সাইবার অপরাধ এখন তুঙ্গে। লাখো মানুষ প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে। একদা কেউ কেউ বুক ফুলিয়ে বলে বেড়াতেন, সবকিছুই ডিজিটাল ব্যবস্থায় উন্নীত হবে। এই আয়োজন চলছে তো চলছেই। কিছু ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছে। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের সর্বনাশ হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ হলো ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘটিত বেআইনি কর্মকাণ্ড। এর মাধ্যমে হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক প্রতারণা, ফিশিং এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধ করা হয়। সাইবার অপরাধের ধরনগুলো হলো ভুয়া ই-মেইল বা লিংকের মাধ্যমে ব্যাংকের তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি। অনুমতি ছাড়া অন্যের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে তথ্য চুরি বা ক্ষতি করা। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন। সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়া। ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা।
সাইবার অপরাধ কিছু মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ধনী, দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কাউকে বাদ দিচ্ছে না। সব থেকে বড় কথা, অপরাধ বেশি হচ্ছে ব্যাংক, পুলিশ, শুল্ক বিভাগ, মাদকপাচার প্রতিরোধ বিভাগ এবং আয়কর বিভাগের মতো বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নাম করে। তাহলে সরকারের দায়িত্ব সব থেকে বেশি নয় কি? সাইবার জালিয়াতির ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। সে যে-ই হোক না কেন! কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, সরিষার মধ্যে কোথাও ভূত নেই তো? না থাকলে দিনের পর দিন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নাম করে বড় বড় সাইবার অপরাধ কী করে ঘটছে?
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা





