ভারতের গোয়ায় কিউএস ইন্ডিয়া সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি—বাংলাদেশ (এআইইউবি)। আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা জোরদার এবং বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা সহযোগিতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতেই এ সম্মেলনে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই সামিটে এআইইউবির প্রতিনিধিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং জনসংযোগ বিভাগের প্রধান আবু মিয়া আকন্দ তুহিন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তিন দিনব্যাপী এই সামিটে আন্তর্জাতিকায়ন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, উদ্ভাবন, গবেষণা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কিউএস ইন্ডিয়া সামিটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা সংলাপে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি আরো জোরালো করেছে এআইইউবি। এই অংশগ্রহণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ, বৈশ্বিক সংযোগ এবং শিক্ষা ও গবেষণায় মানোন্নয়নের কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটবে বলে জানিয়েছে এআইইউবি।
আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ পরামর্শ
<li>আইনে পড়া মানেই কিছু ধারা মুখস্থ করা নয়। যদি শিক্ষার্থী বা নবীন আইনজীবীরা নিজেকে শুধু পাঠ্যবই ও নোটবুকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেন, তাহলে পেশাগত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন। বর্তমানে আদালতের বারান্দা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে লেগেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। তাই আইনের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি হতে হবে বহুমাত্রিক। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান অনিক-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার</li>
গোয়ায় কিউএস ইন্ডিয়া সামিটে এআইইউবি

ক্যাম্পাস সংবাদ
এনএসইউ ইনডোর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

৮ ফেব্রুয়ারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ইনডোর গ্রাউন্ডে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করার পাশাপাশি দলগত কাজের মানসিকতা বাড়ানো। ফাইনাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার এবং উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর মধ্যে প্রীতি ম্যাচ। এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শ্রেণিকক্ষ ও অফিসের বাইরে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে এবং সবার জন্য আরো ঐক্যবদ্ধ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।’ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘খেলাধুলায় অংশগ্রহণ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বাড়ায়।’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাবের আয়োজনে ১ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্টুডেন্টস (পুরুষ) বিভাগে টিম সিএসসি প্রো-চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মো. আজোয়াদ ইসলাম ও তানভীর হাসান প্রিন্স। রানার-আপ হয়েছে টিম বিবিটি স্ম্যাশার্স—মাহমুদ হাসান ও মো. আসাদুল্লাহ আল নাহিয়ান। স্টুডেন্টস (নারী) বিভাগে টিম বিবিএ বাবল ট্রাবল-এর আকীক সানা তারিক ও রাইসা মুজিব চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হয় টিম ফার্মা এলিক্সির ২—রুবাইয়া রশীদ পিথি ও উম্মে তাবাসসুম। ফ্যাকাল্টি ও অফিসার (পুরুষ) বিভাগে টিম স্ম্যাশ মাস্টার-এর মো. আক্তারুজ্জামান ও মো. তাকবির আলম চ্যাম্পিয়ন হন। রানার-আপ হয় টিম এ কে এইচ এন অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী ও আকরাম হোসাইন। ফ্যাকাল্টি ও অফিসার (নারী) বিভাগে টিম শাটল হাসলের অধ্যাপক নাজলী সিদ্দিকী ও হুমাইরা হক চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হন টিম ফ্যালকন কুইন—সাইমুন নাহার সুপ্তা ও মিস সারিনা সুলতানা।
ক্লাব এক্সিকিউটিভ বিভাগে টিম এনএসইউ এসসির মো. সায়েদুল করিম সিকদার ও সীমান্ত মজুমদার; চ্যাম্পিয়ন হন এবং রানার-আপ হন টিম এনএসইউ এমবিএসি—হাসিবুল হক ও মানস বণিক। প্রীতি ম্যাচে টিম বোর্ড চেয়ারম্যানস অফিস—এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও জাহিদুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন হন; আর রানার-আপ হন টিম ভাইস চ্যান্সেলরস অফিস—উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী ও রুমান সারওয়ার।
ট্রফি জেতাই শেষ কথা নয়
২০০৪ সালে মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা আড়াই শ বিতার্কিকের এক বিশাল পরিবার। ছোট একটা ক্লাবে স্বপ্নবাজ কিছু তরুণের প্রাকটিস সেশন থেকে শুরু করে আইইউটি আইভির ঐতিহাসিক জয়। কেডিএসের গল্পটা কেবল তর্কের নয়; বরং একতার। আসন্ন ‘কুয়েট আইভি ২০২৬’ নিয়ে প্রস্তুতির গল্প ও বিশ্বমঞ্চে কুয়েটের নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন কেডিএসের সভাপতি (প্রশাসন) সুদীপ্ত হালদার, শুনেছেন আল সানি

দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খুলনার ফুলবাড়ীগেট এলাকায় কুয়েট ক্যাম্পাস। সেই ক্যাম্পাসের করিডরগুলোতে কান পাতলে আজও যুক্তির ঝংকার শোনা যায়। ২০০৪ সালের কথা, যখন এই অঞ্চলে বিতর্কের চর্চা ছিল অনেকটা মরুভূমির তপ্ত বালুর মতো, ঠিক সেই সময়ে একদল স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে জ্বেলেছিল এক বাতিঘর—কুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি (কেডিএস)। ২০ জনের ছোট্ট দলটি আজ আড়াই শ সদস্যের এক বিশাল পরিবার। আজও যখন ক্লাবের শো-কেসে রাখা সেই প্রথম ন্যাশনাল আয়োজনের ফ্যাকাশে হয়ে আসা ট্রফিটা দেখি, এক নিমেষে নস্টালজিক হয়ে পড়ি। মনে পড়ে যায়, কতটা শূন্য থেকে আমরা এই উচ্চতায় পৌঁছেছি। আমাদের প্রাণের আয়োজন হলো ‘কুয়েট আইভি’ (ইন্টার ইউনিভার্সিটি বিতর্ক)। প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান ও ঈদের ছুটির পর আমরা নবম কুয়েট আইভি ২০২৬ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে ঢাকার বাইরে খুলনায় এমন একটি মেগা ইভেন্ট আয়োজন করা বরাবরই এক অগ্নি পরীক্ষা। সবচেয়ে বড় পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ হলো স্পন্সরশিপ ম্যানেজমেন্ট। খুলনায় নিজস্ব ইন্ডাস্ট্রি কম থাকায় এবং ঢাকা থেকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে স্পন্সর খুঁজে পেতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। শুধু তা-ই নয়, দেশের উত্তরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিযোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসতে হয়। তবু যুক্তির টানে যখন তারা এখানে জড়ো হন, তখন আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বিগত তিন বছরের খাতা উল্টালে দেখা যায়, কেডিএসের সাফল্যের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে আটটি বড় চ্যাম্পিয়নশিপ। রুয়েটডিসি ন্যাশনাল ২০২৫ থেকে শুরু করে জিডিসি ন্যাশনালস ২০২৪, আরসিএমডিসি আইভি কিংবা শেখ রাসেল দ্বিতীয় এমআইইউডিসি ন্যাশনাল—সবখানেই আমাদের বিতার্কিকরা মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। শুধু জয় নয়, আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে রানার আপ, ফাইনালিস্ট ও সেমিফাইনাল ব্রেক করেছি। এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমি দেব আমাদের ট্যালেন্টেড ও কঠোর পরিশ্রমী বিতার্কিকদের। অসংখ্য রাত জেগে অনুশীলন আর হাজারো ব্যর্থতার পরেই তারা এই ট্রফিগুলো আমাদের ঘরে এনে দিয়েছে। আমাদের ক্লাবের ইতিহাসে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল ‘আইইউটি আইভি’। একসময় বাংলা বিতর্কে আমাদের দাপট থাকলেও ইংরেজি বিতর্কের মঞ্চে আমরা কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে আমাদের একটি টিম চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যটি নোভিস ক্যাটাগরিতে ফাইনালিস্ট হওয়ার পর পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। এরপর থেকে ইংরেজি বিতর্কের মঞ্চে আমাদের সাফল্য আসতে শুরু করেছে এবং জুনিয়র সদস্যদের মধ্যেও ইংরেজি বিতর্কের প্রতি এক অভাবনীয় আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনটাই ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে সত্যি বলতে, কেবল ট্রফি জেতাই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের নিরন্তর চেষ্টা থাকে একজন ভালো বিতার্কিক ও মননশীল মানুষ তৈরি করার। ক্লাবের সদস্যদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিতার্কিকদের দিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কশপ ও ট্রেনিংয়ের আয়োজন করি। আমাদের ক্লাবে নানা মতের মানুষ আছেন। আমি সব সময় সবার মতামত শুনে এগোতে পছন্দ করি, কারণ আমি বিশ্বাস করি—ক্লাবের প্রতিটি সদস্য সমান। বিতর্ক কেবল কথা বলা শেখায় না, এটি মানুষের চিন্তাশক্তি বিকশিত করে এবং নেতৃত্বগুণ তৈরি করে। আজকের এই তথ্যের প্লাবনে হাজারো মিথ্যা সংবাদ আর গুজবের ভিড়ে যুক্তিবাদী হওয়াই হলো বাঁচার একমাত্র পথ। একজন বিতার্কিক যখন তার পেশাগত জীবনে পা রাখে, তখন তার প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তাকে সেরাদের কাতারে নিয়ে যায়। আমাদের বড় একটা স্বপ্ন আছে—আমরা টিম কুয়েটের নাম ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ (ডব্লিউইউডিসি)-এর বিজয়ী তালিকায় দেখতে চাই। সেই বৈশ্বিক মঞ্চের জন্যই এখন আমরা আমাদের বিতার্কিকদের তিল তিল করে প্রস্তুত করছি। নতুন যারা বিতর্কে আসতে চাও, তাদের জন্য আমার একটাই পরামর্শ—প্রচুর পড়ো, অন্যদের বিতর্ক দেখো এবং শেখার চেষ্টা করো। বিতর্ক হলো এক দীর্ঘ সাধনার নাম। কেউ একদিনে তুখোড় বিতার্কিক হয়ে ওঠে না। যদি সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারো, তবে সাফল্য ধরা দেবেই।
