• ই-পেপার

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই

সাইবার অপরাধ বন্ধ হোক

সাইবার অপরাধ বন্ধ হোক

সাইবার অপরাধ এখন তুঙ্গে। লাখো মানুষ প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে। একদা কেউ কেউ বুক ফুলিয়ে বলে বেড়াতেন, সবকিছুই ডিজিটাল ব্যবস্থায় উন্নীত হবে। এই আয়োজন চলছে তো চলছেই। কিছু ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছে। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের সর্বনাশ হচ্ছে।

সাইবার অপরাধ হলো ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘটিত বেআইনি কর্মকাণ্ড। এর মাধ্যমে হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক প্রতারণা, ফিশিং এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ করা হয়। সাইবার অপরাধের ধরনগুলো হলো ভুয়া ই-মেইল বা লিংকের মাধ্যমে ব্যাংকের তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি। অনুমতি ছাড়া অন্যের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তথ্য চুরি বা ক্ষতি করা। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন। সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়া। ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা।

সাইবার অপরাধ কিছু মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কাউকে বাদ দিচ্ছে না। সব থেকে বড় কথা, অপরাধ বেশি হচ্ছে ব্যাংক, পুলিশ, শুল্ক বিভাগ, মাদকপাচার প্রতিরোধ বিভাগ এবং আয়কর বিভাগের মতো বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নাম করে। তাহলে সরকারের দায়িত্ব সব থেকে বেশি নয় কি? সাইবার জালিয়াতির ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। সে যে-ই হোক না কেন! কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, সরিষার মধ্যে কোথাও ভূত নেই তো? না থাকলে দিনের পর দিন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নাম করে বড় বড় সাইবার অপরাধ কী করে ঘটছে?

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। শহর ও উপশহর এলাকায় অনেক অটোরিকশাচালক ট্রাফিক আইন মানছেন না। হঠাৎ মোড় নেওয়া, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেক অটোরিকশা ফিটনেসবিহীন এবং কিছু চালকের বৈধ লাইসেন্সও নেই। এসব অনিয়ম সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং বড় যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, লাইসেন্স ও ফিটনেস যাচাই এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবেএটাই নাগরিকদের প্রত্যাশা।

সুরুজ আহম্মেদ সম্রাট

শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ

কবে হবে সাতক্ষীরায় রেললাইন

কবে হবে সাতক্ষীরায় রেললাইন

সাতক্ষীরা তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বিগত কয়েক বছরে সাতক্ষীরার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নেই বললেই চলে। সাবেক সরকারের আমলেও জেলার সার্বিক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে পর্যাপ্ত দৃষ্টি দেওয়া হয়নি। অথচ বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার পেছনে সাতক্ষীরার মানুষের শ্রম ও অবদান কোনো অংশে কম নয়।

পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। একসময় এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা। ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবের সময় এই দুর্ভোগ আরো বেড়ে যেত। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়কপথে যোগাযোগ কিছুটা সহজ হয়েছে ঠিকই, তবে রেলযোগাযোগের অভাবে সাতক্ষীরাবাসীর ভোগান্তি এখনো পুরোপুরি কমেনি।

বর্তমানে ঢাকা থেকে যশোর ও খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল থাকলেও যশোর থেকে সাতক্ষীরা কিংবা খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যেতে হলে আলাদা পরিবহনে কমপক্ষে আরো দুই ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি আরো বেড়ে যায়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, জেলায় সরাসরি রেললাইন চালু করা হোক। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরো সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার পাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারায় সাতক্ষীরাকে যুক্ত করতে রেললাইন স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

ওরাইনা খাঁন চৌধুরী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ চাই

শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ চাই

শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের হাতে থাকার কথা বই, খাতা আর রঙিন স্বপ্ন, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের দেশের অনেক শিশু আজও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। কেউ কাজ করছে কারখানায়, কেউ হোটেল-রেস্তোরাঁয়, আবার কেউ রাস্তায় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এতে তারা যেমন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যে বয়সে তাদের স্কুলে থাকার কথা, সেই বয়সে কঠোর পরিশ্রম তাদের ভবিষ্যেক অন্ধকার করে দিচ্ছে। দারিদ্র্য, অসচেতনতা, পারিবারিক অস্থিরতা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ শিশুশ্রমের প্রধান কারণ। অনেক পরিবার অভাবের তাড়নায় সন্তানকে কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়। আবার কিছু নিয়োগকর্তা কম মজুরিতে কাজ করানোর সুযোগে শিশুদের ব্যবহার করেন। ফলে শিশুরা হারিয়ে ফেলছে তাদের সুন্দর শৈশব এবং শিক্ষার অধিকার। শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে সরকার, সমাজ ও সচেতন নাগরিকসবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(৪) রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষা সহায়তা, উপবৃত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা জরুরি। আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে শিশু নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

আমাদেরও দায়িত্ব আছে। আমরা যেন নিজেরা কোনো শিশুকে শ্রমে নিয়োজিত না করি এবং অন্যদেরও নিরুৎসাহ করি। আমরা যদি আজ শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে পারি, তবেই আগামী দিনে একটি উন্নত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। দায়িত্ব হিসেবে নিয়ে সবাই মিলে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে শক্ত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি এবং শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসি।

বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল

শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