• ই-পেপার

হায়দার আলী

এ প্রতিযোগিতা অনন্য এক সাহসী প্রকাশ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনিছুর রহমান

উন্নত জাতি গঠনে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

উন্নত জাতি গঠনে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি করে গত ১২ ডিসেম্বর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ (বিপিএসসি) কর্তৃক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ২০২৫ আয়োজন করা হয়। এ দেশের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে জনগণের সাহস, ঐক্য ও আত্মত্যাগের অসাধারণ উদাহরণ। জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর মধ্যে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, যা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা ও জাতির প্রয়োজনে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তরুণ ও ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তারুণ্যের শক্তি ও সাহস এই সফলতা এনে দিয়েছে, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ ও ছাত্রসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের উৎসর্গ করে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ণধার জনাব আহমেদ আকবর সোবহান অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়াজগতের উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা-দীক্ষায় ও মনোবলে বলিষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেই লক্ষ্যে তিনি বিপিএসসি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চর্চার মাধ্যমে দক্ষ মানবিক গুণাবলি বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

♦ অধ্যক্ষ, বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ

 

ইমদাদুল হক মিলন

রঙের আলোয় আলোকিত দিন

রঙের আলোয় আলোকিত দিন

বাংলার সবুজ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছেন সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আকাশের দিকে উত্তোলিত হাতে অস্ত্র। পেছনের আকাশ আলোকিত হয়েছে লাল সূর্যের আলোয়। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের কাল। যুদ্ধজয়ের কোনো এক মুহূর্তের ছবি। পাশেই ঢাকা শহরের একটি বাড়ির ছাদ। ছোট্ট শিশুটি একাকী দাঁড়িয়ে আছে ছাদে। গভীর কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে বাড়ির সামনের রাস্তার দিকে।

সেই রাস্তায় আন্দোলনরত হাজার হাজার মানুষ। শিশুটির মাথার ওপরকার আকাশে স্থির হয়ে আছে আততায়ী হেলিকপ্টার। এ হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কোনো এক দিনের ছবি। একই ক্যানভাসে অতি যত্ন আর মমতায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে আমাদের জাতীয় জীবনের দুই গৌরবের ছবি। এই ছবি গভীর মনোযোগ দিয়ে আঁকছিল এক শিশুকন্যা। সে বসেছে আসনপিঁড়ির ভঙ্গিতে। কোলের ওপর বোর্ডে আটকানো সাদা কাগজ। পাশেই ছড়ানো-ছিটানো অনেকগুলো রং পেনসিল। পেনসিল ঘষে ঘষে সে তার কল্পনার পৃথিবী থেকে একটার পর একটা রং টেনে এনে ফুটিয়ে তুলছিল দুই সময়কার দুই ছবি।

ছবিটি সেই কন্যার একান্তই নিজস্ব। পৃথিবীর কোনো শিল্পকর্মের সঙ্গে তার ছবিটির কোনো মিল নেই। মিল আছে শুধু ইতিহাসের। দুই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের দুটি মুহূর্তকে নিজস্ব ভঙ্গিতে সাদা কাগজে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে সে। বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয়ই ছিল ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’।

♦ কথাসাহিত্যিক এবং উপদেষ্টা, বসুন্ধরা গ্রুপ

ধ্রুব এষ

স্কেচ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

স্কেচ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

আমার সোশ্যাল ফোবিয়া আছে। সচেতনভাবে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে যাই না। কী দরকার নিজে বিব্রত হয়ে, আয়োজকদের বিব্রত করে। মাইক্রোফোন, মঞ্চ, বুম, ক্যামেরা, অডিয়েন্স আমি চিরকাল ভয় পাই।

মাত্রাতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ ভয় পাই। মাহবুব, মিলন ভাই এসব ভালো করে জানেন। তা-ও মাহবুব বলল, ‘দাদা, থাকেন।’ মিলন ভাই বললেন, ‘ধ্রুব, তুমি থাকো। হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বেমক্কা। যারপরনাই বিব্রত হয়েছি। মিলন ভাই দু-একটা অনুষ্ঠানে ছিলেন। বাঁচিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে রুক্ষ ও কঠোর হয়েছেন আয়োজকদের প্রতি, ‘ওকে কেন তোমরা বিব্রত করছ?’ আমি সব সময় ছায়ার মানুষ।

ছায়ায় ছায়ায় মানুষ। আমার কাজীদা, হুমায়ূন স্যার, বুলবুল ভাই, দ্বিজেনদা ছিলেন। বিপ্রদা আছেন, সে না থাকার মতো এক থাকা, ডিমেনশিয়া হয়ে গেছে বিপ্রদার, তবু থাকা। মিলন ভাই আছেন।

তাহলে থাকি। আর যাঁরা থাকবেন, তাঁরাও আপনজন। মনির স্যার, শাকুর স্যার, ফরিদা আপা, আফজাল ভাই দ্য সিনিয়রস। আর থাকবে আমাদের তুলি, আতিক, টিউন, চিন্ময়, বিপ্লব, মাসুম, আনোয়ার, নিশা, প্রসূন, হৃদিতা, তানভীর ও তাজরীন। এদের সবাইকে আমি চিনি তা না, কিন্তু আমাদের শিকড়বাকড় এক। রক্তের টানের মতো এই টান। চারুকলার টান।

♦ জুরিবোর্ড সদস্য এবং কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী

ফরিদা জামান

রং শিশুর অনুভূতিকে নাড়া দেয়

রং শিশুর অনুভূতিকে নাড়া দেয়

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের এই আয়োজনটি নিঃসন্দেহে একটি বড় মাপের শিল্প উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির বয়স খুব বেশি নয়, সম্ভবত এক বছরের মতো, কিন্তু এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার সাহস ও পরিকল্পনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। একটি স্কুল এত অল্প সময়ের মধ্যেই যখন এত বড় পরিসরে একটি শিল্প ইভেন্ট আয়োজন করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আরো ভালো কিছু হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই আয়োজন আগামী দিনে আরো বিস্তৃত হবে, আরো পরিচিতি পাবে এবং শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

প্রতিযোগিতার ভেতরে ঘুরে যেটুকু দেখার সুযোগ হয়েছে, তাতে শিশুদের অনেক আন্তরিক, প্রাণবন্ত ও সম্ভাবনাময় কাজ চোখে পড়েছে। প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর একযোগে অংশগ্রহণ, এই বিষয়টিকে আর সাধারণ কোনো স্কুল প্রতিযোগিতার মাপকাঠিতে ফেলা যায় না। এটি নিঃসন্দেহে একটি বৃহৎ শিল্প ইভেন্ট, যা দেশের স্কুল পর্যায়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

এই ধরনের প্রতিযোগিতার একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো, এটি শিশুদের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। যখন পুরস্কার থাকে, স্বীকৃতি থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই শিশুরা আরো ভালো করার চেষ্টা করে।

♦ জুরিবোর্ড সদস্য এবং অধ্যাপক, ড্রয়িং ও পেইন্টিং, ঢাবি