইয়া রশীদ পিথি ও উম্মে তাবাসসুম। ফ্যাকাল্টি ও অফিসার (পুরুষ) বিভাগে টিম স্ম্যাশ মাস্টার-এর মো. আক্তারুজ্জামান ও মো. তাকবির আলম চ্যাম্পিয়ন হন। রানার-আপ হয় টিম এ কে এইচ এন অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী ও আকরাম হোসাইন। ফ্যাকাল্টি ও অফিসার (নারী) বিভাগে টিম শাটল হাসলের অধ্যাপক নাজলী সিদ্দিকী ও হুমাইরা হক চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হন টিম ফ্যালকন কুইন—সাইমুন নাহার সুপ্তা ও মিস সারিনা সুলতানা।
ক্লাব এক্সিকিউটিভ বিভাগে টিম এনএসইউ এসসির মো. সায়েদুল করিম সিকদার ও সীমান্ত মজুমদার; চ্যাম্পিয়ন হন এবং রানার-আপ হন টিম এনএসইউ এমবিএসি—হাসিবুল হক ও মানস বণিক। প্রীতি ম্যাচে টিম বোর্ড চেয়ারম্যানস অফিস—এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও জাহিদুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হন টিম ভাইস চ্যান্সেলরস অফিস—উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী ও রুমান সারওয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে যেভাবে কাজে লাগাবেন

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার জন্য নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তৈরি করতে হয়। চাকরির বাজারে সফলতার মূল ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাজীবনে। তাই ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং যোগাযোগ সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করা যাবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং ডিজিটাল টুল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখন নিয়োগকারীদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই যদি শিক্ষার্থীরা এসব দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে চাকরির প্রস্তুতি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
ক্লাসরুমের বাইরের শেখার জায়গা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের বাইরেও শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। যেমন—
* ডিবেট বা রিসার্চ ক্লাবে যুক্ত হলে বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ে।
* স্পোর্টস বা কালচারাল কার্যক্রম নেতৃত্ব ও দলগত কাজ শিখতে সহায়তা করে।
* স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
ছোট কাজ, বড় শেখা
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই ভবিষ্যতে বড় শেখায় রূপ নেয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্যাম্পাস প্রজেক্ট, সেমিনার আয়োজন কিংবা ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান শেখে। এসব কাজে ভুল হলেও চালিয়ে যেতে হবে। কারণ ভুল থেকেই শেখার শুরু।
ডিজিটাল স্কিলের গুরুত্ব
ডিজিটাল যুগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই স্কিলগুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে—
* ডাটা অ্যানালাইসিস ও প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার ব্যবহার।
* কনটেন্ট রাইটিং ও গ্রাফিকস ডিজাইন।
* এআইসহ নতুন স্কিল ও চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তি।
এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম
ক্লাসরুমের বাইরের অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাস্তবভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। এই অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে যুক্ত হলে ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে প্রার্থীরা এগিয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তার কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এক্সট্রা-কারিকুলাম কার্যক্রমে সক্রিয় শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী হয়। ফলে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার এই সমন্বয় একজন প্রার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলে ধরে।
এক্সট্রা-কারিকুলামের প্রভাব
* নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্ক দক্ষতার বাস্তব প্রমাণ তৈরি করে।
* যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
* সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করে।
* সময় ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে।
* সিভিকে আলাদা ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
* নিয়োগকর্তার কাছে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখায়।
আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ পরামর্শ
আইনে পড়া মানেই কিছু ধারা মুখস্থ করা নয়। যদি শিক্ষার্থী বা নবীন আইনজীবীরা নিজেকে শুধু পাঠ্যবই ও নোটবুকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেন, তাহলে পেশাগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন। বর্তমানে আদালতের বারান্দা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে লেগেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। তাই আইনের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি হতে হবে বহুমাত্রিক। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান অনিক-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

