• ই-পেপার

পাহাড় থেকে সমুদ্র, শীতে ভ্রমণের জনপ্রিয় স্থানগুলো যেখানে

একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বড় হাওরের হুড়হুড়ে ফুলের রাজ্যে

অনলাইন ডেস্ক
একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বড় হাওরের হুড়হুড়ে ফুলের রাজ্যে
ছবিসূত্র : কুহুডাক

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওর এখন এক রূপকথার রাজ্য। মাইলের পর মাইল জুড়ে ফুটে থাকা গোলাপি রঙের হুড়হুড়ে ফুল এই অঞ্চলকে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে নতুন এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। 

হুড়হুড়ে ফুলের দেশ: বড় হাওরের রূপকথা
হাওর মানেই আমরা জানি জলরাশি আর মাছ ধরার নৌকা। কিন্তু শীতের শেষে করিমগঞ্জের বড় হাওর ধারণ করে এক ভিন্ন রূপ। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে গোলাপি, সাদা ও বেগুনি রঙের ফুলের সমারোহ যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতে আঁকা ক্যানভাস।

ফুলের পরিচয় ও বিশেষত্ব
নাম: স্থানীয়ভাবে এটি হুড়হুড়ে ফুল নামে পরিচিত।
বৈজ্ঞানিক নাম: Cleome Hassleriana (ক্লিওম হাসলারিয়ানা)।
ইংরেজি নাম: Spider Flower বা মাকড়সা ফুল।
বৈশিষ্ট্য: এই ফুলগুলোর লম্বা পুংকেশর দেখতে মাকড়সার পায়ের মতো। গাছগুলো ৪-৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে এটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়।

কেন এত ফুল ফোটে?
বর্ষাকালে এই বীজের সুপ্তাবস্থা থাকে পানির নিচে। শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে হাওরের উর্বর মাটি, আর্দ্রতা ও সূর্যের আলো মিলে ফুল ফোটার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ফুলের রাজত্ব চলে, তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সবথেকে বেশি ফুল দেখা যায়।

কিভাবে যাবেন?
হুড়হুড়ে ফুলের এই রাজ্যে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে কিশোরগঞ্জ জেলায়।

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ
১. ট্রেন: কমলাপুর থেকে এগারোসিন্ধুর প্রভাতী (সকাল ৭:১৫, বুধবার বন্ধ) বা অন্যান্য ট্রেনে আসতে পারেন। ২. বাস: মহাখালী বা সায়দাবাদ থেকে অনন্যা পরিবহনে আসা যায়। 

কিশোরগঞ্জ থেকে বড় হাওর
কিশোরগঞ্জ স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিতে করিমগঞ্জ যেতে হবে (ভাড়া ৮০-১০০ টাকা)। সেখান থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জয়কা বড় হাওর এলাকায় পৌঁছাতে হবে। পথের শেষ অংশে কিছুটা কাঁচা রাস্তা ও হাঁটাপথ রয়েছে।

আশেপাশে আর যা দেখবেন
করিমগঞ্জ ভ্রমণে গেলে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান আপনার তালিকায় রাখতে পারেন:
বালিখলা ঘাট: হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
অল-ওয়েদার সড়ক: ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মাঝ দিয়ে যাওয়া বিখ্যাত সড়ক।
ছাতিরচরের করচবন: পানির ওপর ভেসে থাকা অরণ্যের সৌন্দর্য।
জঙ্গলবাড়ি দুর্গ: ঈসা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান।

হাওরের তাজা মাছের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। রুই, পাবদা বা শিং মাছের ঝোল দিয়ে গরম ভাত এখানকার স্পেশালিটি। করিমগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জ সদরে ভালো মানের হোটেল পাওয়া যাবে। করিমগঞ্জে থাকার সুবিধা সীমিত, তাই রাত কাটানোর জন্য কিশোরগঞ্জ শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে ফেরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কিছু জরুরি টিপস:
সেরা সময়: ফেব্রুয়ারি মাস।
ফটোগ্রাফি: সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সেরা ছবি পাওয়া যায়।
প্রস্তুতি: ভালো মানের হাঁটার জুতা সাথে রাখুন।
সতর্কতা: ফুল ছিঁড়বেন না এবং হাওরের প্রকৃতি পরিচ্ছন্ন রাখবেন।

