• ই-পেপার

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

উক্তি

উক্তি

আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই কোথাও দলটির কার্যালয় খোলা হলে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ছয় সিটি করপোরেশনে ‘দলীয় প্রশাসক’ নিয়োগ জামায়াতের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছয় সিটি করপোরেশনে ‘দলীয় প্রশাসক’ নিয়োগ জামায়াতের প্রতিবাদ
মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকারের ছয়টি সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির বক্তব্য, সরকারের এ পদক্ষেপ জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে।

গতকাল সোমবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে  বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আসবেন। নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক ইঙ্গিতও এ প্রত্যাশা জাগিয়েছিল। কিন্তু ছয় সিটি করপোরেশনে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে দলটি তার প্রতিবাদ করছে। তারা সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিল করে সব সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জোর দাবি জানিয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথম অফিস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

পদোন্নতিপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের ‘র‌্যাংক-ব্যাজ’ পরিয়ে দিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথম অফিস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মীর মুশফিকুর রহমানকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। ছবি : আইএসপিআর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে গতকাল সোমবার  অফিস করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তারেক রহমানের প্রথম অফিস। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধানরা।

প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালককে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর  প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও  প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম।

আইএসপিআর জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, বিএসপি, এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি গতকাল থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। গতকাল সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান উপস্থিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, সামরিক সচিব ও প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের  মহাপরিচালকসহ, সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশীদ চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি, জি, কে মেজর জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধানরা।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন এবং সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে চীনের সরকার। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিভাবে এই সম্পর্ক আরো উন্নয়ন করা যায়। বিগত সরকারের আমলে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের বরাত দিয়ে বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশ ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে চীন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাতের সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা করে।

অন্যদিকে চীন দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং উভয় পক্ষের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব অগ্রসর করা, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা জোরদার করা এবং সর্বাঙ্গীণ বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরো গভীর করতে প্রস্তুত।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের নির্বিঘ্ন শাসনকার্য পরিচালনায় সমর্থন জানায়। জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে চীন সমর্থন করে। বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে চীন সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে বাংলাদেশকে আরো বড় ভূমিকা পালনেও চীন উৎসাহিত করে।

চীন দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াওয়ের অভিনন্দন এবং চীনা নেতাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি অনুসরণ করবে। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ঐতিহ্য বজায় রাখবে। চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে দুই দেশের বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখা ও সহযোগিতা গভীরতর করার জন্য বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।