নিয়মিত আদালতে যাওয়া
শ্রেণিকক্ষে শেখা তাত্ত্বিক জ্ঞান আর আদালতের বাস্তব প্রয়োগ—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তাই ছাত্রাবস্থাতেই মাসে অন্তত একবার আদালত প্রাঙ্গণে যাওয়া উচিত। সেখানে কোনো কাজ না থাকলেও এজলাসে বসে বিচারক ও আইনজীবীদের কথোপকথন শোনা যেতে পারে। আদালতের রীতি-নীতি, উপস্থাপনের ভঙ্গি এবং পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত আপনাকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। এই অভ্যাস আপনার মধ্য থেকে ‘আদালত ভীতি’ দূর করতে সাহায্য করবে।
আইনবিশারদ ও বিশ্লেষকদের লেখা পড়ুন
কেবল বই পড়ে পরীক্ষার বাধা পার হওয়া সম্ভব। তবে ভালো আইনজীবী হতে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আইনের গভীরে প্রবেশ করতে হলে দেশি-বিদেশি আইন গবেষক এবং বিচারকদের লেখা পড়ার অভ্যাস করতে হবে। ল-জার্নাল, ব্লগ কিংবা উচ্চ আদালতের বিখ্যাত রায়গুলো নিয়মিত পড়লে যুক্তির গভীরতা বাড়ে। এটি আপনার চিন্তাজগেক প্রসারিত করে এবং একটি নিজস্ব বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়তা করবে।
বৈশ্বিক আইনের হালনাগাদ তথ্য
কেবল দেশের আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ভারত, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ রায় হলো কি না, সেদিকে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশে নতুন কী আইন পাস হচ্ছে বা কোন খসড়া নীতিমালা আসছে—সে বিষয়েও সব সময় আপডেট থাকতে হবে। তুলনামূলক আইনের এই জ্ঞান আপনাকে ক্লাসে এবং ভবিষ্যতে আদালতে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
মনোযোগ ধরে রাখুন
একটানা মনোযোগ ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সারা দিন বিক্ষিপ্তভাবে ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে পূর্ণ মনোযোগে কাজ করা বেশি কার্যকর। এ সময় ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট রাখুন। এ ক্ষেত্রে ‘পমোডোরো’ টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। যেমন—২৫ মিনিট গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। জটিল আইনি বিষয় বা কেস স্টাডি বোঝার জন্য মনোযোগের বিকল্প নেই। পড়াশোনা বা অনুশীলনে একাগ্রতা না থাকলে ভবিষ্যতে ভালো আইনজীবী হতে পারবেন না।
বিশেষ দক্ষতা অর্জন
প্রায় সবাই দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইন নিয়ে চর্চা করছে। আপনি এর বাইরে গিয়েও নির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত ক্ষেত্র বেছে নিতে পারেন। বাংলাদেশে এখন সাইবার আইন, সমুদ্র আইন, মেধাস্বত্ব কিংবা স্পোর্টস ল-এর মতো বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। এখন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি এসব নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলুন।
বিপরীতমুখী শিখন
ড্রাফটিং বা আইনি খসড়া লেখা শেখার সেরা উপায় হলো অভিজ্ঞদের কাজ অনুসরণ করা। সিনিয়র আইনজীবীদের করা সেরা কয়েকটি রিট পিটিশন বা আরজি সংগ্রহ করুন। এরপর সেগুলো হুবহু হাতে লেখা বা টাইপ করার চর্চা করুন। শূন্য থেকে শুরু না করে এভাবে অনুসরণ বা ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করলে আদালতের ভাষা ও কাঠামো খুব দ্রুত আয়ত্তে চলে আসে। এ ধরনের বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এগোতে পারেন।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা
প্রযুক্তিকে কাজে লাগান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করে গবেষণার তথ্য খোঁজার পাশাপাশি বিশাল নথির সারসংক্ষেপ দ্রুত তৈরি কিংবা নোট গুছিয়ে নিতে টুলগুলো সহায়ক। স্মার্ট শিক্ষার্থী হতে হলে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
সময়ের সদ্ব্যাবহার
ঢাকার যানজটে প্রতিদিন আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এই সময়টাকেই কাজে লাগান। বাসে বসে পড়ার সুযোগ না থাকলে কানে হেডফোন দিয়ে আইনের পডকাস্ট, বিখ্যাত মামলার অডিও বুক শুনতে পারেন। তাহলে এ সময়টা কাজে লাগবে।
ভাষাগত দক্ষতা অর্জন
উচ্চ আদালতে ইংরেজির প্রাধান্য থাকলেও বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভাষা বাংলা। তাই একজন আইনের ছাত্রকে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই দক্ষ হতে হয়। জটিল আইনি বিষয়গুলো সহজ বাংলায় বোঝানো এবং বাংলা ঘটনাকে ইংরেজিতে আইনি ভাষায় রূপান্তরের যোগ্যতা ছাত্রজীবন থেকেই অর্জন করতে হবে।
লিখুন
আপনার অর্জিত জ্ঞান কেবল নিজের মধ্যে না রেখে তা ছড়িয়ে দিন। সমসাময়িক আইনি সমস্যা নিয়ে পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইনে লিখুন। এটি আপনার চিন্তার স্বচ্ছতা বাড়াবে, ছাত্রাবস্থাতেই আপনার একটি পরিচিতি তৈরি করবে। আইন পেশায় যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং একটি বড় সম্পদ, যার ভিত্তি গড়ে ওঠে ছাত্রজীবন থেকেই।