সূত্র : কুহুডাক

ন্যাট্রন হ্রদ : যার লাল পানিতে নামলে পশু-পাখি পাথর হয়ে যায়

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাট্রন হ্রদ : যার লাল পানিতে নামলে পশু-পাখি পাথর হয়ে যায়
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীতে প্রাণের স্পন্দনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান পানি। আমাদের এই গ্রহের প্রায় ৭০ শতাংশজুড়ে আছে সাগর-নদী-হ্রদসহ পানির অসংখ্য উৎস। আর তাদের আছে নানা বিচিত্র রূপ। এর মধ্যে একটি রহস্যময় জায়গা আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার ন্যাট্রন লেক। লাল পানির এই হ্রদ ‘জীবন্ত মমি’তে পরিণত করতে পারে প্রাণীদের। 

অনেক জলাশয়কে ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র মনে করে মানুষ—যেমন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গঙ্গা, যমুনা ও নর্মদা নদীকে পূজা করেন। তিব্বতের মানসসরোবর হ্রদ এবং গুজরাটের বিন্দু সরোবরকেও তারা পবিত্র মনে করেন। 

একইভাবে, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র জর্ডান নদী। কলম্বিয়ার লেক গুয়াটাভিতা তো একধাপ এগিয়ে। লোকশ্রুতিতে পাওয়া যায় এখানে ‘এল ডোরাডো’ নামের এক সোনার শহর আছে। আর এই সব পবিত্র জলাশয়ের মাঝেই রয়েছে মারাত্মক প্রাণঘাতী তানজানিয়ার ন্যাট্রন লেক।

এর চোখধাঁধানো লাল রঙ এবং অতিক্ষারীয় পানি হ্রদের সংস্পর্শে আসা সবকিছুকে পাথরের মতো করে তোলে। 

পূর্ব আফ্রিকার দুটি ক্ষারীয় হ্রদের একটি উত্তর তানজানিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এই ন্যাট্রন লেক। এর অদ্ভুত রঙ হাজার হাজার ফুট ওপর থেকেও দেখা যায়। 

ভ্রমণ বিষয়ক পোর্টাল ব্র্যাডট গাইডসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ লক্ষ বছর আগে এই জলাশয়ের জন্ম। বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূ-টেকটোনিক কার্যকলাপ শুধু এই হ্রদই নয়, এর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত ‘ওল ডোইনিও লেঙ্গাই’ বা ‘ঈশ্বরের পাহাড়’ সৃষ্টি করেছে।

এই প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে হ্রদটিতে ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেট ও সোডিয়াম কার্বোনেটের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। যা প্রাণীদের জন্য অভিশাপের মতো কাজ করছে। 

বিখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক পোর্টাল লাইভ সাইন্স জানায়, আশপাশের পাহাড় থেকে এখনো লবণ ও খনিজ পদার্থ হ্রদে প্রবেশ করে। ‘হট স্প্রিং’ বা আগ্নেয়গিরির কাছে থাকা ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহের মাধ্যমে এই উপাদানগুলো হ্রদে মিশে যায়। 

মজার বিষয় হলো, লেক ন্যাট্রন একা নয়, ‘লেক বাহি নামে’-এর একটি ভাইও আছে । এই দুটি ক্ষারীয় হ্রদই কোনো নদী বা সাগরে গিয়ে মেশে না। অর্থাৎ এগুলো ‘টার্মিনাল লেক’।

ছোট নদী ও ‘হট স্প্রিং’-এর মাধ্যমে পানির যোগান পাওয়া এই অগভীর হ্রদগুলোর তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ৪১ সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। 

যেভাবে ন্যাট্রন লেক প্রাণীদের পাথরে পরিণত করে 

ফটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ডট ‘অ্যাক্রস দ্যা রেভেজড ল্যান্ড’ নামে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বইয়ে ন্যাট্রন লেকের তীরে পাওয়া মৃত প্রাণীদের ছবি তুলে ধরেন। পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া এই প্রাণীগুলো যেন হঠাৎই কোনো দৈবশক্তিতে জমে গেছে।

ব্র্যান্ডট মৃত প্রাণীগুলোর যে ছবি তুলেছিলেন, তা দেখে মনে হয় তাদের জীবন্ত সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আসলে ন্যাট্রন লেকের লবণ ও খনিজসমৃদ্ধ পানির সংস্পর্শে এলে প্রাণীদের দেহ শুকিয়ে ‘প্রাকৃতিক মমিতে’ পরিণত হয়। এতে তাদের মাংস ও পালক শক্ত হয়ে পাথরের মতো দেখায়।

