• ই-পেপার

রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১০৫৩

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

এবং শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ফলে যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবাই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে। বিশ্ব তার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা পেশ করা হবে এবং নবীদের ও সাক্ষীদের উপস্থিত করা হবে। সবার মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে।... (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৬৮-৭০)

আয়াতগুলোতে কিয়ামত দিবসের কর্মকাণ্ড বর্ণিত হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১.    ইসরাফিল (আ.) শিঙায় প্রথম ফুৎকার দেওয়ার পর সব জীব মারা যাবে। সবার শেষে মারা যাবে মৃত্যুর ফেরেশতা।

২.    কিয়ামতের ভয়াবহতার সময় মুসা (আ.) জ্ঞান হারাবেন না। কেননা দুনিয়াতে তিনি আল্লাহর নুর দেখে জ্ঞান হারিয়েছিলেন।

৩.    দ্বিতীয় ফুৎকারের পর সব প্রাণীর ছিন্নভিন্ন দেহ মিলিত হবে, তারা উঠে দাঁড়াবে এবং বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে।

৪.    আল্লাহর জ্যোতিতে যখন কিয়ামত দিবস উদ্ভাসিত হবে তখন মানুষ চন্দ্র-সূর্যের মতো নির্দিষ্ট আলোর উৎস ছাড়াই সবকিছু আলোকিত দেখবে।

৫.    পৃথিবীর সব ব্যবস্থা আল্লাহ উপায়-উপকরণনির্ভর করেছেন, কিন্তু পরকালের সব ব্যবস্থা হবে আল্লাহর আদেশনির্ভর। তখন উপায়-উপকরণের প্রয়োজন হবে না। (তাফসিরে শারভি, পৃষ্ঠা-১৩২৩৮)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

রমজান একটি বিদ্যালয়ের মতো। মুমিন রমজান মাসে সেসব আমলের অনুশীলন করে, যা তাকে সারা বছর পথ দেখায়।

আবদুল্লাহ বিন রাবাহ (রহ.)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

দোয়ায়ে কুনুত না পড়ে রুকুতে গিয়ে আবার দাঁড়ানো

প্রশ্ন : দোয়ায়ে কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে আবার দোয়ায়ে কুনুত পড়ার জন্য দাঁড়ানোর বিধান কী?

রিয়াজ, ময়মনসিংহ

উত্তর : দোয়ায়ে কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে আবার দোয়ায়ে কুনুত পড়ার জন্য দাঁড়াবে না। যদি দাঁড়িয়ে যায় এবং কুনুত পড়ে, তাহলে দ্বিতীয়বার রুকু না করে সিজদায় চলে যাবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহু করে নেবে।

(রদ্দুল মুহতার : ২/৮১, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২৩, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৪/৪৬৬)

রমজান সংস্কৃতি : মিসর

সড়কে দীর্ঘ ইফতার আয়োজন

আবরার আবদুল্লাহ
সড়কে দীর্ঘ ইফতার আয়োজন

রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করানোর বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)

একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করতে পারে। সামর্থ্য কম হলেও এই আমল থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। এখানে খুব সুন্দর করে প্রমাণিত হয়েছে যে ইফতার করানো শুধু দান নয়, এটি আল্লাহর কাছে প্রিয় একটি বিশেষ ইবাদত। তাই মুসলমান মাত্রই চেষ্টা করে রোজাদার ব্যক্তির জন্য সামান্য হলেও ইফতারের আয়োজন করতে।

সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজে সম্মিলিত ও গণ-ইফতারের ধারণা এখান থেকেই এসেছে। এই ক্ষেত্রে এগিয়ে মিসরের মুসলমানরা। সড়কে গণ-ইফতারের আয়োজনে তারা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। মিসরীয়রা খুবই আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে গণ-ইফতারের আয়োজন করে থাকে।

মিসরীয়দের ভাষায় গণ-ইফতারকে মায়িদাতুর রহমান বা আল্লাহর দস্তরখান বলে। ইংরেজিতে বলা হয় ইফতার ব্যাংকুয়েট। মিসরের প্রধান প্রধান শহরে রমজানের প্রতিদিন উন্মুক্ত ইফতারের আয়োজন দেখা যায়। স্থানীয় মুসলমান ও ব্যবসায়ীরা পথচারীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে। অনেকে নিজের জন্য নিয়ে আসা ইফতার অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খায়। পথচারীদের তারা নিজেদের ইফতারের দস্তরখানে আমন্ত্রণ জানায়।

প্রতিবছর মিসরের রমজানের নির্ধারিত দিনে কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার মতো বড় বড় শহরে বিরাট ইফতারের আয়োজন করা হয়। এতে অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়ে থাকে। যেমনগত বছর ১৫ রমজান কায়রোতে ইফতার ব্যাংকুয়েটের আয়োজন করা হয়। যাতে ৭০০ টেবিল বসানো হয় এবং ৩০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। আয়োজন সম্পন্ন করতে কাজ করে চার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। বিশাল এই আয়োজনে প্রত্যেক এলাকার মানুষ প্রস্তুত খাবার সরবরাহে সহযোগিতা করে। মিসরের এই গণ-ইফতার সামাজিক সম্প্রীতির বড় নিদর্শন হয়ে উঠেছে। এতে সব শ্রেণির মানুষ, এমনকি অমুসলিম পথচারীরাও অংশ নিয়ে থাকে।

সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ডটকম

ও ইজিপ্ট টুডে ডটকম