দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে সীমান্তবর্তী শহর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশি পর্যটকদের যাতায়াত। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জারি করা ‘বাংলাদেশ বয়কট’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় হোটেল সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এতে দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগে ইতিবাচক বার্তা গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রেটার শিলিগুড়ির হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএইচডব্লিউএ) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সদস্য হোটেল মালিকদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী প্রচার ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও কমেছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এসব বিবেচনায় ‘বাংলাদেশ বয়কট, বাংলাদেশি বয়কট’ ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র শিলিগুড়ি যা ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরের অংশ। এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুলবাড়ী ও হিলি সীমান্তের বাণিজ্যও অনেকাংশে এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চিকিৎসা, পর্যটন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাংলাদেশিদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল শিলিগুড়িতে।
তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারতবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তীতে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় দিল্লি ও আগরতলার সঙ্গে সমন্বয় করে শিলিগুড়ির বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সেখানে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পর্যটন, হোটেল ব্যবসা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।