মৃত প্রাণীদের বিষয়ে ব্র্যান্ডট লিখেছেন, ‘আমি অপ্রত্যাশিতভাবে নানা ধরনের পাখি ও বাদুড়কে ন্যাট্রন লেকের তীরে ভেসে থাকতে দেখেছি। ঠিক কিভাবে বা কেন তারা মারা যায়, তা নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না।’

মৃত্যুর সঠিক কারণ না জানলেও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বলে, ন্যাট্রন লেকের পানির পিএইচ মাত্রা ১০.৫— যা এই পরিবেশে অভিযোজিত নয় এমন প্রাণীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি চোখ ও চামড়ায় জ্বালা সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণীদের মেরে ফেলে।

কেন মৃত প্রাণীরা পচে না?

হ্রদের পানিতে থাকা সোডিয়াম কার্বোনেটের আধিক্যের কারণে মৃত প্রাণীগুলো পচে না বরং পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক সংরক্ষণকারী হিসেবে কাজ করে। প্রাচীন মিশরে মৃতদেহ সংরক্ষণের কাজে সোডিয়াম কার্বোনেট ব্যবহার করা হতো। 

তবে প্রতিবেদনে বলা হলেও, ন্যাট্রন লেকের পানিতে পড়ামাত্র প্রাণীরা মারা যায় না। বরং এই পানি তাদের শরীরের চর্বি ও আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। ফলে তারা ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে মারা যায়। এরপর তাদের দেহ শক্ত হয়ে হ্রদের তীরে পড়ে থাকে।

প্রাণঘাতী কিন্তু প্রাণহীন নয়

লবণ ও খনিজ পদার্থের কারণেই মূলত হ্রদটি লাল রঙ ধারণ করে, কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়। লবণপ্রিয় অণুজীব— হ্যালোআর্কিয়া এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়াও এই লাল রঙের জন্যও দায়ী। এই শৈবালই আবার লেসার ফ্লেমিংগো পাখিদের প্রধান খাদ্য।

এই সুন্দর গোলাপি রঙের পাখিরা অফুরন্ত খাদ্যভাণ্ডারের কারণে ন্যাট্রন লেককে তাদের প্রজননক্ষেত্র বানিয়েছে। এটি প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর কিন্তু চতুর কৌশল। ফ্লেমিংগোর পায়ের শক্ত আবরণ ও পালক এই লেকের পানিতে তাদের শরীর পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। 

অপরদিকে, হ্রদটি অন্য প্রাণীদের জন্য প্রাণঘাতী হওয়ায় ফ্লেমিংগোদের শিকার করার জন্য এখানে কেউ নেই। প্রজনন মৌসুমে লক্ষ লক্ষ ফ্লেমিংগো এই লাল হ্রদকে গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙে রাঙিয়ে তোলে। পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্লেমিংগোর জন্ম হয় এই লেকের তীরে। 

নিক ব্র্যান্ডটের ছবিতে ঈগল ও কবুতরও ছিল। তবে তারা এই লাল হ্রদে বসবাস বা খাদ্য সংগ্রহ করে না, বরং আশপাশের মিঠা বা লবণাক্ত জলাভূমিতে বসবাস করে। এই অঞ্চলে উইলডিবিস্ট, উটপাখি, পেলিকানসহ আরো অন্যান প্রাণীও দেখতে পাওয়া যায়।  

দেশেই তাজমহলের আদলে স্থাপনা, বাংলার তাজমহল

অনলাইন ডেস্ক
দেশেই তাজমহলের আদলে স্থাপনা, বাংলার তাজমহল

তাজমহল—অমর প্রেমের প্রতীক, পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম বিস্ময়। ভারতের আগ্রায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মাণ করেছিলেন। শতাব্দী পেরিয়েও তাজমহল আজও প্রেম, সৌন্দর্য ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হয়ে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে চলেছে।

কিন্তু অনেকেই জানেন না, বাংলাদেশের মাটিতেও রয়েছে একটি তাজমহল—যা পরিচিত বাংলার তাজমহল বা তাজমহল বাংলাদেশ নামে। এটি অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে, ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে। একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য।

অনেকেরই আগ্রার তাজমহল দেখার স্বপ্ন থাকলেও সময়, ভিসা কিংবা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা পূরণ হয়ে ওঠে না। বাংলার তাজমহল সেই স্বপ্নেরই এক সুন্দর বিকল্প। আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটি দেখলে প্রথম দেখাতেই মনে হবে যেন আপনি ভারতের তাজমহলেই দাঁড়িয়ে আছেন।

প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এই কমপ্লেক্সে শুধু তাজমহলই নয়, রয়েছে আরো নানা আকর্ষণ। এখানে দেখা যাবে মিসরের পিরামিডের প্রতিরূপ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, ফিল্ম স্টুডিও, রেস্টুরেন্টসহ নানা বিনোদনমূলক স্থাপনা। সবুজ ঘাসে মোড়ানো চত্বর, রঙিন ফুলের বাগান, পানির ফোয়ারা আর পাখির কোলাহল মিলিয়ে জায়গাটি যেন এক শান্ত, স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি নিঃসন্দেহে আদর্শ স্থান।

যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য বাংলার তাজমহল এক কথায় স্বপ্নের জায়গা। সূর্যোদয়ের সময় সাদা গম্বুজে পড়া আলো কিংবা সূর্যাস্তের সোনালি আভায় চারপাশের দৃশ্য হয়ে ওঠে অনন্য। পানির ফোয়ারায় তাজমহলের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হবে আপনি যেন কোনো কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গেছেন।

ইতিহাস ও নির্মাণকথা
বাংলার তাজমহলের নির্মাতা নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চলচ্চিত্রকার আহসান উল্লাহ মনি। তিনি ২০০৩ সালে এই স্থাপনার নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং প্রায় পাঁচ বছরের পরিশ্রমের পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল—বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ যেন নিজ দেশেই তাজমহলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই তিনি এই ব্যতিক্রমী স্থাপত্য নির্মাণ করেন।

স্থাপত্য ও সৌন্দর্য
বাংলার তাজমহল নির্মাণে আগ্রার মূল তাজমহলের সঙ্গে সর্বোচ্চ মিল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধান ভবনটি স্বচ্ছ পাথর ও টাইলস দিয়ে মোড়ানো। চার কোণে রয়েছে চারটি সুউচ্চ মিনার, যা দূর থেকে দেখলে একেবারে আসল তাজমহলের মতো মনে হয়। সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা ও প্রতিফলন তৈরি করা জলাধার। চারদিকে সাজানো ফুলের বাগান ও বসার জায়গা দর্শনার্থীদের আরাম দেয়। মূল ভবনের ভেতরে আহসান উল্লাহ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়ার কবর সংরক্ষিত রয়েছে—যা এই তাজমহলকে আরো গভীর আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীকে রূপ দিয়েছে।

কিভাবে যাবেন
মহাখালী / যাত্রাবাড়ী থেকে:
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লা, দাউদকান্দি বা সোনারগাঁওগামী বাসে উঠে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে নামুন (ভাড়া ১৫–২০ টাকা)। সেখান থেকে সিএনজিতে ২৫–৩০ টাকায় পৌঁছে যাবেন।

ভুলতা রোড দিয়ে:
৩০০ ফিট সড়ক হয়ে ভুলতা এসে ৮০–১০০ টাকায় অটোরিকশা রিজার্ভ করে সরাসরি যেতে পারবেন।

সিলেট রোড দিয়ে:
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ধরে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নেমে সিএনজিতে তাজমহলে যাওয়া যায়।

সোনারগাঁও উপজেলা থেকে:
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেইট থেকে সিএনজি বা রিকশায় ভাড়া পড়বে ৫০–৭০ টাকা।

ব্যক্তিগত গাড়ি:
গুগল ম্যাপে বাংলার তাজমহল সার্চ করলে সহজে পৌঁছানো যাবে।

খোলার সময় ও টিকেট
খোলা থাকে: প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা
প্রবেশ মূল্য: জনপ্রতি ২০০ টাকা (তাজমহল ও পিরামিড—দুটোই দেখা যাবে)

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো। বর্ষাকালে যাওয়া গেলেও বৃষ্টির কারণে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। গ্রীষ্মকালে সকালে বা বিকেলে যাওয়াই উত্তম।

থাকা-খাওয়া
একদিনেই ঘুরে আসা সম্ভব। তবে চাইলে সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন রিসোর্ট বা নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেলে রাতযাপন করতে পারেন।