সর্বশেষ অর্জন
* রুয়েট ডিবেট ক্লাব আয়োজিত রুয়েটডিসি ন্যাশনাল ডিবেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-এ ‘কুয়েট অদ্বৈত’ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।
* জাস্ট ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত ২য় জাস্টডিসি ন্যাশনালস ২০২৫-এ ‘কুয়েট সান্দ্রিক’ রানার্সআপ।
* গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত জিডিসি ন্যাশনালস ২০২৪-এ ‘কুয়েট অদ্বৈত’ চ্যাম্পিয়ন।
* রাজশাহী কলেজ মিরোর ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত আরসিএমডিসি ইন্টার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪-এ ‘কুয়েট অদ্বৈত’ চ্যাম্পিয়ন।
* নেভিয়ানস ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত এনডিএস ইন্টার ক্লাব অনলাইন ডিবেটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ‘কুয়েট অদ্বৈত’ চ্যাম্পিয়ন।
* কুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত কুয়েট আইভি ২০২৩-এ ‘কুয়েট অদ্বৈত’ চ্যাম্পিয়ন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে যেভাবে কাজে লাগাবেন

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু একাডেমিক ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার জন্য নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তৈরি করতে হয়। চাকরির বাজারে সফলতার মূল ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাজীবনে। তাই ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং যোগাযোগ সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তাহলেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করা যাবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাস্তব দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগাযোগ দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং ডিজিটাল টুল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এখন নিয়োগকারীদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই যদি শিক্ষার্থীরা এসব দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে চাকরির প্রস্তুতি অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
ক্লাসরুমের বাইরের শেখার জায়গা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের বাইরেও শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে। যেমন—
* ডিবেট বা রিসার্চ ক্লাবে যুক্ত হলে বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ে।
* স্পোর্টস বা কালচারাল কার্যক্রম নেতৃত্ব ও দলগত কাজ শিখতে সহায়তা করে।
* স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
ছোট কাজ, বড় শেখা
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই ভবিষ্যতে বড় শেখায় রূপ নেয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্যাম্পাস প্রজেক্ট, সেমিনার আয়োজন কিংবা ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান শেখে। এসব কাজে ভুল হলেও চালিয়ে যেতে হবে। কারণ ভুল থেকেই শেখার শুরু।
ডিজিটাল স্কিলের গুরুত্ব
ডিজিটাল যুগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই স্কিলগুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে—
* ডাটা অ্যানালাইসিস ও প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার ব্যবহার।
* কনটেন্ট রাইটিং ও গ্রাফিকস ডিজাইন।
* এআইসহ নতুন স্কিল ও চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তি।
এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম
ক্লাসরুমের বাইরের অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাস্তবভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। এই অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে যুক্ত হলে ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে প্রার্থীরা এগিয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তার কাছে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত প্রস্তুতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এক্সট্রা-কারিকুলাম কার্যক্রমে সক্রিয় শিক্ষার্থীরা পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী হয়। ফলে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার এই সমন্বয় একজন প্রার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলে ধরে।
এক্সট্রা-কারিকুলামের প্রভাব
* নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্ক দক্ষতার বাস্তব প্রমাণ তৈরি করে।
* যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
* সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করে।
* সময় ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে।
* সিভিকে আলাদা ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
* নিয়োগকর্তার কাছে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখায়।