বাংলার তাজমহল শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি এক স্বপ্নদ্রষ্টার ভালোবাসা ও মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছার প্রতিফলন। ঢাকার কাছাকাছি একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি নিঃসন্দেহে চমৎকার একটি স্থান। স্থাপত্য, প্রকৃতি আর শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে বাংলার তাজমহল আপনাকে দেবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

সূত্র: কুহুডাক

নিরিবিলি প্রকৃতির ঠিকানা আকিলপুর সমুদ্রসৈকত

অনলাইন ডেস্ক
নিরিবিলি প্রকৃতির ঠিকানা আকিলপুর সমুদ্রসৈকত
ছবিসূত্র : কুহুডাক

চট্টগ্রামের কাছে প্রকৃতির এক শান্ত ও নিরিবিলি সৌন্দর্যের নাম আকিলপুর সমুদ্রসৈকত। সবুজ গাছপালা, নীল আকাশ আর বঙ্গোপসাগরের ঢেউ—এই তিনের অপূর্ব মিলনে গড়ে উঠেছে এই সৈকত। শহরের কোলাহল ও ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছু সময় শান্তভাবে কাটাতে চাইলে আকিলপুর হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড উপজেলার নিমতলা গ্রামে অবস্থিত এই সৈকতটি স্থানীয়ভাবে কুমিরা বা বাঁশবাড়িয়া সৈকত নামেও পরিচিত। কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো ভিড় না থাকায় দিন দিন এটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভয় থেকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর
একসময় আকিলপুর এলাকা ছিল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। বছরে একাধিকবার প্লাবিত হতো গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হতো মানুষের জীবন ও সম্পদ। পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ২০১৬-১৭ সালে এখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পটি শেষ হয়।

কংক্রিট ব্লকে তৈরি এই বাঁধ শুধু মানুষকে সুরক্ষা দেয়নি, বরং এলাকার চেহারাও বদলে দিয়েছে। বাঁধের দুই পাশে গাছ লাগানো হয়েছে, যা জায়গাটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। এখন এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে।

কী দেখবেন আকিলপুরে
আকিলপুরে দীর্ঘ বালুকাবেলা না থাকলেও পাথরের বাঁধে আছড়ে পড়া ঢেউ দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের শব্দ, নোনতা বাতাস আর সামনে বিস্তৃত সমুদ্র; সব মিলিয়ে এক শান্ত অনুভূতি তৈরি করে।

এখানকার সূর্যাস্ত বিশেষভাবে নজরকাড়া। বিকেলে সূর্য যখন ধীরে ধীরে সমুদ্রে ডুবে যায়, আকাশ লাল-কমলা রঙে ভরে ওঠে। ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের কাছে এই সময়টি সবচেয়ে প্রিয়।

কী করবেন এখানে
আকিলপুরে এসে পর্যটকেরা বাঁধের ওপর হাঁটতে পারেন, ঢেউ উপভোগ করতে পারেন কিংবা চুপচাপ বসে সময় কাটাতে পারেন। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, শিশুদের খেলাধুলা কিংবা ক্যামেরায় প্রকৃতির ছবি তোলার সুযোগও রয়েছে। এখানে সীমিত বসার ব্যবস্থাও রয়েছে বিনা মূল্যে। তবে লাইফগার্ড বা পর্যটন পুলিশের ব্যবস্থা না থাকায় সমুদ্রে নামার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

যাতায়াত ও খরচ
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে চট্টগ্রাম হয়ে ছোট কুমিরা বাজারে নামতে হয়। সেখান থেকে অটোরিকশায় কয়েক মিনিটেই সৈকতে পৌঁছানো যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকেও লোকাল বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সহজেই যাওয়া সম্ভব। এক দিনের ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যেই ঘুরে আসা যায়। চাইলে সীতাকুণ্ড বা চট্টগ্রাম শহরে রাতযাপনও করা যায়।

আকিলপুর সমুদ্রসৈকত বিলাসী পর্যটন কেন্দ্র না হলেও প্রকৃতি আর প্রশান্তির দারুণ মিলনস্থল। কম ভিড়, খোলা পরিবেশ আর মনোরম সূর্যাস্ত; সব মিলিয়ে এটি এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। যারা ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য আকিলপুর হতে পারে চমৎকার একটি ভ্রমণ গন্তব্য। তবে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা মেনে চলা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার।

সূত্র : কুহুডাক